০২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
হাইলাইট: দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত? চীনের তথ্যযুদ্ধ: জাপানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ জনমত ইরানে খামেনির গণশেষকৃত্য শুরু, লাখো মানুষের শোকযাত্রায় উত্তাল তেহরান মালয়েশিয়ায় দুরিয়ানের বাম্পার ফলন, ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে দাম পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো মেশিন: ভুল পরিকল্পনায় বিপাকে হাজারো কৃষক জেলার চিকিৎসা ব্যর্থ, ঢাকায় শেষ ভরসা: হামের রোগীতে উপচে পড়ছে শিশু হাসপাতাল প্রিপেইড মিটারের ভাড়া বহাল, প্রত্যাহারের খবর ছিল গুজব দেশের ৯ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেশজুড়ে ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকি, গ্রামাঞ্চলে বাড়ছে আতঙ্ক জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

চীনের তথ্যযুদ্ধ: জাপানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ জনমত

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, বিদেশি তথ্যপ্রভাব বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে জাপান তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত। ভাষাগত স্বাতন্ত্র্য, শক্তিশালী দেশীয় সংবাদমাধ্যম এবং সীমিত বিদেশি তথ্যপ্রবাহ—এই তিনটি বিষয় দেশটির তথ্যপরিসরকে কার্যকরভাবে রক্ষা করেছে। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং সংবাদ গ্রহণের অভ্যাসে আমূল রূপান্তর সেই নিরাপত্তা বলয়কে ক্রমেই দুর্বল করে দিচ্ছে।

আজকের বাস্তবতায় তথ্যপ্রভাব আর কেবল ভুয়া খবর ছড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং আরও সূক্ষ্ম একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক বক্তব্যকে সাধারণ সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ফলে পাঠক বুঝতেই পারছেন না যে তিনি সংবাদ পড়ছেন, নাকি একটি কৌশলে সাজানো রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করছেন।

রাষ্ট্রের ভাষ্য যখন সংবাদে রূপ নেয়

আধুনিক তথ্যযুদ্ধের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, প্রচারণাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা যাতে সেটি প্রচারণা বলে মনে না হয়। কোনো রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত মতামতধর্মী লেখা অনুবাদ, সম্পাদনা বা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে পরে নিরপেক্ষ সংবাদ প্রতিবেদনের চেহারা পায়। লেখকের নাম বা “মন্তব্য” পরিচয় বাদ পড়ে গেলে সাধারণ পাঠকের কাছে সেটি আর মতামত হিসেবে নয়, বরং তথ্যভিত্তিক সংবাদ হিসেবেই গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

এই প্রক্রিয়া কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি একটি সুসংগঠিত তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ, যেখানে মূল উৎস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদ সংগ্রাহক প্ল্যাটফর্ম, আঞ্চলিক সম্প্রচারমাধ্যম এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত একই বয়ান ধারাবাহিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ধরনের ব্যবস্থায় মূল বার্তা পরিবর্তিত হয় না; পরিবর্তিত হয় তার উপস্থাপনের ধরন। আর সেটিই তথ্যপ্রভাবের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

অ্যালগরিদমও হতে পারে প্রভাবের বাহক

1 in 3 people believe they don't have to seek news from traditional outlets  like newspapers and television. Instead, they think the “news will find me”  (NFM), relying on algorithms and social

বর্তমান সংবাদজগতে বিপুলসংখ্যক মানুষ সরাসরি সংবাদপত্রে নয়, বরং মোবাইল অ্যাপ, নিউজ অ্যাগ্রিগেটর কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে খবর পড়েন। এসব প্ল্যাটফর্মে কোনো লেখা দ্রুত একাধিক মাধ্যমে একই সময়ে প্রকাশিত হলে সেটি পাঠকের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হতে পারে।

সমস্যা এখানেই। একটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সূত্র থেকে উৎপন্ন তথ্য যদি খুব অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে একই রূপে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেই বার্তা ক্রমশ মূলধারার তথ্যের অংশে পরিণত হয়। অধিকাংশ ব্যবহারকারী উৎসের রাজনৈতিক পরিচয় বা সম্পাদকীয় অবস্থান যাচাই করেন না। ফলে একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের কৌশলগত বক্তব্য অনায়াসেই সাধারণ সংবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।

এটি কেবল প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এটি গণতান্ত্রিক সমাজে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কেও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বদলে গেছে যুদ্ধের নিয়ম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত ভাষা অনুবাদ প্রযুক্তি তথ্যযুদ্ধকে আরও জটিল করেছে। আগে ভাষাগত সীমাবদ্ধতা বিদেশি প্রচারণাকে আটকে রাখলেও এখন উন্নত অনুবাদ ব্যবস্থার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে স্থানীয় ভাষায় মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তার। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ সংবাদ গ্রহণ করছে এমন সব প্ল্যাটফর্ম থেকে, যেগুলো প্রচলিত সম্পাদকীয় যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় পড়ে না। ফলে তথ্যপ্রভাবের জন্য নতুন ও বিস্তৃত ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট, কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কিংবা স্থানীয় পরিচয়ে পরিচালিত ডিজিটাল উপস্থিতি একই বার্তাকে বারবার সামনে এনে একটি নির্দিষ্ট ধারণাকে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে।

The Global Media Landscape and the Consumption of English-Language  International News: 2019-2022 | Al Jazeera Centre for Studies

সব প্রচারণা সরাসরি প্রচারণা নয়

আধুনিক প্রভাব অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এতে সব সময় প্রকাশ্য পক্ষপাত থাকে না। বরং স্থানীয় সমাজের বাস্তব ঘটনা, সীমিত প্রতিবাদ, বিচ্ছিন্ন মতামত কিংবা প্রকৃত উদ্বেগকে নির্বাচন করে এমনভাবে তুলে ধরা হয়, যাতে পুরো সমাজের অবস্থান সম্পর্কে একটি বিকৃত ধারণা তৈরি হয়।

এভাবে একটি ছোট ঘটনা বড় সামাজিক প্রবণতা হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে। আবার কোনো একটি মতামতকে এমনভাবে প্রচার করা হয় যেন সেটিই সংখ্যাগরিষ্ঠের অবস্থান। ফলস্বরূপ মানুষ শুধু ঘটনাই জানে না; তারা একই সঙ্গে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে অন্য সবাইও ঠিক এভাবেই ভাবছে।

গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়, কারণ জনমতের ধারণা অনেক সময় প্রকৃত জনমতের মতোই প্রভাব বিস্তার করে।

নিরাপত্তার প্রশ্ন এখন জনমতের প্রশ্নও

জাপানের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংস্কার, গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাংবিধানিক বিতর্ক কেবল সামরিক নীতির বিষয় নয়; এগুলো রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপরও নির্ভরশীল। আর সেই কারণেই জনমত এখন কৌশলগত প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

Japan's Latest Strategy Review Details the Growing Threats It Faces -  Business Insider

যদি জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যায়, সরকারের প্রতি আস্থা কমিয়ে দেওয়া যায় অথবা নিরাপত্তা সংস্কারকে ঘিরে অপ্রয়োজনীয় মেরুকরণ তৈরি করা যায়, তাহলে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ ছাড়াই একটি দেশের কৌশলগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করা সম্ভব।

এই বাস্তবতায় তথ্যপ্রবাহ আর কেবল যোগাযোগের বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তারও অংশ।

সময়ের দাবি

জাপানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সম্ভবত আর কেবল সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নয়। বরং নাগরিকরা যে তথ্য পাচ্ছেন, তার উৎস, প্রেক্ষাপট এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ডিজিটাল যুগে যুদ্ধের প্রথম মঞ্চ অনেক সময় সীমান্ত নয়, মানুষের মন। আর সেই মনোজগতকে প্রভাবিত করার প্রতিযোগিতাই আগামী দিনের নিরাপত্তা পরিবেশকে নির্ধারণ করতে পারে। তাই তথ্যের স্বচ্ছতা, উৎসের নির্ভরযোগ্যতা এবং গণমাধ্যমের জবাবদিহি—এই তিনটি বিষয় ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইলাইট: দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত?

