চীন ও রাশিয়ার যৌথ কৌশলগত বোমারু বিমান টহলকে ঘিরে পূর্ব এশিয়ায় আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। শনিবার দুই দেশের যৌথ টহলের জবাবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া দ্রুত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যেই এ ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
যৌথ টহলে চীন ও রাশিয়া
চীনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, যৌথ টহলটি জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের আকাশসীমা ঘিরে পরিচালিত হয়েছে। এতে চীনের এইচ-৬ এবং রাশিয়ার টিইউ-৯৫ কৌশলগত বোমারু বিমান অংশ নেয়।
চীনের দাবি, এ ধরনের যৌথ টহলের উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের সমন্বিত সক্ষমতা প্রদর্শন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার অঙ্গীকার তুলে ধরা।
সতর্ক অবস্থানে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া
যৌথ টহলের সময় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং সম্ভাব্য যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় যুদ্ধবিমান উড়িয়ে দেয়। জাপান জানায়, তারা চীনের এইচ-৬ এবং রাশিয়ার টিইউ-৯৫ বোমারু বিমানের পৃথক দুটি উড্ডয়ন শনাক্ত করে, যা পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে।
এ ধরনের টহল আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় পরিচালিত হলেও আঞ্চলিক দেশগুলো সাধারণত নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে থাকে।
চলতি বছরের প্রথম যৌথ অভিযান

চীন ও রাশিয়ার এটি ২০১৯ সালের পর থেকে ১১তম যৌথ কৌশলগত বোমারু বিমান টহল। তবে ২০২৬ সালে এটিই প্রথম যৌথ অভিযান। সামরিক সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে দুই দেশ নিয়মিত এ ধরনের মহড়া ও টহল পরিচালনা করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পূর্ব এশিয়ায় সামরিক তৎপরতা এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সতর্ক অবস্থান আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চীন বলছে, এই যৌথ টহল কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সমন্বিত সক্ষমতার অংশ হিসেবেই এটি পরিচালিত হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















