জাপানে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য আবাসিক অনুমতি (রেসিডেন্স পারমিট) পরিবর্তন, নবায়ন এবং স্থায়ী বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্স) অনুমতির ফি আগামী ১ অক্টোবর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার। সম্প্রতি সংশোধিত অভিবাসন আইন কার্যকর হওয়ার পর নতুন ফি কাঠামোর খসড়া প্রকাশ করেছে জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি (আইএসএ)।
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন ফি আবাসিক অনুমতির মেয়াদের ওপর নির্ভর করবে। একই সঙ্গে অনলাইনে আবেদনকে উৎসাহিত করতে সরাসরি আবেদন ও অনলাইন আবেদনের মধ্যে পৃথক ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবাসিক অনুমতির নতুন ফি কাঠামো
বর্তমানে আবাসিক অবস্থার পরিবর্তন বা থাকার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সরাসরি আবেদন করলে ৬ হাজার ইয়েন ফি দিতে হয়। স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য ফি ১০ হাজার ইয়েন।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ অক্টোবরের পর তিন মাস বা তার কম মেয়াদের অনুমতি পাওয়া আবেদনকারীদের ১০ হাজার ইয়েন দিতে হবে।
অন্যদিকে, পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের আবাসিক অনুমতি পেলে সরাসরি আবেদনের ক্ষেত্রে ফি হবে ৭৫ হাজার ইয়েন এবং অনলাইনে আবেদন করলে ৬৫ হাজার ইয়েন। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির ক্ষেত্রে। এর ফি ১০ হাজার ইয়েন থেকে বেড়ে ২ লাখ ইয়েনে উন্নীত হবে, যা বর্তমানের তুলনায় ২০ গুণ বেশি।
কেন বাড়ানো হচ্ছে ফি
আইএসএর কর্মকর্তারা জানান, আবেদন যাচাইয়ের প্রকৃত ব্যয়, বিদেশিদের জাপানে প্রবেশ, অবস্থান ও প্রস্থান ব্যবস্থাপনার প্রশাসনিক খরচ এবং অন্যান্য দেশের প্রচলিত ফি বিবেচনা করেই নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিচারমন্ত্রী হিরোশি হিরাগুচি বলেন, একটি আবাসিক অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়াকরণে সরকারের প্রকৃত ব্যয় প্রায় ১০ হাজার ইয়েন। আর স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে ব্যয় হয় প্রায় ২০ হাজার ইয়েন। এছাড়া একজন বিদেশি নাগরিকের প্রবেশ, অবস্থান ও প্রস্থান ব্যবস্থাপনায় সরকারকে বছরে গড়ে আরও ২০ হাজার ইয়েন ব্যয় করতে হয়।
সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব
সরকারের হিসাবে, ২০২৭ অর্থবছরে আবাসিক অবস্থার পরিবর্তন ও থাকার মেয়াদ বাড়ানোর প্রায় ২৩ লাখ আবেদন হতে পারে। প্রতি আবেদনে গড়ে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার ইয়েন ফি আদায় হলে বছরে প্রায় ৬৯ থেকে ৯২ বিলিয়ন ইয়েন অতিরিক্ত রাজস্ব আসতে পারে।
এই অর্থ বিদেশিদের প্রবেশ, অবস্থান ও প্রস্থান ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পাশাপাশি নতুন কিছু সরকারি কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে।

কারা পাবেন ফি ছাড়
সব আবেদনকারীর জন্য বাড়তি ফি প্রযোজ্য হলেও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ছাড় বা অব্যাহতির সুযোগ রাখা হয়েছে।
যারা আর্থিকভাবে চরম সংকটে আছেন এবং একই সঙ্গে মানবিক বিবেচনার যোগ্য—যেমন স্বীকৃত শরণার্থী, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট দুরারোগ্য রোগ কিংবা প্রতিবন্ধী সদস্যের দেখভালকারী—তারা ফি কমানোর সুযোগ পেতে পারেন।
যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আবাসিক অনুমতির ফি সর্বনিম্ন ১০ হাজার ইয়েন পর্যন্ত নামিয়ে আনা যেতে পারে। স্থায়ী বসবাসের অনুমতির ফিও ২ লাখ ইয়েন থেকে কমিয়ে ২০ হাজার ইয়েন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হতে পারে।
তবে স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে এই সুবিধা সীমিত পরিসরে প্রযোজ্য হবে। মূলত জাপানি নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দার স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের আবেদন পৃথকভাবে সম্পদ, আর্থিক অবস্থা ও আবাসিক মর্যাদা বিবেচনা করে মূল্যায়ন করা হবে।
অন্যদিকে, ‘ডিপ্লোম্যাট’ ও ‘অফিশিয়াল’ মর্যাদায় আবাসিক অবস্থার পরিবর্তন কিংবা ‘অফিশিয়াল’ মর্যাদার অধীনে থাকার মেয়াদ নবায়নের ক্ষেত্রে ফি সম্পূর্ণ মওকুফ থাকবে।
বিদেশিদের জন্য নতুন শিক্ষা কর্মসূচি
ফি বৃদ্ধি থেকে আসা অর্থের একটি অংশ বিদেশি নাগরিকদের জাপানি সমাজে মানিয়ে নিতে সহায়তার জন্য সরকার পরিচালিত একটি জাতীয় শিক্ষা কর্মসূচি তৈরিতে ব্যয় করা হবে।
আইএসএর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিকল্পনাধীন এই কর্মসূচিতে জাপানি ভাষার পাশাপাশি দেশটির আইন, সামাজিক নিয়ম, প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় আচরণ শেখানো হবে। অনলাইনভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদেশিরা জাপানে যাওয়ার আগেই পড়াশোনা শুরু করতে পারবেন এবং দেশটিতে পৌঁছানোর পরও তা চালিয়ে যেতে পারবেন।
সরকার আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক অনুমতি নবায়ন বা স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ক্ষেত্রে উৎসাহমূলক শর্ত বা পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
নতুন বিধিমালা নিয়ে জনমত গ্রহণ ২ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে পরিবর্তিত ফি কাঠামো ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।
জাপানে আবাসিক অনুমতির ফি বৃদ্ধি
জাপান সরকার ১ অক্টোবর থেকে বিদেশিদের আবাসিক ও স্থায়ী বসবাসের অনুমতির ফি বড় পরিসরে বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। অনলাইন আবেদন, ফি ছাড় এবং নতুন শিক্ষা কর্মসূচিও যুক্ত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















