০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
বাংলার বাইরে ৫২ বছর ধরে ফুটছে এক হাঁড়ি স্যুপ, স্বাদই যার পারিবারিক উত্তরাধিকার চ্যাটবটের অতিরিক্ত সহমর্মিতা কি বাড়াচ্ছে বিভ্রান্তি? নতুন গবেষণায় উদ্বেগ যে ছবিগুলো বদলে দিয়েছে আমেরিকার ইতিহাস, গড়ে তুলেছে জাতির স্মৃতি বয়স বাড়লে কেন কমে যায় ক্ষুধা? দ্রুত পেট ভরে যাওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার কতটা নিরাপদ? করপোরেট মুনাফার রেকর্ডে বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নতুন পণ্য ও কম দামে ক্রেতা ফেরাতে বড় পরিকল্পনা জেনারেল মিলসের আগামী দিনের বাড়ি কেমন হবে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বদলে দেবে রান্নাঘর থেকে বাথরুম পর্যন্ত থাইল্যান্ডে তীর্থযাত্রায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ১১ বছরের চালকের পিকআপের ধাক্কায় নিহত ৯ বৌদ্ধ ভিক্ষু সিকিমে ‘সুবোধ’-এর আবির্ভাব: সীমান্ত পেরিয়ে নতুন বার্তা দিলেন রহস্যময় শিল্পী HOBEKI? গণতন্ত্র, দেশপ্রেম ও মধ্যবিত্তের ভবিষ্যৎ: নতুন বার্তা দিতে চাইছে ডেমোক্র্যাটরা

বাংলার বাইরে ৫২ বছর ধরে ফুটছে এক হাঁড়ি স্যুপ, স্বাদই যার পারিবারিক উত্তরাধিকার

বিশ্বজুড়ে পুরোনো খাবারের নানা গল্প শোনা যায়। কোথাও বছরের পর বছর ধরে সংরক্ষিত পনির, কোথাও দীর্ঘ সময় ধরে পরিপক্ব করা মাংস। তবে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি রেস্তোরাঁ সেই তালিকায় তৈরি করেছে এক অনন্য ইতিহাস। সেখানে একটি গরুর মাংসের স্যুপের ঝোল টানা ৫২ বছর ধরে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আজও প্রতিদিন নতুন উপকরণ যোগ করে রান্না করা হয়।

এই বিশেষ ঝোলই রেস্তোরাঁটির সবচেয়ে জনপ্রিয় গরুর মাংসের নুডলসের প্রাণ। কয়েক দশক ধরে একই মূল ঝোলকে যত্নের সঙ্গে ধরে রেখে প্রতিদিন নতুন ঝোলের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হচ্ছে, আর সেটিই এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

স্বাদের ধারাবাহিকতাই সবচেয়ে বড় রহস্য

রেস্তোরাঁটির বর্তমান দেখভাল করছেন পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য নাত্তাপং কাওইনুনতাওং। তাঁর দাদা ১৯৭৪ সালে এই মূল ঝোল তৈরি করেছিলেন, যাতে প্রতিদিন একই স্বাদ বজায় রাখা সম্ভব হয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঝোলের কোনো লিখিত রেসিপি নেই। আগের দিনের স্বাদই পরের দিনের রান্নার পথনির্দেশক। বছরের পর বছর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে এমন এক স্বাদ, যা কেবল পরিবারের সদস্যরাই সঠিকভাবে বিচার করতে পারেন।

নাত্তাপং ছোটবেলা থেকেই এই ঝোলের স্বাদ পরীক্ষা করতে করতে বড় হয়েছেন। এখন প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি নিজেই ঝোলের দেখভাল করেন। নতুন গরুর মাংস, মাছের সস, সয়া সস এবং বিভিন্ন ভেষজ উপাদান যোগ করে স্বাদ ঠিক রাখা হয়।

ছুটি নয়, প্রতিদিনই স্যুপের পাহারা

এই ঝোলের যত্ন নেওয়ার কারণে পরিবারের সদস্যদের জন্য দীর্ঘ ছুটি নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ কয়েক ঘণ্টার বেশি সময় ঝোলকে অবহেলায় ফেলে রাখা যায় না।

