০৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড, রায়কে ‘প্রহসনের বিচার’ বললেন জাসদ সভাপতি বাংলাদেশে আরও ২ সন্দেহজনক হামে মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৭১৮ উইম্বলডনে কঠিন লড়াই পেরিয়ে জয়ে শুরু শিয়নতেকের, সেরেনার প্রত্যাবর্তনে দর্শকদের উচ্ছ্বাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চালক নিয়ে স্বয়ংচালিত গাড়ির দৌড়ে নতুন চমক, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে নতুন উদ্যোগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় পুলিশিং বদলাতে বড় বাজি, নতুন যুগের স্বপ্ন দেখছে টেজার নির্মাতা ডিজনির নতুন প্রধানের লক্ষ্য দ্রুত সিদ্ধান্ত, ডিজিটাল রূপান্তরে জোর নিসানের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই, হাইব্রিড ও নতুন মডেলেই বাজি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে নতুন লড়াই: মহাকাশ নয়, পৃথিবীতেই বড় বাজি সফটব্যাংকের ইইউর নজরে ক্লাউড বাজার, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের ওপর বাড়তে পারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ চিপ নির্মাতাদের দাপটে বদলে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অর্থনীতি, বাড়ছে ব্যয়

আজ কিউবা, কাল অন্য কেউ? ক্যারিবীয় অঞ্চলে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি-রাজনীতির প্রত্যাবর্তন

কয়েক সপ্তাহ ধরেই আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্র ছিল মধ্যপ্রাচ্য। ইরানকে ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি, গোয়েন্দা তৎপরতা, নিষেধাজ্ঞা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলেছে। কিন্তু এই অধ্যায় যদি সাময়িকভাবে শেষও হয়, তাহলে ওয়াশিংটনের দৃষ্টি যে দ্রুত অন্য একটি ভূরাজনৈতিক মঞ্চে সরে যেতে পারে, তার লক্ষণ ইতোমধ্যে স্পষ্ট। সেই মঞ্চের নাম কিউবা।

প্রথম দেখায় পরিস্থিতিটি নতুন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটি বহু পুরোনো এক কৌশলগত দ্বন্দ্বের নতুন অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিউবা কেবল একটি প্রতিবেশী দ্বীপ নয়; এটি এমন একটি ভূখণ্ড, যার রাজনৈতিক অবস্থান ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরাসরি আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এই কারণেই হাভানার সরকার কে পরিচালনা করছে, কিংবা কোন শক্তির সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠ—এসব প্রশ্ন ওয়াশিংটনের কাছে কখনোই কেবল কূটনৈতিক বিষয় ছিল না।

১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে। অর্থনৈতিক অবরোধ, কূটনৈতিক চাপ, গোপন অভিযান, এমনকি সামরিক পরিকল্পনাও সেই দীর্ঘ ইতিহাসের অংশ। বহু দশক ধরে এসব উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে, কারণ এবার কিউবার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তার নিজের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি।

ভূগোলও এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে। কিউবা মেক্সিকো উপসাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলো দেশের বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি পরিচালনা করে। মাত্র কয়েক ডজন মাইল দূরেই ফ্লোরিডা। ফলে কোনো বৈরী শক্তি যদি এই দ্বীপে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিস্তার করে, তাহলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে পড়বে। এই বাস্তবতা আজকের নয়; উনিশ শতকের মনরো নীতির সময় থেকেই আমেরিকার কৌশলগত চিন্তার ভিত্তি হয়ে আছে।

এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বোঝা জরুরি। স্পেনের কাছ থেকে কিউবা কেনার চেষ্টা, পরে স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধ, গুয়ানতানামো ঘাঁটির প্রতিষ্ঠা, ঠান্ডা যুদ্ধের সময় সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর প্রচেষ্টা—সবই একই নিরাপত্তা দর্শনের অংশ। কিন্তু ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লব সেই হিসাব পাল্টে দেয়। এরপর ব্যর্থ বে অব পিগস অভিযান, কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট এবং কাস্ত্রোকে সরানোর নানা প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, কিউবা প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই দীর্ঘমেয়াদে আপস করেনি।