চীনের তথ্যযুদ্ধ: জাপানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ জনমত

০২:২০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, বিদেশি তথ্যপ্রভাব বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে জাপান তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত। ভাষাগত স্বাতন্ত্র্য, শক্তিশালী দেশীয় সংবাদমাধ্যম এবং সীমিত বিদেশি তথ্যপ্রবাহ—এই তিনটি বিষয় দেশটির তথ্যপরিসরকে কার্যকরভাবে রক্ষা করেছে। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং সংবাদ গ্রহণের অভ্যাসে আমূল রূপান্তর সেই নিরাপত্তা বলয়কে ক্রমেই দুর্বল করে দিচ্ছে।

আজকের বাস্তবতায় তথ্যপ্রভাব আর কেবল ভুয়া খবর ছড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং আরও সূক্ষ্ম একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক বক্তব্যকে সাধারণ সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ফলে পাঠক বুঝতেই পারছেন না যে তিনি সংবাদ পড়ছেন, নাকি একটি কৌশলে সাজানো রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করছেন।

রাষ্ট্রের ভাষ্য যখন সংবাদে রূপ নেয়

আধুনিক তথ্যযুদ্ধের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, প্রচারণাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা যাতে সেটি প্রচারণা বলে মনে না হয়। কোনো রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত মতামতধর্মী লেখা অনুবাদ, সম্পাদনা বা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে পরে নিরপেক্ষ সংবাদ প্রতিবেদনের চেহারা পায়। লেখকের নাম বা “মন্তব্য” পরিচয় বাদ পড়ে গেলে সাধারণ পাঠকের কাছে সেটি আর মতামত হিসেবে নয়, বরং তথ্যভিত্তিক সংবাদ হিসেবেই গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

এই প্রক্রিয়া কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি একটি সুসংগঠিত তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ, যেখানে মূল উৎস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদ সংগ্রাহক প্ল্যাটফর্ম, আঞ্চলিক সম্প্রচারমাধ্যম এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত একই বয়ান ধারাবাহিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ধরনের ব্যবস্থায় মূল বার্তা পরিবর্তিত হয় না; পরিবর্তিত হয় তার উপস্থাপনের ধরন। আর সেটিই তথ্যপ্রভাবের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

অ্যালগরিদমও হতে পারে প্রভাবের বাহক

1 in 3 people believe they don't have to seek news from traditional outlets  like newspapers and television. Instead, they think the “news will find me”  (NFM), relying on algorithms and social

বর্তমান সংবাদজগতে বিপুলসংখ্যক মানুষ সরাসরি সংবাদপত্রে নয়, বরং মোবাইল অ্যাপ, নিউজ অ্যাগ্রিগেটর কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে খবর পড়েন। এসব প্ল্যাটফর্মে কোনো লেখা দ্রুত একাধিক মাধ্যমে একই সময়ে প্রকাশিত হলে সেটি পাঠকের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হতে পারে।

সমস্যা এখানেই। একটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সূত্র থেকে উৎপন্ন তথ্য যদি খুব অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে একই রূপে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেই বার্তা ক্রমশ মূলধারার তথ্যের অংশে পরিণত হয়। অধিকাংশ ব্যবহারকারী উৎসের রাজনৈতিক পরিচয় বা সম্পাদকীয় অবস্থান যাচাই করেন না। ফলে একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের কৌশলগত বক্তব্য অনায়াসেই সাধারণ সংবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।

