এক সময়ের বিশ্বজোড়া আলোড়ন তোলা বাস্কেটবল তারকা জেরেমি লিন তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন—অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা না করে নিজের উন্নতির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে তুলনার ফাঁদে পড়ে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত একটি তরুণ বাস্কেটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসে তিনি নিজের ক্যারিয়ার, সাফল্য, সংগ্রাম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।
নিউইয়র্কের শিরোপা জয়ে আবেগঘন মুহূর্ত
জেরেমি লিন জানান, তাঁর সাবেক দল নিউইয়র্কের দীর্ঘ ৫৩ বছরের অপেক্ষা শেষে শিরোপা জয় দেখা ছিল অত্যন্ত আনন্দের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, দলের ধারাবাহিকতা এবং মানসিক দৃঢ়তাই তাদের সাফল্যের মূল শক্তি ছিল। বিশেষ করে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় পুরো অভিযানে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন।
‘লিনস্যানিটি’ ছিল অলৌকিক অভিজ্ঞতা

২০১২ সালে বাস্কেটবল বিশ্বে ‘লিনস্যানিটি’ নামে পরিচিত ঘটনায় রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান জেরেমি লিন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রম এবং ধৈর্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে অনেক কিছুই তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটেছিল।
তাঁর ভাষায়, জীবনের নানা ঘটনা সঠিক সময়ে একসঙ্গে মিলেছিল বলেই সেই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। এখনও তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে বিশেষ এবং ব্যতিক্রমী বলে মনে করেন।
পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার পথ কেন এত কঠিন
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পরিবারের আর্থিক কষ্টের কথাও তুলে ধরেন লিন। তিনি বলেন, উচ্চ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে এবং নিজেকে উন্নত করতে নিয়মিত ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
তাঁর মতে, কেবল নিজের এলাকার প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকলে উন্নতির সুযোগ কমে যায়। বড় মঞ্চে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে উন্নত পরিবেশের সংস্পর্শে আসা জরুরি।
এশীয় খেলোয়াড়দের সামনে এখনও চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ বাস্কেটবল লিগে এশীয় খেলোয়াড়ের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এ প্রসঙ্গে লিন বলেন, এশিয়ার খেলোয়াড়দের বিকাশের জন্য আরও উন্নত ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

তিনি মনে করেন, অনেক সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এশীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয়। অনেককে শান্ত বা কম কথা বলা স্বভাবের কারণে আত্মবিশ্বাসহীন হিসেবে দেখা হয়, যদিও বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।
খেলার বাইরে সামাজিক দায়বদ্ধতা
ক্যারিয়ারজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য, বৈষম্যবিরোধী অবস্থান এবং মানবিক বিভিন্ন উদ্যোগে সক্রিয় ছিলেন জেরেমি লিন। তিনি বলেন, যেসব বিষয় ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে স্পর্শ করেছে কিংবা কাছের মানুষদের জীবনে প্রভাব ফেলেছে, সেগুলো নিয়েই তিনি বেশি কথা বলেন।
অবসরের পর নতুন চ্যালেঞ্জ
পেশাদার বাস্কেটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি নতুন একটি খেলায় আগ্রহী হয়েছেন। পাশাপাশি ধারাভাষ্য, সম্প্রচার কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক ও বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিয়েও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
দুই বছর বয়সী সন্তানের বাবা জেরেমি লিন বলেন, তিনি কখনও ছেলের ওপর নিজের স্বপ্ন চাপিয়ে দেবেন না। সন্তান যে বিষয় নিয়ে আগ্রহী হবে, সেখানেই তাকে সমর্থন করবেন।
তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো, ফলাফলের চেয়ে প্রক্রিয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিদিন নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা থেকে দূরে থাকতে হবে।
তিনি বলেন, অনেক সময় অন্যের দিকে তাকাতে গিয়ে একজন খেলোয়াড় নিজের বিশেষ গুণ এবং শক্তির জায়গাগুলো ভুলে যায়। তাই খেলাকে উপভোগ করা এবং নিজের উন্নতির পথেই মনোযোগ দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সংগ্রাম থেকে সাফল্যের শিখরে ওঠা জেরেমি লিনের অভিজ্ঞতা আজও বিশ্বের তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