প্রতিদিন রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার পর ঝোল থেকে সব কঠিন উপাদান আলাদা করা হয়। এরপর তরল অংশ আবার ফুটিয়ে ঢেকে রাখা হয়। পরদিন সকালে আবার তা ফুটিয়ে নতুন উপকরণ যোগ করা হয়। বছরে মাত্র কয়েক দিনের জন্য রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকে। সেই সময় ঝোল হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষণ করে পরে আবার ব্যবহার শুরু করা হয়।

The Family Keeping Watch Over a 52-Year-Old Pot of Soup - WSJ

পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে

রেস্তোরাঁটির মোট বিক্রির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে গরুর মাংসের নুডলস থেকে। প্রতিটি বাটিতে পুরোনো মূল ঝোলের সঙ্গে নতুন ঝোল মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়, যাতে স্বাদ ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।

সাম্প্রতিক কয়েক বছরে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেস্তোরাঁটির ইতিহাস ছড়িয়ে পড়ার পর বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে শুধু এই ঐতিহাসিক স্যুপের স্বাদ নেওয়ার জন্যই সেখানে যান।

অনেক পর্যটকের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গরুর মাংসের নুডলস খাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও এই স্যুপের স্বাদ একেবারেই আলাদা। কেউ কেউ এটিকে জীবনের সেরা স্যুপগুলোর একটি বলেও মন্তব্য করেছেন।

খাদ্য নিরাপত্তায় কঠোর সতর্কতা

দীর্ঘদিন ধরে একই মূল ঝোল ব্যবহার করা হলেও রেস্তোরাঁটির সঙ্গে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কোনো ঘটনার তথ্য কখনও সামনে আসেনি।

ঝোল সংরক্ষণ ও পুনরায় রান্নার প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে করা হয়। নিয়মিত উচ্চ তাপমাত্রায় ফুটিয়ে জীবাণুর ঝুঁকি কমানো হয় এবং প্রতিদিন নতুন উপকরণ যোগ করে রান্না করা হয়। এভাবেই কয়েক দশক ধরে একই মূল ঝোল নিরাপদভাবে ব্যবহার করে আসছে পরিবারটি।

এখন পরিবারের নতুন প্রজন্মও এই ঐতিহ্য শেখা শুরু করেছে। নাত্তাপংয়ের কনিষ্ঠ মেয়ে ধীরে ধীরে ঝোলের স্বাদ বিচার করার কৌশল রপ্ত করছেন। পরিবারের বিশ্বাস, স্বাদের এই উত্তরাধিকারই তাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।

৫২ বছর ধরে ফুটতে থাকা থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী গরুর মাংসের স্যুপ এখন বিশ্বজুড়ে খাদ্যপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

থাইল্যান্ডের ৫২ বছরের স্যুপের ঝোল আজও একই স্বাদে টিকে আছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলছে এর যত্ন, আর বাড়ছে পর্যটকদের আকর্ষণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলার বাইরে ৫২ বছর ধরে ফুটছে এক হাঁড়ি স্যুপ, স্বাদই যার পারিবারিক উত্তরাধিকার

বাংলার বাইরে ৫২ বছর ধরে ফুটছে এক হাঁড়ি স্যুপ, স্বাদই যার পারিবারিক উত্তরাধিকার

০২:৩০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বিশ্বজুড়ে পুরোনো খাবারের নানা গল্প শোনা যায়। কোথাও বছরের পর বছর ধরে সংরক্ষিত পনির, কোথাও দীর্ঘ সময় ধরে পরিপক্ব করা মাংস। তবে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি রেস্তোরাঁ সেই তালিকায় তৈরি করেছে এক অনন্য ইতিহাস। সেখানে একটি গরুর মাংসের স্যুপের ঝোল টানা ৫২ বছর ধরে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আজও প্রতিদিন নতুন উপকরণ যোগ করে রান্না করা হয়।

এই বিশেষ ঝোলই রেস্তোরাঁটির সবচেয়ে জনপ্রিয় গরুর মাংসের নুডলসের প্রাণ। কয়েক দশক ধরে একই মূল ঝোলকে যত্নের সঙ্গে ধরে রেখে প্রতিদিন নতুন ঝোলের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হচ্ছে, আর সেটিই এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

