পাকিস্তানের লাহোরে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার চার সন্দেহভাজনকে পাঁচ দিনের শারীরিক রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার লাহোরের ক্যান্টনমেন্ট আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডস ও ভেনেজুয়েলার দুই নারীকে অপহরণ, মুক্তিপণের জন্য আটকে রাখা এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। পরে অভিযুক্তদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অপহরণ ও মুক্তিপণের অভিযোগ
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পাঁচ অভিযুক্ত মিলে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ করে জিম্মি করে রাখে। তাদের মধ্যে একজন একজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আটক অবস্থায় ভুক্তভোগীদের কাছে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং একই সময়ে তাদের যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
আদালতে হাজির করা হয় চার অভিযুক্তকে
শুক্রবার ডিফেন্স সি থানার তদন্ত কর্মকর্তা চার অভিযুক্তকে মুখোশ পরিহিত অবস্থায় বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আজহার মাহমুদের আদালতে হাজির করেন।
শুনানির শুরুতেই বিচারক অভিযুক্তদের মুখোশ খুলে ফেলতে নির্দেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আদালতের কাছে ১৪ দিনের শারীরিক রিমান্ডের আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ভুক্তভোগীরা মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছেন। পাশাপাশি এই ঘটনায় পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়।
পাঁচ দিনের রিমান্ডের নির্দেশ
রাষ্ট্রপক্ষ ১৪ দিনের রিমান্ড চাইলেও আদালত চার অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের শারীরিক রিমান্ডে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। রিমান্ডে পাঠানোদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ও রয়েছেন।
আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন, রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হলে আগামী ৮ জুলাই অভিযুক্তদের পুনরায় আদালতে হাজির করতে হবে।
তদন্ত চলছে
মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ অভিযোগে উল্লিখিত অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং যৌন নির্যাতনের ঘটনায় প্রমাণ সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মামলায় মোট পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লাহোরে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে চার সন্দেহভাজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















