০৮:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
নড়াইলে ঐচ্ছিক অনুদান বিতর্ক: তালিকায় দুইবার এমপি বাচ্চুর মেয়ের নাম, ব্যাখ্যায় পিএসকে দায়ী করলেন সংসদ সদস্য সরকারি তথ্য এবার বিভিন্ন ভাষায়, এআই অনুবাদ চালু করল সিঙ্গাপুর দেশীয় টায়ার শিল্প সুরক্ষায় ২০% শুল্ক বহাল রাখার দাবি, আমদানিকারকদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান নিবন্ধন কমছে, দামও পড়ছে: ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা নামাজের সময় মাগুরায় হামলা-লুটপাট, ভাঙচুর ২০টি বাড়িতে আমেরিকার ২৫০ বছর: নতুন রূপে স্বাধীনতার প্রতীক, টাইমের প্রচ্ছদে ইতিহাসের গল্প নতুন বৈশ্বিক বিনিয়োগ করিডোর গড়ে আফ্রিকার প্রবেশদ্বার হতে চায় মরিশাস শান্তি নাকি নতুন সংঘাতের বিরতি? যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ঘিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা নতুন প্রযুক্তি বনাম বাস্তব বন্ধুত্ব: ‘টয় স্টোরি ৫’ নিয়ে গ্রেটা লির ব্যতিক্রমী ভাবনা নিখোঁজ বাবা-মায়ের খোঁজে সমুদ্রপাড়ে এক তরুণীর যাত্রা, হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে ‘রোমেরিয়া’

নতুন গবেষণায় জানা গেল, খেলা দেখা কেন মানুষকে সুখী করে?

বিশ্বকাপ, অলিম্পিক কিংবা স্থানীয় কোনো ফুটবল ম্যাচ—খেলা দেখতে লাখো মানুষ মাঠে ছুটে যান বা টেলিভিশনের সামনে বসেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, খেলা দেখা মানুষকে এত আনন্দ দেয় কেন? মনোবিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এর উত্তর শুধু খেলার উত্তেজনায় নয়, বরং মানুষের সামাজিক ও মানসিক চাহিদার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

গবেষকদের মতে, খেলা দেখা মানুষের মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সরাসরি মাঠে গিয়ে খেলা দেখার অভিজ্ঞতা মানুষের জীবনের প্রতি সন্তুষ্টি বাড়ায়, একাকিত্ব কমায় এবং জীবনের অর্থপূর্ণতা সম্পর্কে ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করে।

জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

যুক্তরাজ্যে সাত হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, যারা গত এক বছরে অন্তত একটি সরাসরি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি তুলনামূলক বেশি। তারা নিজেদের কম একা অনুভব করেছেন এবং জীবনের মূল্য সম্পর্কে আরও ইতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেছেন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মাঠে গিয়ে খেলা দেখার প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে মানুষের কর্মসংস্থানের অবস্থার চেয়েও বেশি ইতিবাচক হতে পারে। অর্থাৎ, সামাজিকভাবে যুক্ত থাকার এই অভিজ্ঞতা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হার-জিতের মধ্যেও লাভ

খেলার সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে থাকে। প্রিয় দল জিতলে উচ্ছ্বাস, হারলে হতাশা—দুই অনুভূতিই সমানভাবে কাজ করে। তবু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে ক্রীড়াপ্রেমীদের মানসিক লাভই বেশি।

প্রিয় দলের সমর্থকরা সাধারণত বেশি আত্মবিশ্বাসী হন। তাদের মধ্যে একাকিত্ব ও বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি কম দেখা যায়। একই সঙ্গে তারা সামাজিকভাবে বেশি সংযুক্ত বোধ করেন। কারণ একটি দলের সমর্থন মানুষকে বৃহত্তর একটি সম্প্রদায়ের অংশ হওয়ার অনুভূতি দেয়।

Football: Rain sends Germany and Curacao fans on pre-match hunt for  umbrellas and beer | The Star

সম্পর্ক ও পরিচয়ের বন্ধন

খেলার সমর্থক হওয়া শুধু দলকে সমর্থন করার বিষয় নয়, এটি ব্যক্তিগত পরিচয়েরও অংশ হয়ে ওঠে। কেউ ফুটবলের পাশাপাশি তীরন্দাজি অনুসরণ করেন, কেউ আবার নির্দিষ্ট কোনো ক্লাবের প্রতি আজীবন অনুরাগী থাকেন। এসব আগ্রহ মানুষের নিজস্ব পরিচয় গঠনে ভূমিকা রাখে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের দুটি মৌলিক প্রয়োজন হলো কোনো গোষ্ঠীর অংশ হওয়া এবং একই সঙ্গে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখা। ক্রীড়া সমর্থন এই দুটি চাহিদাই পূরণ করতে পারে।

খেলার নিয়মিত চক্রও মানুষের জীবনে একটি কাঠামো তৈরি করে। বিশ্বকাপ, লিগ মৌসুম কিংবা বড় কোনো ফাইনালকে ঘিরে পরিকল্পনা, স্মৃতি ও প্রত্যাশা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আনন্দের উৎস হয়ে ওঠে।

একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি

বিশ্বজুড়ে বড় ক্রীড়া আসরগুলোতে মানুষ একত্রিত হয় একটি সাধারণ আবেগকে কেন্দ্র করে। মাঠে, রেস্তোরাঁয়, ক্লাবে বা ঘরে বসে একই দলের জন্য উল্লাস করা মানুষের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক বন্ধন তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলা দেখার সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই। এটি মানুষকে একত্রিত করে, সামাজিক সম্পর্ককে দৃঢ় করে এবং জীবনের চাপের মধ্যে আনন্দ ও আশার একটি ক্ষেত্র তৈরি করে। তাই শুধু বিনোদন নয়, খেলা দেখা মানুষের মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক সংযোগের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

খেলা দেখা কেন মানুষকে সুখী করে—গবেষণায় উঠে এসেছে মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক বন্ধন ও জীবনের সন্তুষ্টির সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক।

জনপ্রিয় সংবাদ

নড়াইলে ঐচ্ছিক অনুদান বিতর্ক: তালিকায় দুইবার এমপি বাচ্চুর মেয়ের নাম, ব্যাখ্যায় পিএসকে দায়ী করলেন সংসদ সদস্য

নতুন গবেষণায় জানা গেল, খেলা দেখা কেন মানুষকে সুখী করে?

০৬:৫২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ, অলিম্পিক কিংবা স্থানীয় কোনো ফুটবল ম্যাচ—খেলা দেখতে লাখো মানুষ মাঠে ছুটে যান বা টেলিভিশনের সামনে বসেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, খেলা দেখা মানুষকে এত আনন্দ দেয় কেন? মনোবিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এর উত্তর শুধু খেলার উত্তেজনায় নয়, বরং মানুষের সামাজিক ও মানসিক চাহিদার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

গবেষকদের মতে, খেলা দেখা মানুষের মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সরাসরি মাঠে গিয়ে খেলা দেখার অভিজ্ঞতা মানুষের জীবনের প্রতি সন্তুষ্টি বাড়ায়, একাকিত্ব কমায় এবং জীবনের অর্থপূর্ণতা সম্পর্কে ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করে।

জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

যুক্তরাজ্যে সাত হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, যারা গত এক বছরে অন্তত একটি সরাসরি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি তুলনামূলক বেশি। তারা নিজেদের কম একা অনুভব করেছেন এবং জীবনের মূল্য সম্পর্কে আরও ইতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেছেন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মাঠে গিয়ে খেলা দেখার প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে মানুষের কর্মসংস্থানের অবস্থার চেয়েও বেশি ইতিবাচক হতে পারে। অর্থাৎ, সামাজিকভাবে যুক্ত থাকার এই অভিজ্ঞতা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হার-জিতের মধ্যেও লাভ

খেলার সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে থাকে। প্রিয় দল জিতলে উচ্ছ্বাস, হারলে হতাশা—দুই অনুভূতিই সমানভাবে কাজ করে। তবু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে ক্রীড়াপ্রেমীদের মানসিক লাভই বেশি।

প্রিয় দলের সমর্থকরা সাধারণত বেশি আত্মবিশ্বাসী হন। তাদের মধ্যে একাকিত্ব ও বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি কম দেখা যায়। একই সঙ্গে তারা সামাজিকভাবে বেশি সংযুক্ত বোধ করেন। কারণ একটি দলের সমর্থন মানুষকে বৃহত্তর একটি সম্প্রদায়ের অংশ হওয়ার অনুভূতি দেয়।

Football: Rain sends Germany and Curacao fans on pre-match hunt for  umbrellas and beer | The Star

সম্পর্ক ও পরিচয়ের বন্ধন

খেলার সমর্থক হওয়া শুধু দলকে সমর্থন করার বিষয় নয়, এটি ব্যক্তিগত পরিচয়েরও অংশ হয়ে ওঠে। কেউ ফুটবলের পাশাপাশি তীরন্দাজি অনুসরণ করেন, কেউ আবার নির্দিষ্ট কোনো ক্লাবের প্রতি আজীবন অনুরাগী থাকেন। এসব আগ্রহ মানুষের নিজস্ব পরিচয় গঠনে ভূমিকা রাখে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের দুটি মৌলিক প্রয়োজন হলো কোনো গোষ্ঠীর অংশ হওয়া এবং একই সঙ্গে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখা। ক্রীড়া সমর্থন এই দুটি চাহিদাই পূরণ করতে পারে।

খেলার নিয়মিত চক্রও মানুষের জীবনে একটি কাঠামো তৈরি করে। বিশ্বকাপ, লিগ মৌসুম কিংবা বড় কোনো ফাইনালকে ঘিরে পরিকল্পনা, স্মৃতি ও প্রত্যাশা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আনন্দের উৎস হয়ে ওঠে।

একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি

বিশ্বজুড়ে বড় ক্রীড়া আসরগুলোতে মানুষ একত্রিত হয় একটি সাধারণ আবেগকে কেন্দ্র করে। মাঠে, রেস্তোরাঁয়, ক্লাবে বা ঘরে বসে একই দলের জন্য উল্লাস করা মানুষের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক বন্ধন তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলা দেখার সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই। এটি মানুষকে একত্রিত করে, সামাজিক সম্পর্ককে দৃঢ় করে এবং জীবনের চাপের মধ্যে আনন্দ ও আশার একটি ক্ষেত্র তৈরি করে। তাই শুধু বিনোদন নয়, খেলা দেখা মানুষের মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক সংযোগের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

খেলা দেখা কেন মানুষকে সুখী করে—গবেষণায় উঠে এসেছে মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক বন্ধন ও জীবনের সন্তুষ্টির সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক।