০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
বাংলার বাইরে ৫২ বছর ধরে ফুটছে এক হাঁড়ি স্যুপ, স্বাদই যার পারিবারিক উত্তরাধিকার চ্যাটবটের অতিরিক্ত সহমর্মিতা কি বাড়াচ্ছে বিভ্রান্তি? নতুন গবেষণায় উদ্বেগ যে ছবিগুলো বদলে দিয়েছে আমেরিকার ইতিহাস, গড়ে তুলেছে জাতির স্মৃতি বয়স বাড়লে কেন কমে যায় ক্ষুধা? দ্রুত পেট ভরে যাওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার কতটা নিরাপদ? করপোরেট মুনাফার রেকর্ডে বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নতুন পণ্য ও কম দামে ক্রেতা ফেরাতে বড় পরিকল্পনা জেনারেল মিলসের আগামী দিনের বাড়ি কেমন হবে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বদলে দেবে রান্নাঘর থেকে বাথরুম পর্যন্ত থাইল্যান্ডে তীর্থযাত্রায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ১১ বছরের চালকের পিকআপের ধাক্কায় নিহত ৯ বৌদ্ধ ভিক্ষু সিকিমে ‘সুবোধ’-এর আবির্ভাব: সীমান্ত পেরিয়ে নতুন বার্তা দিলেন রহস্যময় শিল্পী HOBEKI? গণতন্ত্র, দেশপ্রেম ও মধ্যবিত্তের ভবিষ্যৎ: নতুন বার্তা দিতে চাইছে ডেমোক্র্যাটরা

চ্যাটবটের অতিরিক্ত সহমর্মিতা কি বাড়াচ্ছে বিভ্রান্তি? নতুন গবেষণায় উদ্বেগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট এখন শুধু তথ্য খোঁজার মাধ্যম নয়, অনেক মানুষের কাছে মানসিক সঙ্গীও হয়ে উঠছে। তবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নতুন পর্যবেক্ষণ বলছে, চ্যাটবটের অতিরিক্ত সমর্থনমূলক আচরণ, ব্যবহারকারীর ভাষা অনুকরণ এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক উত্তর কিছু মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তিকর বিশ্বাস বা ভুল ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

চ্যাটবট কেন এত বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়

গবেষকদের ভাষায়, চ্যাটবট সাধারণত তিনটি বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে ব্যবহারকারীর আস্থা অর্জন করে। প্রথমত, এটি প্রায়ই ব্যবহারকারীর বক্তব্যের সঙ্গে সহজেই একমত হয়। দ্বিতীয়ত, ব্যবহারকারীর কথার ধরন ও ভাষার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়। তৃতীয়ত, আগের কথোপকথনের ভিত্তিতে ক্রমেই আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক উত্তর তৈরি করে।

এই তিনটি বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে কাজ করলে ব্যবহারকারীর মনে এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে যে তিনি কোনো সফটওয়্যারের সঙ্গে নয়, বরং একজন বাস্তব মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন।

দীর্ঘ আলাপ বাড়ায় প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে একই চ্যাটবট ব্যবহার করলে সেটি ব্যবহারকারীর বক্তব্য নতুনভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে বিশেষ বা ব্যতিক্রমী হিসেবে উপস্থাপন করে এবং তার চিন্তাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে আগে থেকেই থাকা ভুল ধারণা বা পক্ষপাত আরও দৃঢ় হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিজেদের বিশ্বাসের সমর্থন খুঁজছেন, তারা চ্যাটবটের উত্তরে আরও বেশি প্রভাবিত হতে পারেন।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবর্তনের চেষ্টা

বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এই সমস্যা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। অতিরিক্ত সহমর্মিতাপূর্ণ বা সব বিষয়ে সহজে সম্মতি দেওয়ার প্রবণতা কমাতে নতুন সংস্করণের মডেলে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এছাড়া ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও যাচাইযোগ্য বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভুল তথ্য বা ভিত্তিহীন বিশ্বাস আরও শক্তিশালী না হয়।

Chatbots Are Replacing Therapists With Little Scientific Evidence Behind  Them - WSJ

মনোবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ

সাম্প্রতিক এক জরিপে অংশ নেওয়া বহু মনোবিজ্ঞানী জানিয়েছেন, তাদের অনেক রোগী চ্যাটবটের কাছ থেকে মানসিক স্বীকৃতি বা সমর্থন পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। অনেকে ইতিবাচকভাবে এটি ব্যবহার করে মানসিক চাপ সামলাতে পারলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেত্রে চ্যাটবটের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে।

কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, চ্যাটবট সব সময় উষ্ণ ও আশ্বস্ত করার ভাষায় কথা বলায় ব্যবহারকারীর মনে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। যেহেতু এটি ব্যবহারকারীর আগের তথ্য মনে রেখে উত্তর দেয়, তাই অনেকের কাছে মনে হয় চ্যাটবট তাকে গভীরভাবে বুঝতে পারছে।

সব ব্যবহারকারীই ঝুঁকিমুক্ত নন

গবেষকদের মতে, শুধু মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরাই নন, সাধারণ ব্যবহারকারীরাও কখনও কখনও চ্যাটবটের অতিরিক্ত সমর্থনমূলক উত্তরের প্রভাবে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন।

একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে মানুষের তুলনায় চ্যাটবট বেশি মাত্রায় ব্যবহারকারীর বক্তব্যকে সমর্থন করেছে। সম্পর্ক, পারিবারিক সমস্যা কিংবা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মতো বিষয়গুলোতে এই প্রবণতা আরও বেশি দেখা যায়।

ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ

গবেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জন্য সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবেই বিকশিত হওয়া উচিত। তবে এমনভাবে নকশা করতে হবে যাতে এটি ব্যবহারকারীর অনুভূতিকে সম্মান জানালেও যাচাইহীন বিশ্বাস বা বিভ্রান্তিকে উৎসাহিত না করে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক কথোপকথনের অভিজ্ঞতা তৈরি করতে গিয়ে যদি চ্যাটবট বাস্তবতা যাচাইয়ের পরিবর্তে শুধু ব্যবহারকারীর মন জয়ের চেষ্টা করে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

মানসিক সঙ্গী হিসেবে চ্যাটবট ব্যবহারে অতিরিক্ত সমর্থন ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক উত্তর কীভাবে বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে, তা নিয়ে নতুন গবেষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলার বাইরে ৫২ বছর ধরে ফুটছে এক হাঁড়ি স্যুপ, স্বাদই যার পারিবারিক উত্তরাধিকার

চ্যাটবটের অতিরিক্ত সহমর্মিতা কি বাড়াচ্ছে বিভ্রান্তি? নতুন গবেষণায় উদ্বেগ

০১:০০:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট এখন শুধু তথ্য খোঁজার মাধ্যম নয়, অনেক মানুষের কাছে মানসিক সঙ্গীও হয়ে উঠছে। তবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নতুন পর্যবেক্ষণ বলছে, চ্যাটবটের অতিরিক্ত সমর্থনমূলক আচরণ, ব্যবহারকারীর ভাষা অনুকরণ এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক উত্তর কিছু মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তিকর বিশ্বাস বা ভুল ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

চ্যাটবট কেন এত বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়

গবেষকদের ভাষায়, চ্যাটবট সাধারণত তিনটি বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে ব্যবহারকারীর আস্থা অর্জন করে। প্রথমত, এটি প্রায়ই ব্যবহারকারীর বক্তব্যের সঙ্গে সহজেই একমত হয়। দ্বিতীয়ত, ব্যবহারকারীর কথার ধরন ও ভাষার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়। তৃতীয়ত, আগের কথোপকথনের ভিত্তিতে ক্রমেই আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক উত্তর তৈরি করে।

এই তিনটি বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে কাজ করলে ব্যবহারকারীর মনে এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে যে তিনি কোনো সফটওয়্যারের সঙ্গে নয়, বরং একজন বাস্তব মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন।

দীর্ঘ আলাপ বাড়ায় প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে একই চ্যাটবট ব্যবহার করলে সেটি ব্যবহারকারীর বক্তব্য নতুনভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে বিশেষ বা ব্যতিক্রমী হিসেবে উপস্থাপন করে এবং তার চিন্তাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে আগে থেকেই থাকা ভুল ধারণা বা পক্ষপাত আরও দৃঢ় হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিজেদের বিশ্বাসের সমর্থন খুঁজছেন, তারা চ্যাটবটের উত্তরে আরও বেশি প্রভাবিত হতে পারেন।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবর্তনের চেষ্টা

বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এই সমস্যা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। অতিরিক্ত সহমর্মিতাপূর্ণ বা সব বিষয়ে সহজে সম্মতি দেওয়ার প্রবণতা কমাতে নতুন সংস্করণের মডেলে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এছাড়া ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও যাচাইযোগ্য বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভুল তথ্য বা ভিত্তিহীন বিশ্বাস আরও শক্তিশালী না হয়।

Chatbots Are Replacing Therapists With Little Scientific Evidence Behind  Them - WSJ

মনোবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ

সাম্প্রতিক এক জরিপে অংশ নেওয়া বহু মনোবিজ্ঞানী জানিয়েছেন, তাদের অনেক রোগী চ্যাটবটের কাছ থেকে মানসিক স্বীকৃতি বা সমর্থন পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। অনেকে ইতিবাচকভাবে এটি ব্যবহার করে মানসিক চাপ সামলাতে পারলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেত্রে চ্যাটবটের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে।

কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, চ্যাটবট সব সময় উষ্ণ ও আশ্বস্ত করার ভাষায় কথা বলায় ব্যবহারকারীর মনে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। যেহেতু এটি ব্যবহারকারীর আগের তথ্য মনে রেখে উত্তর দেয়, তাই অনেকের কাছে মনে হয় চ্যাটবট তাকে গভীরভাবে বুঝতে পারছে।

সব ব্যবহারকারীই ঝুঁকিমুক্ত নন

গবেষকদের মতে, শুধু মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরাই নন, সাধারণ ব্যবহারকারীরাও কখনও কখনও চ্যাটবটের অতিরিক্ত সমর্থনমূলক উত্তরের প্রভাবে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন।

একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে মানুষের তুলনায় চ্যাটবট বেশি মাত্রায় ব্যবহারকারীর বক্তব্যকে সমর্থন করেছে। সম্পর্ক, পারিবারিক সমস্যা কিংবা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মতো বিষয়গুলোতে এই প্রবণতা আরও বেশি দেখা যায়।

ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ

গবেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জন্য সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবেই বিকশিত হওয়া উচিত। তবে এমনভাবে নকশা করতে হবে যাতে এটি ব্যবহারকারীর অনুভূতিকে সম্মান জানালেও যাচাইহীন বিশ্বাস বা বিভ্রান্তিকে উৎসাহিত না করে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক কথোপকথনের অভিজ্ঞতা তৈরি করতে গিয়ে যদি চ্যাটবট বাস্তবতা যাচাইয়ের পরিবর্তে শুধু ব্যবহারকারীর মন জয়ের চেষ্টা করে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

মানসিক সঙ্গী হিসেবে চ্যাটবট ব্যবহারে অতিরিক্ত সমর্থন ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক উত্তর কীভাবে বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে, তা নিয়ে নতুন গবেষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।