০১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকি, গ্রামাঞ্চলে বাড়ছে আতঙ্ক জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার ভিসুভিয়াসের আগুনে পুড়ে যাওয়া দুই হাজার বছরের পাণ্ডুলিপি অবশেষে পড়া যাচ্ছে, ইতিহাসে নতুন দিগন্তের আশা আপনার টমেটো সসের বোতলে কেন এখনও রাজত্ব করছে হেইঞ্জ, দেড় শতকের সাফল্যের নেপথ্যের গল্প আমেরিকায় বাড়ছে বারবিকিউর খরচ, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে পরিবারগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভরসায় আইনি লড়াই, বাড়ছে ভুল মামলা ও আদালতের উদ্বেগ তেলের দামে নয়, বাণিজ্যেই বড় লাভ: জ্বালানি সংকটে নতুন শক্তি হয়ে উঠছে ইউরোপের তেল কোম্পানিগুলো প্রযুক্তির শক্তিকে কূটনৈতিক অস্ত্র বানাতে চায় তাইওয়ান? চিপ শিল্প ঘিরে নতুন ভূরাজনৈতিক হিসাব দুই কেমব্রিজের গল্প: গবেষণায় এগিয়ে ব্রিটেন, বাণিজ্যিক সাফল্যে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র জার্মানির অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বড় সংস্কার পরিকল্পনা, রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা সবুজ প্রযুক্তির নতুন সমীকরণ, কারখানা যাচ্ছে, প্রযুক্তি থেকে যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা মালিকানাধীন সবুজ জ্বালানি কোম্পানিগুলোর অবস্থান দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নতুন আইন ও সরকারি নীতির কারণে একের পর এক কারখানা, প্রকল্প এবং বিনিয়োগ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে গেলেও প্রযুক্তি, উৎপাদন দক্ষতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বড় অংশ এখনো চীনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে মালিকানা বদলালেও নির্ভরতার বাস্তবতা পুরোপুরি বদলাচ্ছে না।

নতুন এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ জ্বালানি শিল্পে একদিকে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সম্পর্ক ছিন্ন করা কতটা কঠিন, সেটিও সামনে এনে দিয়েছে।

চীনা বিনিয়োগে বড় ধাক্কা

গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি শিল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক বিনিয়োগ করেছিল। ভর্তুকি এবং কর-সুবিধার কারণে দেশটি তাদের জন্য লাভজনক বাজারে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু নতুন আইনের ফলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন কোম্পানিগুলো আর সরকারি প্রণোদনা পাচ্ছে না।

এর ফলে বহু প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানা বিক্রি করছে, বিনিয়োগ স্থগিত করছে অথবা স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে সম্পদ হস্তান্তর করছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রকল্পগুলো নির্মাণ ব্যয়ের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে।

China's green tech firms target new consumers hit by Iran war energy shock  - The Japan Times

কারখানা বদলালেও প্রযুক্তি একই

যেসব সৌর প্যানেল কারখানা যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় এসেছে, সেগুলোর অধিকাংশই চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মিত। উৎপাদন লাইন, যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তিগত নকশার বড় অংশ আগের মতোই রয়েছে।

অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় অংশীদারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তুলছে যাতে আইনি শর্ত পূরণ করা যায়। তবে এসব অংশীদারত্বের মূল লক্ষ্য প্রযুক্তি বিনিময় নয়, বরং নতুন নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা।

কঠোর নিয়মে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

নতুন বিধানের আওতায় চীনা মালিকানার সীমা, প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম এবং কাঁচামালের উৎস নিয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত হতে পারছে না যে তারা ভবিষ্যতেও সরকারি সুবিধা পাবে কি না।

এই অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী অনেক কোম্পানিও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে নতুন বিনিয়োগের গতি কিছু ক্ষেত্রে কমে এসেছে।

চীনের পাল্টা প্রস্তুতি

When superpowers collide: six takeaways for tech investors from the US-China  trade dispute

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, চীনও বিদেশে নিজেদের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ রক্ষায় নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রযুক্তি রপ্তানির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিদেশি সরকারের বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের জবাব দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ফলে চীনা কোম্পানিগুলো এখন প্রযুক্তি সহজে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হয়ে উঠছে।

নির্ভরতা কমানো কেন কঠিন

সবুজ জ্বালানি শিল্পে চীনের অবস্থান এতটাই শক্তিশালী যে শুধু মালিকানা বদলালেই সরবরাহ শৃঙ্খল বদলে যায় না। সৌর প্যানেলের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল পলিসিলিকনের বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় পুরোটা চীনের নিয়ন্ত্রণে।

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মালিকানাধীন কারখানাগুলোকেও এখনো বিভিন্ন পর্যায়ে চীনা প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ কিংবা কাঁচামালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা অধিগ্রহণ করা কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। নতুন সৌর সেল, ব্যাটারি এবং অন্যান্য সবুজ প্রযুক্তি উৎপাদনে আরও বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে।

China's green tech firms pour billions into overseas factories - The  Economic Times

শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু শুধু পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নয়; বরং প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের নিয়ন্ত্রণও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই ভবিষ্যতের সবুজ জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন চীনা কোম্পানিগুলোর মালিকানা কমিয়ে দিলেও তাদের প্রযুক্তিগত প্রভাব এখনো পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। ফলে সবুজ জ্বালানি খাতে নতুন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে কারখানার মালিক বদলাচ্ছে, কিন্তু প্রযুক্তির ছাপ রয়ে যাচ্ছে।

সবুজ জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি বাড়ছে। নতুন আইন, প্রযুক্তি নির্ভরতা ও বিনিয়োগের নতুন সমীকরণ নিয়ে বিস্তারিত।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকি, গ্রামাঞ্চলে বাড়ছে আতঙ্ক

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা সবুজ প্রযুক্তির নতুন সমীকরণ, কারখানা যাচ্ছে, প্রযুক্তি থেকে যাচ্ছে

১১:১৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা মালিকানাধীন সবুজ জ্বালানি কোম্পানিগুলোর অবস্থান দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নতুন আইন ও সরকারি নীতির কারণে একের পর এক কারখানা, প্রকল্প এবং বিনিয়োগ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে গেলেও প্রযুক্তি, উৎপাদন দক্ষতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বড় অংশ এখনো চীনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে মালিকানা বদলালেও নির্ভরতার বাস্তবতা পুরোপুরি বদলাচ্ছে না।

নতুন এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ জ্বালানি শিল্পে একদিকে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সম্পর্ক ছিন্ন করা কতটা কঠিন, সেটিও সামনে এনে দিয়েছে।

চীনা বিনিয়োগে বড় ধাক্কা

গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি শিল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক বিনিয়োগ করেছিল। ভর্তুকি এবং কর-সুবিধার কারণে দেশটি তাদের জন্য লাভজনক বাজারে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু নতুন আইনের ফলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন কোম্পানিগুলো আর সরকারি প্রণোদনা পাচ্ছে না।

এর ফলে বহু প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানা বিক্রি করছে, বিনিয়োগ স্থগিত করছে অথবা স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে সম্পদ হস্তান্তর করছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রকল্পগুলো নির্মাণ ব্যয়ের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে।

China's green tech firms target new consumers hit by Iran war energy shock  - The Japan Times

কারখানা বদলালেও প্রযুক্তি একই

যেসব সৌর প্যানেল কারখানা যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় এসেছে, সেগুলোর অধিকাংশই চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মিত। উৎপাদন লাইন, যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তিগত নকশার বড় অংশ আগের মতোই রয়েছে।

অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় অংশীদারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তুলছে যাতে আইনি শর্ত পূরণ করা যায়। তবে এসব অংশীদারত্বের মূল লক্ষ্য প্রযুক্তি বিনিময় নয়, বরং নতুন নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা।

কঠোর নিয়মে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

নতুন বিধানের আওতায় চীনা মালিকানার সীমা, প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম এবং কাঁচামালের উৎস নিয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত হতে পারছে না যে তারা ভবিষ্যতেও সরকারি সুবিধা পাবে কি না।

এই অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী অনেক কোম্পানিও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে নতুন বিনিয়োগের গতি কিছু ক্ষেত্রে কমে এসেছে।

চীনের পাল্টা প্রস্তুতি

When superpowers collide: six takeaways for tech investors from the US-China  trade dispute

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, চীনও বিদেশে নিজেদের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ রক্ষায় নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রযুক্তি রপ্তানির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিদেশি সরকারের বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের জবাব দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ফলে চীনা কোম্পানিগুলো এখন প্রযুক্তি সহজে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হয়ে উঠছে।

নির্ভরতা কমানো কেন কঠিন

সবুজ জ্বালানি শিল্পে চীনের অবস্থান এতটাই শক্তিশালী যে শুধু মালিকানা বদলালেই সরবরাহ শৃঙ্খল বদলে যায় না। সৌর প্যানেলের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল পলিসিলিকনের বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় পুরোটা চীনের নিয়ন্ত্রণে।

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মালিকানাধীন কারখানাগুলোকেও এখনো বিভিন্ন পর্যায়ে চীনা প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ কিংবা কাঁচামালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা অধিগ্রহণ করা কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। নতুন সৌর সেল, ব্যাটারি এবং অন্যান্য সবুজ প্রযুক্তি উৎপাদনে আরও বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে।

China's green tech firms pour billions into overseas factories - The  Economic Times

শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু শুধু পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নয়; বরং প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের নিয়ন্ত্রণও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই ভবিষ্যতের সবুজ জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন চীনা কোম্পানিগুলোর মালিকানা কমিয়ে দিলেও তাদের প্রযুক্তিগত প্রভাব এখনো পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। ফলে সবুজ জ্বালানি খাতে নতুন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে কারখানার মালিক বদলাচ্ছে, কিন্তু প্রযুক্তির ছাপ রয়ে যাচ্ছে।

সবুজ জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি বাড়ছে। নতুন আইন, প্রযুক্তি নির্ভরতা ও বিনিয়োগের নতুন সমীকরণ নিয়ে বিস্তারিত।