ইলন মাস্কের মহাকাশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক একটি নতুন ফোনসদৃশ ডিভাইসের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে। মানুষের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যোগাযোগের ধরন বদলে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ডিভাইসের নকশা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত এটি বাজারে আসবে কি না, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিনিয়োগকারীদের সামনে প্রোটোটাইপ
সম্প্রতি সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কিছু বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামনে এই প্রোটোটাইপ প্রদর্শন করা হয়। ডিভাইসটির নকশা অত্যন্ত পাতলা ও আধুনিক। এটি নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমে চলবে এবং স্পেসএক্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি সমন্বিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ডিভাইসটিতে উন্নতমানের প্রসেসর ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে চূড়ান্ত নকশা ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যে ভবিষ্যতে পরিবর্তন আসতে পারে।
মাস্কের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ
এই উদ্যোগকে ইলন মাস্কের বৃহত্তর প্রযুক্তিগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহাকাশ প্রযুক্তি, স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একত্রে ব্যবহার করে একটি সমন্বিত প্রযুক্তি পরিবেশ গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে মাস্ক একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অন্য প্রতিষ্ঠানের মোবাইল অপারেটিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নিজস্ব ভোক্তা ডিভাইস তৈরির বিষয়টি তিনি বিবেচনা করেছেন। যদিও চলতি বছরের শুরুতে তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন যে তার প্রতিষ্ঠান কোনো ফোন তৈরি করছে না।

‘সবকিছুর অ্যাপ’ ধারণার প্রতিফলন
নতুন ডিভাইসটির নকশায় মাস্কের বহুল আলোচিত ‘সবকিছুর অ্যাপ’ ধারণার প্রতিফলন রয়েছে। অর্থ লেনদেন, যোগাযোগ, কেনাকাটা, ভ্রমণ বুকিং, বিনোদন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নানা সেবা একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই এই ধারণা।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ ধরনের সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় সেই ধারণাকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করছে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।
বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডিভাইসের প্রতিযোগিতা
বিশ্বের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন প্রজন্মের ডিভাইস তৈরিতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কেউ স্মার্টফোন, কেউ পরিধানযোগ্য যন্ত্র, আবার কেউ বিশেষায়িত ডিভাইস নিয়ে কাজ করছে। লক্ষ্য একটাই—ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনের আরও বেশি সেবা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন হার্ডওয়্যার বাজারে সফল হওয়া সহজ নয়। তবু স্পেসএক্সের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্যাটেলাইট সংযোগ এবং ডিজিটাল সেবাকে একত্রে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন ফোনের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে স্পেসএক্স। প্রাথমিক পর্যায়ের এই প্রকল্প ভবিষ্যতের স্মার্ট ডিভাইস বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