আজকের সংকটের প্রকৃতি অবশ্য ভিন্ন। কিউবা এখন আর আদর্শিক বিপ্লব রপ্তানি করার অবস্থায় নেই। বরং দেশটি নিজেই দীর্ঘ অর্থনৈতিক স্থবিরতা, দুর্নীতি, জ্বালানি সংকট এবং ব্যাপক জনঅসন্তোষে বিপর্যস্ত। বিপুল সংখ্যক মানুষ দেশ ছাড়ছে। যেসব রাষ্ট্র একসময় হাভানাকে অর্থনৈতিকভাবে টিকিয়ে রেখেছিল, তাদের সহায়তাও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

Caribbean Leaders, Rubio Discuss U.S. Policy Amid Cuba Crisis

বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা থেকে স্বল্পমূল্যের তেলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় কিউবার সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা। শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, খাদ্য সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়ছে, আর গ্রীষ্মের তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। অর্থনৈতিক চাপ যত গভীর হচ্ছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাবনাও তত বাড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নতুন তাৎপর্য পাচ্ছে। অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর অবস্থান, কিউবার সাবেক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিচারিক পদক্ষেপ এবং গোয়েন্দা পর্যায়ের তৎপরতা—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, কেবল নিষেধাজ্ঞা নয়, আরও বিস্তৃত চাপের বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কিউবায় চীন ও রাশিয়া গোয়েন্দা অবকাঠামো গড়ে তুলেছে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়িয়েছে। যদি ওয়াশিংটন সত্যিই এটিকে তার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে কিউবার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। কারণ বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কেবল একটি দ্বীপ রাষ্ট্র নয়, বরং বৃহত্তর শক্তির প্রভাব বিস্তারই আসল প্রশ্ন।

অন্যদিকে কিউবার ক্ষমতাসীন নেতৃত্বও জানে যে, তাদের সামনে সময় খুব সীমিত। তারা হয়তো আশা করছে, আন্তর্জাতিক সংকট অন্যদিকে মনোযোগ সরিয়ে রাখবে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে। কিন্তু অর্থনৈতিক বাস্তবতা অপেক্ষা করে না। প্রতিদিনের বিদ্যুৎ সংকট, খাদ্য ঘাটতি এবং জনঅসন্তোষ রাজনৈতিক হিসাবকে দ্রুত বদলে দিতে পারে।

যদিও পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান এখনো সম্ভাব্য বলে মনে হয় না, তবুও শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানোর কৌশলকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে যদি ওয়াশিংটন মনে করে যে অর্থনৈতিক চাপ, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং সীমিত সামরিক উপস্থিতির সমন্বয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কেবল কিউবার নয়। এটি দেখিয়ে দেয় যে, ভূরাজনীতিতে ইতিহাস খুব কমই সত্যিকার অর্থে শেষ হয়। রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থান, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন প্রেক্ষাপটে বারবার ফিরে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমিত হলেও ক্যারিবীয় অঞ্চলে যদি নতুন সংকটের সূচনা হয়, তাহলে সেটিও হবে বহু দশক ধরে চলা একই ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার আরেকটি অধ্যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড, রায়কে ‘প্রহসনের বিচার’ বললেন জাসদ সভাপতি

আজ কিউবা, কাল অন্য কেউ? ক্যারিবীয় অঞ্চলে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি-রাজনীতির প্রত্যাবর্তন

০৫:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

কয়েক সপ্তাহ ধরেই আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্র ছিল মধ্যপ্রাচ্য। ইরানকে ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি, গোয়েন্দা তৎপরতা, নিষেধাজ্ঞা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলেছে। কিন্তু এই অধ্যায় যদি সাময়িকভাবে শেষও হয়, তাহলে ওয়াশিংটনের দৃষ্টি যে দ্রুত অন্য একটি ভূরাজনৈতিক মঞ্চে সরে যেতে পারে, তার লক্ষণ ইতোমধ্যে স্পষ্ট। সেই মঞ্চের নাম কিউবা।

প্রথম দেখায় পরিস্থিতিটি নতুন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটি বহু পুরোনো এক কৌশলগত দ্বন্দ্বের নতুন অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিউবা কেবল একটি প্রতিবেশী দ্বীপ নয়; এটি এমন একটি ভূখণ্ড, যার রাজনৈতিক অবস্থান ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরাসরি আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এই কারণেই হাভানার সরকার কে পরিচালনা করছে, কিংবা কোন শক্তির সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠ—এসব প্রশ্ন ওয়াশিংটনের কাছে কখনোই কেবল কূটনৈতিক বিষয় ছিল না।

১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে। অর্থনৈতিক অবরোধ, কূটনৈতিক চাপ, গোপন অভিযান, এমনকি সামরিক পরিকল্পনাও সেই দীর্ঘ ইতিহাসের অংশ। বহু দশক ধরে এসব উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে, কারণ এবার কিউবার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তার নিজের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি।

