ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সোমবার জমে উঠছে রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াই। দিনের তিনটি ম্যাচেই রয়েছে আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সবচেয়ে আলোচনায় ব্রাজিল-জাপান, জার্মানি-প্যারাগুয়ে এবং নেদারল্যান্ডস-মরক্কো ম্যাচ। শক্তিশালী দলগুলোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া কয়েকটি দলের উপস্থিতিতে নকআউট পর্ব আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্রাজিল-জাপান: ইতিহাস, সম্পর্ক ও নতুন চ্যালেঞ্জ
দিনের প্রথম ম্যাচে হিউস্টনে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল জাপান। গ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে উঠেছে ব্রাজিল, আর গ্রুপ ‘এফ’-এ এক জয় ও দুটি ড্র নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে জাপান।

দুই দেশের সম্পর্ক শুধু ফুটবলে নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও গভীর। ব্রাজিলে প্রায় ২৭ লাখ জাপানি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস, যা জাপানের বাইরে সবচেয়ে বড় জাপানি সম্প্রদায়। ফুটবলেও এই সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিকো। তিনি ১৯৯১ সালে জাপানে গিয়ে কাশিমা অ্যান্টলার্সে খেলেন এবং দেশটির পেশাদার ফুটবল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাপান জাতীয় দলের কোচও ছিলেন।
বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র আগের দেখায় ২০০৬ সালে ব্রাজিল ৪-১ ব্যবধানে জয় পায়। তবে গত অক্টোবরে টোকিওতে প্রীতি ম্যাচে জাপান প্রথমবারের মতো ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারায়। সেই জয়ের প্রভাব এবারও পড়তে পারে বলে মনে করছেন জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। তাঁর মতে, ব্রাজিল এবার প্রতিশোধের বাড়তি প্রেরণা নিয়ে মাঠে নামবে, ফলে ম্যাচটি হবে অত্যন্ত কঠিন।
এই ম্যাচের বিজয়ী দল আগামী ৫ জুলাই আইভরি কোস্ট ও নরওয়ের ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।
জার্মানির প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারই প্রথম নকআউট পর্বে ফিরেছে জার্মানি। গ্রুপ পর্বে ১০ গোল করে তারা সর্বোচ্চ গোলদাতাদের অন্যতম দল হিসেবে শেষ করেছে।
৩৮ বছর বয়সী কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের নেতৃত্বে নতুন উদ্যমে খেলছে জার্মানি। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বড় হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে।
নাগেলসমান মনে করেন, প্যারাগুয়ে অত্যন্ত রক্ষণাত্মক দল হওয়ায় তাদের বিপক্ষে খেলাটা সহজ হবে না। এদিকে হাঁটুর চোটের কারণে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার ওমর আলদেরেতে না-ও খেলতে পারেন। অধিনায়ক গুস্তাভো গোমেজ বলেছেন, ম্যাচের ফল নির্ধারণ করবে ছোট ছোট মুহূর্ত এবং সুযোগ কাজে লাগানোর সক্ষমতা।
এই ম্যাচের বিজয়ী আগামী ৪ জুলাই ফ্রান্স ও সুইডেনের ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে খেলবে।
নেদারল্যান্ডস-মরক্কো: রাউন্ডের সবচেয়ে বড় লড়াই
দিনের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা নেদারল্যান্ডস ও মরক্কো। এটিকে রাউন্ড অব ৩২-এর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে সপ্তম স্থানে থাকা নেদারল্যান্ডস গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষ দল হিসেবে নকআউটে উঠেছে। অন্যদিকে ষষ্ঠ স্থানে থাকা মরক্কো ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র করার পর স্কটল্যান্ড ও হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর রানার্সআপ হয়েছে।

নেদারল্যান্ডস তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও কখনো শিরোপা জিততে পারেনি। ২০১০ সালের ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে হারের পর থেকে তারা বিশ্বকাপে ১২০ মিনিটের মধ্যে আর কোনো ম্যাচ হারেনি। আফ্রিকার কোনো দলের বিপক্ষেও বিশ্বকাপে তাদের হার নেই।
অন্যদিকে মরক্কো ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল। এরপর ২০২৫ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়, অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকার—যে পরিস্থিতিই আসুক, তার দল প্রস্তুত।
বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র আগের দেখায় ১৯৯৪ সালে নেদারল্যান্ডস ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। এবার জয়ী দল পরবর্তী পর্বে কানাডার মুখোমুখি হবে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সোমবারের তিনটি ম্যাচই তাই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে রোমাঞ্চ, ইতিহাস এবং উচ্চমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভরা এক দিন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















