০২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
নকআউট লড়াই শুরু আজ: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মেসিদের সামনে মিসর, মুখোমুখি স্পেন-পর্তুগাল প্রকাশ্যেই থামিয়ে দিল উইম্বলডন: ‘যথেষ্ট সাদা নয়’ বলে মাত্তেও বেরেত্তিনির পোশাক বাতিল উইম্বলডনের আকাশের অঘোষিত প্রহরী ‘রুফাস’: এআই ও ড্রোন কি কেড়ে নেবে তার ১৮ বছরের দায়িত্ব? টেলর সুইফট–ট্রাভিস কেলসির বিয়ে: নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে জমকালো আয়োজনে পরিণতি দীর্ঘ জল্পনার বিশ্ববাজারে নতুন মোড়: তেল, প্রযুক্তি, তামা ও ইয়েনের সংকেত কী বলছে? চীনের নতুন কোস্ট গার্ড টহলে উত্তেজনা, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে বিরোধ আরও তীব্র আপসের ইঙ্গিতে জাপানে আবারও ইরানের তেল? মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ বাড়ানোর অপেক্ষায় ক্রেতারা সপ্তাহজুড়ে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য, তেহরানে খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জুলাই আন্দোলন নিয়ে অবমাননার অভিযোগে শাওন-মাহির বিরুদ্ধে জিডি মেসির জোড়া রেকর্ডে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা, লড়াকু কেপ ভার্দের স্বপ্নভঙ্গ

চীনের নতুন কোস্ট গার্ড টহলে উত্তেজনা, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে বিরোধ আরও তীব্র

তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের জলসীমায় নতুন করে কোস্ট গার্ড টহল শুরু করেছে চীন। শনিবার বেইজিং এ ঘোষণা দেওয়ার পরই এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তাইপে। তাইওয়ানের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চীন অবৈধভাবে নিজেদের ক্ষমতার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি।

এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন গত মাসে একই এলাকায় চীনের কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের উদ্বেগের কারণ হয়েছিল।

পূর্ব উপকূলে নতুন টহল

চীনের কোস্ট গার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন বহরটি সংশ্লিষ্ট এলাকায় “আইন প্রয়োগমূলক টহল” পরিচালনা করবে। তাদের দাবি, এটি চীনের এখতিয়ারভুক্ত জলসীমায় নিয়মিত আইন প্রয়োগের অংশ এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের টহল আরও জোরদার করা হবে।

বেইজিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য চীনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব এবং সামুদ্রিক অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা।

China, Taiwan spar over legality of coast guard patrols east of island |  Reuters

তাইওয়ানের কঠোর প্রতিক্রিয়া

চীনের ঘোষণার পরপরই তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডবিষয়ক পরিষদ (মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল) এক বিবৃতিতে জানায়, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলীয় জলসীমার ওপর চীনের কোনো সার্বভৌমত্ব বা এখতিয়ার নেই। ফলে সেখানে চীনা সরকারি জাহাজের আইন প্রয়োগেরও কোনো বৈধ অধিকার নেই।

তাইপের মতে, চীনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার শামিল।

নজরদারিতে উভয় পক্ষ

তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তারা দুটি চীনা কোস্ট গার্ড জাহাজকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। একই সঙ্গে নিজেদের দুটি জাহাজও মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে চীনা জাহাজগুলোর গতিবিধি নিবিড়ভাবে নজরদারি করা যায়।

শনিবার সকাল পর্যন্ত চীনা জাহাজ দুটি তাইওয়ানের হুয়ালিয়েন এলাকার পূর্বদিকে প্রায় ৫৪ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। এলাকাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির নিকটবর্তী হলেও জাহাজগুলো তখনও নিষিদ্ধ জলসীমায় প্রবেশ করেনি।

তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড বলেছে, প্রয়োজন হলে তারা দেশের জলসীমায় হয়রানিমূলক কার্যক্রম চালানো চীনা জাহাজগুলোকে প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

Taiwan raises alert to ‘high’ amid presence of Chinese warships

ক্রমেই বাড়ছে উত্তেজনা

প্রায় এক মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার, যখন চীন তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় কোস্ট গার্ড জাহাজ পাঠাল। বিষয়টি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চীনের দাবি, জুন মাসের প্রথম অভিযানের পেছনে কারণ ছিল জাপান ও ফিলিপাইনের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর ঘোষণা। বেইজিংয়ের মতে, আলোচনায় এমন কিছু জলসীমা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলো চীনের দাবি করা এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এদিকে গত বুধবার তাইওয়ান তাদের পূর্ব উপকূলে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নির্দেশ দেয়, চীনের কোস্ট গার্ড যদি জাহাজে ওঠা বা তল্লাশির নির্দেশ দেয়, তবে তা উপেক্ষা করতে। প্রয়োজন হলে তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে বলেও জানানো হয়।

বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু

China, Taiwan spar over legality of coast guard patrols east of island -  The Economic Times

চীন গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে এবং দ্বীপটির ওপর অন্য কোনো সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে না। অন্যদিকে তাইওয়ান বরাবরই বলে আসছে, চীনের দ্বীপ কিংবা এর আশপাশের জলসীমার ওপর কোনো সার্বভৌমত্ব বা আইনগত এখতিয়ার নেই।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় ইংরেজিতে একটি তথাকথিত “আইনি মতামত” প্রকাশ করে, যেখানে জাপান ও ফিলিপাইনের সমুদ্রসীমা আলোচনা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, এ ধরনের বিষয়ে জাপান ও ফিলিপাইনের উচিত চীনের সঙ্গে আলোচনা করা, তাইওয়ানের সঙ্গে নয়। পাশাপাশি অন্য দেশগুলোকেও এ বিষয়ে সহায়তা না করার আহ্বান জানানো হয়।

তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে নতুন কোস্ট গার্ড টহল ঘিরে চীন-তাইওয়ান বিরোধ আবারও নতুন মাত্রা পেল। উভয় পক্ষের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নকআউট লড়াই শুরু আজ: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মেসিদের সামনে মিসর, মুখোমুখি স্পেন-পর্তুগাল

চীনের নতুন কোস্ট গার্ড টহলে উত্তেজনা, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে বিরোধ আরও তীব্র

০১:৩৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের জলসীমায় নতুন করে কোস্ট গার্ড টহল শুরু করেছে চীন। শনিবার বেইজিং এ ঘোষণা দেওয়ার পরই এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তাইপে। তাইওয়ানের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চীন অবৈধভাবে নিজেদের ক্ষমতার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি।

এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন গত মাসে একই এলাকায় চীনের কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের উদ্বেগের কারণ হয়েছিল।

পূর্ব উপকূলে নতুন টহল

চীনের কোস্ট গার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন বহরটি সংশ্লিষ্ট এলাকায় “আইন প্রয়োগমূলক টহল” পরিচালনা করবে। তাদের দাবি, এটি চীনের এখতিয়ারভুক্ত জলসীমায় নিয়মিত আইন প্রয়োগের অংশ এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের টহল আরও জোরদার করা হবে।

বেইজিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য চীনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব এবং সামুদ্রিক অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা।

China, Taiwan spar over legality of coast guard patrols east of island |  Reuters

তাইওয়ানের কঠোর প্রতিক্রিয়া

চীনের ঘোষণার পরপরই তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডবিষয়ক পরিষদ (মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল) এক বিবৃতিতে জানায়, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলীয় জলসীমার ওপর চীনের কোনো সার্বভৌমত্ব বা এখতিয়ার নেই। ফলে সেখানে চীনা সরকারি জাহাজের আইন প্রয়োগেরও কোনো বৈধ অধিকার নেই।

তাইপের মতে, চীনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার শামিল।

নজরদারিতে উভয় পক্ষ

তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তারা দুটি চীনা কোস্ট গার্ড জাহাজকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। একই সঙ্গে নিজেদের দুটি জাহাজও মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে চীনা জাহাজগুলোর গতিবিধি নিবিড়ভাবে নজরদারি করা যায়।

শনিবার সকাল পর্যন্ত চীনা জাহাজ দুটি তাইওয়ানের হুয়ালিয়েন এলাকার পূর্বদিকে প্রায় ৫৪ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। এলাকাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির নিকটবর্তী হলেও জাহাজগুলো তখনও নিষিদ্ধ জলসীমায় প্রবেশ করেনি।

তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড বলেছে, প্রয়োজন হলে তারা দেশের জলসীমায় হয়রানিমূলক কার্যক্রম চালানো চীনা জাহাজগুলোকে প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

Taiwan raises alert to ‘high’ amid presence of Chinese warships

ক্রমেই বাড়ছে উত্তেজনা

প্রায় এক মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার, যখন চীন তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় কোস্ট গার্ড জাহাজ পাঠাল। বিষয়টি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চীনের দাবি, জুন মাসের প্রথম অভিযানের পেছনে কারণ ছিল জাপান ও ফিলিপাইনের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর ঘোষণা। বেইজিংয়ের মতে, আলোচনায় এমন কিছু জলসীমা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলো চীনের দাবি করা এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এদিকে গত বুধবার তাইওয়ান তাদের পূর্ব উপকূলে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নির্দেশ দেয়, চীনের কোস্ট গার্ড যদি জাহাজে ওঠা বা তল্লাশির নির্দেশ দেয়, তবে তা উপেক্ষা করতে। প্রয়োজন হলে তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে বলেও জানানো হয়।

বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু

China, Taiwan spar over legality of coast guard patrols east of island -  The Economic Times

চীন গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে এবং দ্বীপটির ওপর অন্য কোনো সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে না। অন্যদিকে তাইওয়ান বরাবরই বলে আসছে, চীনের দ্বীপ কিংবা এর আশপাশের জলসীমার ওপর কোনো সার্বভৌমত্ব বা আইনগত এখতিয়ার নেই।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় ইংরেজিতে একটি তথাকথিত “আইনি মতামত” প্রকাশ করে, যেখানে জাপান ও ফিলিপাইনের সমুদ্রসীমা আলোচনা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, এ ধরনের বিষয়ে জাপান ও ফিলিপাইনের উচিত চীনের সঙ্গে আলোচনা করা, তাইওয়ানের সঙ্গে নয়। পাশাপাশি অন্য দেশগুলোকেও এ বিষয়ে সহায়তা না করার আহ্বান জানানো হয়।

তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে নতুন কোস্ট গার্ড টহল ঘিরে চীন-তাইওয়ান বিরোধ আবারও নতুন মাত্রা পেল। উভয় পক্ষের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।