নাটোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলা এবং অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালে ভাঙচুর চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে হাসপাতালটির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মৃত রুনা বেগম নাটোর শহরের হরিশপুর এলাকার বাসিন্দা এবং পাবালী ব্যাংকের নাটোর শাখার একজন কর্মী ছিলেন।
অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলে রুনা বেগম স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। প্রথমে তাকে নাটোর সদর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আল-সান হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

স্বজনদের অভিযোগ, রাত প্রায় ১১টার দিকে হাসপাতালের মালিক বাবলু নিজেই রোগীর অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রুনা বেগমের মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, এ ঘটনাই মৃত্যুর মূল কারণ এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মৃত্যুর পর উত্তেজনা, ভাঙচুর
রুনা বেগমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান এবং হাসপাতাল ঘেরাও করে দোষীদের বিচারের দাবি জানান। এ সময় হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে নিহতের স্বজনদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
পুলিশের হস্তক্ষেপ
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত প্রায় ৩টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

তিনি আরও জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালের মালিক বাবলুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
চলছে তদন্ত
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