ভূগোলও এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে। কিউবা মেক্সিকো উপসাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলো দেশের বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি পরিচালনা করে। মাত্র কয়েক ডজন মাইল দূরেই ফ্লোরিডা। ফলে কোনো বৈরী শক্তি যদি এই দ্বীপে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিস্তার করে, তাহলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে পড়বে। এই বাস্তবতা আজকের নয়; উনিশ শতকের মনরো নীতির সময় থেকেই আমেরিকার কৌশলগত চিন্তার ভিত্তি হয়ে আছে।

এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বোঝা জরুরি। স্পেনের কাছ থেকে কিউবা কেনার চেষ্টা, পরে স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধ, গুয়ানতানামো ঘাঁটির প্রতিষ্ঠা, ঠান্ডা যুদ্ধের সময় সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর প্রচেষ্টা—সবই একই নিরাপত্তা দর্শনের অংশ। কিন্তু ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লব সেই হিসাব পাল্টে দেয়। এরপর ব্যর্থ বে অব পিগস অভিযান, কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট এবং কাস্ত্রোকে সরানোর নানা প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, কিউবা প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই দীর্ঘমেয়াদে আপস করেনি।

আজকের সংকটের প্রকৃতি অবশ্য ভিন্ন। কিউবা এখন আর আদর্শিক বিপ্লব রপ্তানি করার অবস্থায় নেই। বরং দেশটি নিজেই দীর্ঘ অর্থনৈতিক স্থবিরতা, দুর্নীতি, জ্বালানি সংকট এবং ব্যাপক জনঅসন্তোষে বিপর্যস্ত। বিপুল সংখ্যক মানুষ দেশ ছাড়ছে। যেসব রাষ্ট্র একসময় হাভানাকে অর্থনৈতিকভাবে টিকিয়ে রেখেছিল, তাদের সহায়তাও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

Caribbean Leaders, Rubio Discuss U.S. Policy Amid Cuba Crisis

বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা থেকে স্বল্পমূল্যের তেলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় কিউবার সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা। শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, খাদ্য সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়ছে, আর গ্রীষ্মের তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। অর্থনৈতিক চাপ যত গভীর হচ্ছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাবনাও তত বাড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নতুন তাৎপর্য পাচ্ছে। অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর অবস্থান, কিউবার সাবেক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিচারিক পদক্ষেপ এবং গোয়েন্দা পর্যায়ের তৎপরতা—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, কেবল নিষেধাজ্ঞা নয়, আরও বিস্তৃত চাপের বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কিউবায় চীন ও রাশিয়া গোয়েন্দা অবকাঠামো গড়ে তুলেছে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়িয়েছে। যদি ওয়াশিংটন সত্যিই এটিকে তার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে কিউবার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। কারণ বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কেবল একটি দ্বীপ রাষ্ট্র নয়, বরং বৃহত্তর শক্তির প্রভাব বিস্তারই আসল প্রশ্ন।

অন্যদিকে কিউবার ক্ষমতাসীন নেতৃত্বও জানে যে, তাদের সামনে সময় খুব সীমিত। তারা হয়তো আশা করছে, আন্তর্জাতিক সংকট অন্যদিকে মনোযোগ সরিয়ে রাখবে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে। কিন্তু অর্থনৈতিক বাস্তবতা অপেক্ষা করে না। প্রতিদিনের বিদ্যুৎ সংকট, খাদ্য ঘাটতি এবং জনঅসন্তোষ রাজনৈতিক হিসাবকে দ্রুত বদলে দিতে পারে।

যদিও পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান এখনো সম্ভাব্য বলে মনে হয় না, তবুও শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানোর কৌশলকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে যদি ওয়াশিংটন মনে করে যে অর্থনৈতিক চাপ, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং সীমিত সামরিক উপস্থিতির সমন্বয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কেবল কিউবার নয়। এটি দেখিয়ে দেয় যে, ভূরাজনীতিতে ইতিহাস খুব কমই সত্যিকার অর্থে শেষ হয়। রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থান, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন প্রেক্ষাপটে বারবার ফিরে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমিত হলেও ক্যারিবীয় অঞ্চলে যদি নতুন সংকটের সূচনা হয়, তাহলে সেটিও হবে বহু দশক ধরে চলা একই ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার আরেকটি অধ্যায়।