০২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
নকআউট লড়াই শুরু আজ: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মেসিদের সামনে মিসর, মুখোমুখি স্পেন-পর্তুগাল প্রকাশ্যেই থামিয়ে দিল উইম্বলডন: ‘যথেষ্ট সাদা নয়’ বলে মাত্তেও বেরেত্তিনির পোশাক বাতিল উইম্বলডনের আকাশের অঘোষিত প্রহরী ‘রুফাস’: এআই ও ড্রোন কি কেড়ে নেবে তার ১৮ বছরের দায়িত্ব? টেলর সুইফট–ট্রাভিস কেলসির বিয়ে: নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে জমকালো আয়োজনে পরিণতি দীর্ঘ জল্পনার বিশ্ববাজারে নতুন মোড়: তেল, প্রযুক্তি, তামা ও ইয়েনের সংকেত কী বলছে? চীনের নতুন কোস্ট গার্ড টহলে উত্তেজনা, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে বিরোধ আরও তীব্র আপসের ইঙ্গিতে জাপানে আবারও ইরানের তেল? মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ বাড়ানোর অপেক্ষায় ক্রেতারা সপ্তাহজুড়ে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য, তেহরানে খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জুলাই আন্দোলন নিয়ে অবমাননার অভিযোগে শাওন-মাহির বিরুদ্ধে জিডি মেসির জোড়া রেকর্ডে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা, লড়াকু কেপ ভার্দের স্বপ্নভঙ্গ

আপসের ইঙ্গিতে জাপানে আবারও ইরানের তেল? মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ বাড়ানোর অপেক্ষায় ক্রেতারা

ইরান আবারও জাপানে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে সম্ভাব্য জাপানি ক্রেতারা চুক্তিতে এগোনোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আরও বাড়ানো এবং তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এ বিষয়ে অবগত তিনটি ইরানি ও পশ্চিমা সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ৬০ দিনের শান্তি আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ২২ জুন একটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহতি (স্যাংশনস ওয়েভার) দিয়েছে। এই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২১ আগস্ট।

জাপানের আগ্রহ, তবে এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে

দুটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, জাপানের তিনটি প্রতিষ্ঠান ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার সম্ভাবনা যাচাই করছে। ২০১৯ সালের পর এটি হবে জাপানের প্রথম ইরানি তেল আমদানির উদ্যোগ।

Japan ready to resume oil imports from Iran if sanctions lifted - Tehran  Times

এদিকে বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি পশ্চিমা শিল্প সূত্র জানিয়েছে, জাপান ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্ভাব্য তেল বিক্রি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে।

তবে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমইটিআই) এক কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি এমন কোনো আলোচনা সম্পর্কে অবগত নন। একইভাবে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগও রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।

২০১৯ সালের পর কেন বন্ধ হয়েছিল তেল আমদানি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এরপর জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনই ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে রয়েছে।

মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া চুক্তি কঠিন

US ends Iran oil waiver this week: What it means for India, China and  supply crunch - World News | The Financial Express

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাপানে তেল পৌঁছাতে যে সময় লাগে, তা বিবেচনায় বর্তমান সাময়িক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহতির মেয়াদ যথেষ্ট নয়। ফলে কোনো বাস্তব চুক্তি কার্যকর করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এই ছাড়ের মেয়াদ বাড়াতে হবে।

তিনি আরও জানান, তেল ইরানের খার্গ দ্বীপ থেকে জাপানি পরিচালিত ট্যাংকারে পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি (এনআইওসি) জাপানসহ তাদের ঐতিহ্যবাহী ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে তারা যেন আবার ইরান থেকে তেল কেনা শুরু করে—এমন আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা ও বিমা বড় বাধা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

EXCLUSIVE: Iran exploring oil sales to Japan, buyers seek longer sanctions  waiver, sources say | Reuters

গত সপ্তাহে ওই প্রণালিতে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ইরানি বাহিনীর হামলার শিকার হয়। একই সঙ্গে ইরানের অভিজাত বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচলের আগে তাদের অনুমোদন প্রয়োজন।

জাপানের একটি বড় তেল পরিশোধন প্রতিষ্ঠানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে জাহাজের বিমা নিশ্চিত করা।

