সন্তান নেওয়ার আশায় বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছেন অনেক দম্পতি। কিন্তু এই চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত নানা অতিরিক্ত পদ্ধতি বা ‘অ্যাড-অন’ সত্যিই কি সফলতার সম্ভাবনা বাড়ায়? নতুন এক আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা বলছে, বহুল ব্যবহৃত বেশিরভাগ পদ্ধতির কার্যকারিতার পক্ষে শক্ত প্রমাণ নেই।
সাধারণভাবে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার একটি চক্র সফল হওয়ার হার এখনও সীমিত। ফলে রোগীদের আকৃষ্ট করতে অনেক ক্লিনিক বিভিন্ন পরীক্ষা ও অতিরিক্ত চিকিৎসা পদ্ধতির প্রস্তাব দেয়। এগুলোর লক্ষ্য থাকে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ানো। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব পদ্ধতির বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই উপকারিতার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গবেষণায় যা পাওয়া গেছে
গবেষকেরা মোট ১৫৭টি এলোমেলোভাবে পরিচালিত ক্লিনিক্যাল গবেষণা বিশ্লেষণ করেন। এসব গবেষণার তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে বিশেষ মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রায় অর্ধেক গবেষণাই সন্দেহমুক্তভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

শেষ পর্যন্ত ৮৫টি গ্রহণযোগ্য গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার সঙ্গে ব্যবহৃত ১০টি জনপ্রিয় অতিরিক্ত পদ্ধতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়।
কোন পদ্ধতিগুলো কিছুটা আশাব্যঞ্জক?
পর্যালোচনায় তিনটি পদ্ধতির ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক ফলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও প্রমাণগুলো এখনও খুব শক্তিশালী নয়।
এর মধ্যে রয়েছে জরায়ুর আস্তরণে নিয়ন্ত্রিত ক্ষুদ্র উদ্দীপনা সৃষ্টি করা, বিশেষ এক ধরনের জৈব দ্রবণে ভ্রূণকে ডুবিয়ে প্রতিস্থাপন করা এবং উন্নত মানের শুক্রাণু বাছাইয়ের একটি বিশেষ কৌশল।
গবেষকেরা বলছেন, এসব পদ্ধতিতে কিছু উপকার মিলতে পারে, তবে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলার মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনও নেই।
যেগুলোতে উপকারের প্রমাণ মেলেনি
আরও তিনটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতির ক্ষেত্রে পাওয়া তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে এগুলো সফল গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে না।

এর মধ্যে রয়েছে প্রদাহনাশক ওষুধের একটি শ্রেণি, ভ্রূণের ক্রোমোজোমগত অস্বাভাবিকতা শনাক্তের জন্য জিনগত পরীক্ষা এবং জরায়ুর আস্তরণের জিনগত কার্যকলাপ মূল্যায়নের জন্য নমুনা সংগ্রহ।
গবেষকদের মতে, বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এসব পদ্ধতির বাস্তব উপকারিতা প্রশ্নের মুখে।
আরও গবেষণার প্রয়োজন
বাকি চারটি পদ্ধতির ক্ষেত্রে তথ্য এতটাই সীমিত যে সেগুলো কার্যকর কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে আকুপাংচার, বিশেষ চর্বিযুক্ত তরল শিরায় প্রয়োগ এবং প্লেটলেটসমৃদ্ধ প্লাজমা জরায়ু বা ডিম্বাশয়ে প্রয়োগের মতো পদ্ধতি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ গবেষণাই ছিল ছোট পরিসরের। গড়ে প্রতিটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬০ জন। ফলে সূক্ষ্ম বা সীমিত উপকারিতা শনাক্ত করা কঠিন।
তাদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে কিছু পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। তবে কারা উপকৃত হতে পারেন, তা নির্ধারণের জন্য আরও বড় পরিসরের এবং উচ্চমানের গবেষণা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গবেষণার মান নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা প্রক্রিয়াতেও আরও কঠোর নজরদারি দরকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















