০৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সাদ্দাম হোসেনের ‘হলিউড স্বপ্ন’: যুদ্ধের মধ্যেই নির্মিত হয়েছিল ইরাকের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র পাঁচ দিনের শোকানুষ্ঠান শুরু: খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে বিশ্বনেতাদের সমাগম সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতীয় পাসপোর্ট সেবা চালু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রোনালদোর গোল, স্পেনের দাপট, বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে মদরিচ: বিশ্বকাপে জমে উঠেছে শেষ ষোলোর লড়াই উইম্বলডনে ওসাকার ইতিহাস, জোকোভিচের দাপুটে সূচনা টানা দ্বিতীয় দিনে বাড়ল সোনার দাম, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট এখন ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নিখোঁজের ১৯ ঘণ্টা পর সিলেটের সাদাপাথরে পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার বরিশালে পুলিশের হেফাজত থেকে আওয়ামী লীগ কর্মীকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, নতুন মামলা জাপানে অক্টোবর থেকে আবাসিক অনুমতির ফি বড় পরিসরে বাড়ছে, স্থায়ী বসবাসের ফি হবে ২ লাখ ইয়েন নতুন ভোটার নিবন্ধনের সময় ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ালো ইসি

ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত, স্থগিতই থাকছে সিন্ধু পানি চুক্তি: পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থন বন্ধের আহ্বান

ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সিন্ধু পানি চুক্তি (ইন্দাস ওয়াটার্স ট্রিটি) নিয়ে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পাকিস্তানের অব্যাহত সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের কারণেই চুক্তিটি স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার এক প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ত্যাগ করতে হবে। সেই প্রেক্ষাপটেই সিন্ধু পানি চুক্তি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

উত্তেজনা বাড়িয়েছে পাকিস্তানের বক্তব্য

ভারতের এই প্রতিক্রিয়া আসে পাকিস্তানের এক মন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী এমন অবস্থান নিয়েছেন যাতে পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও প্রবাহিত হতে না পারে। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে ‘যে হাত পানি বন্ধ করতে চাইবে, সেই হাত কেটে ফেলা হবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রচারিত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরও কড়া সতর্কবার্তা

এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর চুক্তি স্থগিত থাকলেও পাকিস্তান এটিকে এখনো কার্যকর ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক বলে মনে করে।

ইসহাক দারের দাবি, ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির অংশ আটকে দেওয়ার চেষ্টা হলে তা হবে ‘পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’, যার ফলে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, যৌথ নদীর পানি কখনোই রাজনৈতিক বা কৌশলগত অস্ত্র হওয়া উচিত নয়। বরং সহযোগিতা, সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এই সম্পদ পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সমানভাবে উপকৃত হয়।

Indus Waters Treaty Suspended: How Water Became the New Frontline Between  India and Pakistan - Frontline

চুক্তি স্থগিত নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান

ভারত বলছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকায় সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি, চুক্তিতে একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার কোনো বিধান নেই। তাই তাদের দৃষ্টিতে চুক্তিটি এখনো বৈধ এবং কার্যকর রয়েছে।

এই ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

ভারত জানিয়েছে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

ভারতের দাবি, সন্ত্রাসবাদই চুক্তি স্থগিতের মূল কারণ; অন্যদিকে পাকিস্তান একে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাদ্দাম হোসেনের ‘হলিউড স্বপ্ন’: যুদ্ধের মধ্যেই নির্মিত হয়েছিল ইরাকের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র

ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত, স্থগিতই থাকছে সিন্ধু পানি চুক্তি: পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থন বন্ধের আহ্বান

০৭:১৭:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সিন্ধু পানি চুক্তি (ইন্দাস ওয়াটার্স ট্রিটি) নিয়ে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পাকিস্তানের অব্যাহত সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের কারণেই চুক্তিটি স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার এক প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ত্যাগ করতে হবে। সেই প্রেক্ষাপটেই সিন্ধু পানি চুক্তি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

উত্তেজনা বাড়িয়েছে পাকিস্তানের বক্তব্য

ভারতের এই প্রতিক্রিয়া আসে পাকিস্তানের এক মন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী এমন অবস্থান নিয়েছেন যাতে পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও প্রবাহিত হতে না পারে। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে ‘যে হাত পানি বন্ধ করতে চাইবে, সেই হাত কেটে ফেলা হবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রচারিত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরও কড়া সতর্কবার্তা

এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর চুক্তি স্থগিত থাকলেও পাকিস্তান এটিকে এখনো কার্যকর ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক বলে মনে করে।

ইসহাক দারের দাবি, ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির অংশ আটকে দেওয়ার চেষ্টা হলে তা হবে ‘পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’, যার ফলে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, যৌথ নদীর পানি কখনোই রাজনৈতিক বা কৌশলগত অস্ত্র হওয়া উচিত নয়। বরং সহযোগিতা, সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এই সম্পদ পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সমানভাবে উপকৃত হয়।

Indus Waters Treaty Suspended: How Water Became the New Frontline Between  India and Pakistan - Frontline

চুক্তি স্থগিত নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান

ভারত বলছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকায় সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি, চুক্তিতে একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার কোনো বিধান নেই। তাই তাদের দৃষ্টিতে চুক্তিটি এখনো বৈধ এবং কার্যকর রয়েছে।

এই ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

ভারত জানিয়েছে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

ভারতের দাবি, সন্ত্রাসবাদই চুক্তি স্থগিতের মূল কারণ; অন্যদিকে পাকিস্তান একে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছে।