প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টেনিস আসর উইম্বলডনের আকাশে টহল দিয়ে আসছে এক বিশেষ সদস্য—‘রুফাস’ নামের একটি হ্যারিস হক। তার কাজ একটাই: কবুতরসহ অন্যান্য পাখিকে দূরে রেখে কোর্টের পরিবেশ নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন রাখা। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে এই ঐতিহ্যবাহী দায়িত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
১৮ বছর ধরে উইম্বলডনের আকাশে
যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারিস হক প্রজাতির এই শিকারি পাখি ২০০৮ সালে মাত্র ১৮ সপ্তাহ বয়সে প্রথম উইম্বলডনে দায়িত্ব পালন শুরু করে। এরপর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের অল ইংল্যান্ড লন টেনিস ক্লাবের আকাশে নিয়মিত টহল দিয়ে আসছে সে। তার উপস্থিতি কবুতরসহ অন্যান্য পাখিকে দূরে রাখে, ফলে খেলার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।
প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ
রুফাসের প্রশিক্ষক ডোনা ডেভিসের মতে, প্রযুক্তি এখন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত ড্রোন ও এআইভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে ভবিষ্যতে শিকারি পাখির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে তিনি মনে করেন, বাস্তব শিকারি পাখির বিকল্প এখনো প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারেনি। তার ভাষ্য, কৃত্রিম পাখি বা ড্রোন দেখে বন্য পাখিরা দ্রুত বুঝে ফেলে যে সেটি যান্ত্রিক বস্তু। কিছুদিন পর তারা সেটিকে আর ভয় পায় না। কিন্তু প্রকৃত শিকারির উপস্থিতি তাদের কাছে সব সময়ই জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। তাই স্বাভাবিকভাবেই তারা এলাকা ছেড়ে সরে যায়।
উইম্বলডনের অবস্থান
অল ইংল্যান্ড ক্লাব জানিয়েছে, রুফাসের ভূমিকা বন্ধ করা বা প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে প্রতিস্থাপনের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। অর্থাৎ আপাতত উইম্বলডনের আকাশে তার টহল অব্যাহত থাকবে।
উত্তরাধিকার ধরে রাখার পরিকল্পনা

ডোনা ডেভিস জানান, রুফাস প্রায় ৩৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে এবং কাজ করতে পারে। তবে তিনি চান, ভবিষ্যতের জন্য রুফাসের বংশধর তৈরি হোক, যাতে উইম্বলডনের এই দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় থাকে।
এর আগে ‘পামেলা’ নামের অপেক্ষাকৃত প্রভাবশালী একটি স্ত্রী হকের সঙ্গে রুফাসের মিলনের চেষ্টা করা হলেও সেটি সফল হয়নি। ডেভিস জানান, সে সময় রুফাস কিছুটা আঘাত পেলেও সুস্থ হয়ে ওঠে। তবু তিনি আশাবাদী যে পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হক হিসেবে রুফাসের এখনো প্রজননের সক্ষমতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তার বংশধর দেখা যেতে পারে।
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা
এ বছরের উইম্বলডন শুরুর ঠিক আগে রুফাস এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। মধ্য লন্ডনে কাজ করার সময় একদল সিগালের তাড়ায় সে একটি উষ্ণ বায়ুপ্রবাহে ভেসে অনেক উঁচুতে উঠে যায়। এতে ডোনা ডেভিস তার চোখের আড়ালে চলে যান এবং জিপিএস সংযোগও হারিয়ে ফেলেন।
প্রায় তিন ঘণ্টার সেই ঘটনায় ডেভিস চরম আতঙ্কে ছিলেন। পরে রুফাসকে আবার দেখা গেলেও একটি পেরেগ্রিন ফ্যালকন তাকে তাড়া করে এবং একপর্যায়ে ধরে ফেলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সে নিজেকে মুক্ত করে নিরাপদে ডেভিসের কাছে ফিরে আসে। ডেভিসের ভাষায়, এমন ঘটনা তিনি আগে কখনো দেখেননি।
রুফাসকে ঘিরে এই ঘটনা শুধু একটি শিকারি পাখির গল্প নয়; এটি ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যকার চলমান বিতর্কেরও প্রতীক। অন্তত এখন পর্যন্ত উইম্বলডনের আকাশে সেই ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে রুফাস।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