স্বাদের ধারাবাহিকতাই সবচেয়ে বড় রহস্য

রেস্তোরাঁটির বর্তমান দেখভাল করছেন পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য নাত্তাপং কাওইনুনতাওং। তাঁর দাদা ১৯৭৪ সালে এই মূল ঝোল তৈরি করেছিলেন, যাতে প্রতিদিন একই স্বাদ বজায় রাখা সম্ভব হয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঝোলের কোনো লিখিত রেসিপি নেই। আগের দিনের স্বাদই পরের দিনের রান্নার পথনির্দেশক। বছরের পর বছর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে এমন এক স্বাদ, যা কেবল পরিবারের সদস্যরাই সঠিকভাবে বিচার করতে পারেন।

নাত্তাপং ছোটবেলা থেকেই এই ঝোলের স্বাদ পরীক্ষা করতে করতে বড় হয়েছেন। এখন প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি নিজেই ঝোলের দেখভাল করেন। নতুন গরুর মাংস, মাছের সস, সয়া সস এবং বিভিন্ন ভেষজ উপাদান যোগ করে স্বাদ ঠিক রাখা হয়।

ছুটি নয়, প্রতিদিনই স্যুপের পাহারা

এই ঝোলের যত্ন নেওয়ার কারণে পরিবারের সদস্যদের জন্য দীর্ঘ ছুটি নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ কয়েক ঘণ্টার বেশি সময় ঝোলকে অবহেলায় ফেলে রাখা যায় না।

প্রতিদিন রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার পর ঝোল থেকে সব কঠিন উপাদান আলাদা করা হয়। এরপর তরল অংশ আবার ফুটিয়ে ঢেকে রাখা হয়। পরদিন সকালে আবার তা ফুটিয়ে নতুন উপকরণ যোগ করা হয়। বছরে মাত্র কয়েক দিনের জন্য রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকে। সেই সময় ঝোল হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষণ করে পরে আবার ব্যবহার শুরু করা হয়।

The Family Keeping Watch Over a 52-Year-Old Pot of Soup - WSJ

পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে

রেস্তোরাঁটির মোট বিক্রির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে গরুর মাংসের নুডলস থেকে। প্রতিটি বাটিতে পুরোনো মূল ঝোলের সঙ্গে নতুন ঝোল মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়, যাতে স্বাদ ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।

সাম্প্রতিক কয়েক বছরে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেস্তোরাঁটির ইতিহাস ছড়িয়ে পড়ার পর বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে শুধু এই ঐতিহাসিক স্যুপের স্বাদ নেওয়ার জন্যই সেখানে যান।

অনেক পর্যটকের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গরুর মাংসের নুডলস খাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও এই স্যুপের স্বাদ একেবারেই আলাদা। কেউ কেউ এটিকে জীবনের সেরা স্যুপগুলোর একটি বলেও মন্তব্য করেছেন।

খাদ্য নিরাপত্তায় কঠোর সতর্কতা

দীর্ঘদিন ধরে একই মূল ঝোল ব্যবহার করা হলেও রেস্তোরাঁটির সঙ্গে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কোনো ঘটনার তথ্য কখনও সামনে আসেনি।

ঝোল সংরক্ষণ ও পুনরায় রান্নার প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে করা হয়। নিয়মিত উচ্চ তাপমাত্রায় ফুটিয়ে জীবাণুর ঝুঁকি কমানো হয় এবং প্রতিদিন নতুন উপকরণ যোগ করে রান্না করা হয়। এভাবেই কয়েক দশক ধরে একই মূল ঝোল নিরাপদভাবে ব্যবহার করে আসছে পরিবারটি।

এখন পরিবারের নতুন প্রজন্মও এই ঐতিহ্য শেখা শুরু করেছে। নাত্তাপংয়ের কনিষ্ঠ মেয়ে ধীরে ধীরে ঝোলের স্বাদ বিচার করার কৌশল রপ্ত করছেন। পরিবারের বিশ্বাস, স্বাদের এই উত্তরাধিকারই তাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।

৫২ বছর ধরে ফুটতে থাকা থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী গরুর মাংসের স্যুপ এখন বিশ্বজুড়ে খাদ্যপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

থাইল্যান্ডের ৫২ বছরের স্যুপের ঝোল আজও একই স্বাদে টিকে আছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলছে এর যত্ন, আর বাড়ছে পর্যটকদের আকর্ষণ।