সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া এক পর্যটকের মরদেহ প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ধলাই নদীর সাদাপাথর রোপওয়ে বাংকারসংলগ্ন ৩ নম্বর পিলারের পাশ থেকে স্থানীয় এক জেলের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তি ডা. সুব্রত সাহা বিকাশ (৩৩)। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার মিহির লাল সাহার ছেলে।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেটি কোম্পানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যান।
স্থানীয় জেলের চোখে পড়ে মরদেহ
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে ধলাই নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন রুবেল মিয়া (২৮) নামে এক জেলে। মাছ ধরার সময় তিনি নদীর পানিতে একটি বস্তু ভাসতে দেখতে পান। কাছে গিয়ে তিনি নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ শনাক্ত করেন।
মরদেহের একটি ছোট অংশ পানির ওপরে থাকলেও অধিকাংশই পানির নিচে ছিল। পরে তিনি মরদেহটি উদ্ধার করে পর্যটনকেন্দ্রের জেটিঘাটে নিয়ে আসেন।

যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা
এর আগে বৃহস্পতিবার ডা. সুব্রত সাহা বিকাশ তিন বন্ধুকে নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটে বেড়াতে আসেন। দুপুর প্রায় ২টা ১৫ মিনিটে তারা সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের ধলাই নদীতে গোসল করতে নামেন।
এ সময় প্রবল স্রোতে তারা ভেসে যান। তিনজনের মধ্যে দুজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও সাঁতার না জানায় ডা. সুব্রত নদীর স্রোতে নিখোঁজ হয়ে যান।
উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর মিলল মরদেহ
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কয়েক ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়ায় অন্ধকার নেমে এলে রাত ৭টার দিকে অভিযান স্থগিত করা হয়।
পরদিন সকালে স্থানীয় জেলের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার হয়।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর
ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জগৎ জ্যোতি দাস জানান, নদীতে মাছ ধরার সময় এক জেলে মরদেহটি উদ্ধার করেন। নিহতের পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ গ্রহণের জন্য আবেদন করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সিলেটের সাদাপাথরে ধলাই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক ডা. সুব্রত সাহা বিকাশের মরদেহ ১৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে স্থানীয় জেলে ও প্রশাসন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