এটি কেবল প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এটি গণতান্ত্রিক সমাজে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কেও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বদলে গেছে যুদ্ধের নিয়ম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত ভাষা অনুবাদ প্রযুক্তি তথ্যযুদ্ধকে আরও জটিল করেছে। আগে ভাষাগত সীমাবদ্ধতা বিদেশি প্রচারণাকে আটকে রাখলেও এখন উন্নত অনুবাদ ব্যবস্থার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে স্থানীয় ভাষায় মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তার। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ সংবাদ গ্রহণ করছে এমন সব প্ল্যাটফর্ম থেকে, যেগুলো প্রচলিত সম্পাদকীয় যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় পড়ে না। ফলে তথ্যপ্রভাবের জন্য নতুন ও বিস্তৃত ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট, কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কিংবা স্থানীয় পরিচয়ে পরিচালিত ডিজিটাল উপস্থিতি একই বার্তাকে বারবার সামনে এনে একটি নির্দিষ্ট ধারণাকে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে।

The Global Media Landscape and the Consumption of English-Language  International News: 2019-2022 | Al Jazeera Centre for Studies

সব প্রচারণা সরাসরি প্রচারণা নয়

আধুনিক প্রভাব অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এতে সব সময় প্রকাশ্য পক্ষপাত থাকে না। বরং স্থানীয় সমাজের বাস্তব ঘটনা, সীমিত প্রতিবাদ, বিচ্ছিন্ন মতামত কিংবা প্রকৃত উদ্বেগকে নির্বাচন করে এমনভাবে তুলে ধরা হয়, যাতে পুরো সমাজের অবস্থান সম্পর্কে একটি বিকৃত ধারণা তৈরি হয়।

এভাবে একটি ছোট ঘটনা বড় সামাজিক প্রবণতা হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে। আবার কোনো একটি মতামতকে এমনভাবে প্রচার করা হয় যেন সেটিই সংখ্যাগরিষ্ঠের অবস্থান। ফলস্বরূপ মানুষ শুধু ঘটনাই জানে না; তারা একই সঙ্গে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে অন্য সবাইও ঠিক এভাবেই ভাবছে।

গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়, কারণ জনমতের ধারণা অনেক সময় প্রকৃত জনমতের মতোই প্রভাব বিস্তার করে।

নিরাপত্তার প্রশ্ন এখন জনমতের প্রশ্নও

জাপানের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংস্কার, গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাংবিধানিক বিতর্ক কেবল সামরিক নীতির বিষয় নয়; এগুলো রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপরও নির্ভরশীল। আর সেই কারণেই জনমত এখন কৌশলগত প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

Japan's Latest Strategy Review Details the Growing Threats It Faces -  Business Insider

যদি জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যায়, সরকারের প্রতি আস্থা কমিয়ে দেওয়া যায় অথবা নিরাপত্তা সংস্কারকে ঘিরে অপ্রয়োজনীয় মেরুকরণ তৈরি করা যায়, তাহলে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ ছাড়াই একটি দেশের কৌশলগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করা সম্ভব।

এই বাস্তবতায় তথ্যপ্রবাহ আর কেবল যোগাযোগের বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তারও অংশ।

সময়ের দাবি

জাপানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সম্ভবত আর কেবল সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নয়। বরং নাগরিকরা যে তথ্য পাচ্ছেন, তার উৎস, প্রেক্ষাপট এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ডিজিটাল যুগে যুদ্ধের প্রথম মঞ্চ অনেক সময় সীমান্ত নয়, মানুষের মন। আর সেই মনোজগতকে প্রভাবিত করার প্রতিযোগিতাই আগামী দিনের নিরাপত্তা পরিবেশকে নির্ধারণ করতে পারে। তাই তথ্যের স্বচ্ছতা, উৎসের নির্ভরযোগ্যতা এবং গণমাধ্যমের জবাবদিহি—এই তিনটি বিষয় ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।