বাজারের বাস্তবতা

বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান স্বল্পমেয়াদি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অব্যাহতি এশিয়ার বড় তেল শোধনাগারগুলোকে নতুন করে ইরানি তেল কেনায় খুব বেশি উৎসাহিত করবে না। ফলে আপাতত চীনের স্বতন্ত্র তেল শোধনাগারগুলোই ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে থাকার সম্ভাবনা বেশি।

ইরান ও জাপানের মধ্যে তেল বাণিজ্য পুনরায় চালুর সম্ভাবনা তৈরি হলেও নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং জাহাজের বিমা—এই তিনটি বিষয়ই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নকআউট লড়াই শুরু আজ: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মেসিদের সামনে মিসর, মুখোমুখি স্পেন-পর্তুগাল

আপসের ইঙ্গিতে জাপানে আবারও ইরানের তেল? মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ বাড়ানোর অপেক্ষায় ক্রেতারা

০১:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

ইরান আবারও জাপানে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে সম্ভাব্য জাপানি ক্রেতারা চুক্তিতে এগোনোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আরও বাড়ানো এবং তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এ বিষয়ে অবগত তিনটি ইরানি ও পশ্চিমা সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ৬০ দিনের শান্তি আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ২২ জুন একটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহতি (স্যাংশনস ওয়েভার) দিয়েছে। এই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২১ আগস্ট।

জাপানের আগ্রহ, তবে এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে

দুটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, জাপানের তিনটি প্রতিষ্ঠান ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার সম্ভাবনা যাচাই করছে। ২০১৯ সালের পর এটি হবে জাপানের প্রথম ইরানি তেল আমদানির উদ্যোগ।

Japan ready to resume oil imports from Iran if sanctions lifted - Tehran  Times

এদিকে বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি পশ্চিমা শিল্প সূত্র জানিয়েছে, জাপান ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্ভাব্য তেল বিক্রি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে।

তবে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমইটিআই) এক কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি এমন কোনো আলোচনা সম্পর্কে অবগত নন। একইভাবে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগও রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।

২০১৯ সালের পর কেন বন্ধ হয়েছিল তেল আমদানি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এরপর জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনই ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে রয়েছে।

মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া চুক্তি কঠিন

US ends Iran oil waiver this week: What it means for India, China and  supply crunch - World News | The Financial Express

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাপানে তেল পৌঁছাতে যে সময় লাগে, তা বিবেচনায় বর্তমান সাময়িক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহতির মেয়াদ যথেষ্ট নয়। ফলে কোনো বাস্তব চুক্তি কার্যকর করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এই ছাড়ের মেয়াদ বাড়াতে হবে।

তিনি আরও জানান, তেল ইরানের খার্গ দ্বীপ থেকে জাপানি পরিচালিত ট্যাংকারে পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি (এনআইওসি) জাপানসহ তাদের ঐতিহ্যবাহী ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে তারা যেন আবার ইরান থেকে তেল কেনা শুরু করে—এমন আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা ও বিমা বড় বাধা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

EXCLUSIVE: Iran exploring oil sales to Japan, buyers seek longer sanctions  waiver, sources say | Reuters

গত সপ্তাহে ওই প্রণালিতে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ইরানি বাহিনীর হামলার শিকার হয়। একই সঙ্গে ইরানের অভিজাত বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচলের আগে তাদের অনুমোদন প্রয়োজন।

জাপানের একটি বড় তেল পরিশোধন প্রতিষ্ঠানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে জাহাজের বিমা নিশ্চিত করা।

বাজারের বাস্তবতা

বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান স্বল্পমেয়াদি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অব্যাহতি এশিয়ার বড় তেল শোধনাগারগুলোকে নতুন করে ইরানি তেল কেনায় খুব বেশি উৎসাহিত করবে না। ফলে আপাতত চীনের স্বতন্ত্র তেল শোধনাগারগুলোই ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে থাকার সম্ভাবনা বেশি।

ইরান ও জাপানের মধ্যে তেল বাণিজ্য পুনরায় চালুর সম্ভাবনা তৈরি হলেও নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং জাহাজের বিমা—এই তিনটি বিষয়ই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।