১১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
অজেয়তার মিথ ভাঙছে: ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতির সামনে নতুন বাস্তবতা জুলাই নিয়ে মন্তব্যে অভিযোগের পর বিতর্ক: বাকস্বাধীনতার সীমারেখা কোথায়? ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা, দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত অন্তত ৪০ জিম্বাবুয়ের কাছে ২৫ রানে হার, নাহিদ রানার রেকর্ড বোলিংও বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ নতুন টেস্ট অধিনায়ক বাবর আজমের বার্তা: শৃঙ্খলা, ফিটনেস ও পারফরম্যান্সে কোনো আপস নয় ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে, না হলে ‘কাজ শেষ করবে’ যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল চীন, আগেই জানানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে মুম্বাইয়ে ভবনধসে ৬ জন নিহত, বর্ষায় বিপর্যস্ত শহর ইন্দোনেশিয়ায় প্রতারণা চক্রে ৯২ চীনা নাগরিক বহিষ্কার, আজীবন নিষেধাজ্ঞা আপস নয়, আস্থার পুনর্গঠনই সার্ক পুনরুজ্জীবনের চাবিকাঠি: তারিক করিম

জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ মৃত্যু, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই বড় উদ্বেগ

দেশে জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির চিত্র আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে সারাদেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫৬১ জন। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন নারী এবং ৫৬ জন শিশু।

এই পরিসংখ্যান শুধু এক মাসের দুর্ঘটনার হিসাব নয়। এটি বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতা, চালকদের কর্মপরিবেশ, যানবাহনের ফিটনেস, মহাসড়কে শৃঙ্খলার অভাব এবং মোটরসাইকেল ব্যবহারের ঝুঁকি আবারও সামনে এনেছে। সড়কে প্রতিদিনের যাতায়াত সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়লে তার প্রভাব পরিবার, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা ও অর্থনীতির ওপরও পড়ে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ মৃত্যু

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। জুনে ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। মোট মৃত্যুর ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশই এসেছে মোটরসাইকেল-সম্পর্কিত দুর্ঘটনা থেকে।

মোটরসাইকেল এখন তরুণদের চলাচল, রাইড শেয়ারিং, ছোট ব্যবসা, ডেলিভারি সেবা ও ব্যক্তিগত যাতায়াতের বড় মাধ্যম। কিন্তু একই সঙ্গে দ্রুতগতি, হেলমেট না পরা, অভিজ্ঞতার ঘাটতি, রাতের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল এবং সড়কের অবস্থা মোটরসাইকেল আরোহীদের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। শহর ও মফস্বল দুই জায়গাতেই এই প্রবণতা স্পষ্ট।

পথচারী ও পরিবহন শ্রমিকও ঝুঁকিতে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৯১ জন পথচারী এবং ৫৭ জন চালক ও পরিবহন সহকারী। অর্থাৎ শুধু যানবাহনের ভেতরে থাকা যাত্রীরাই নন, রাস্তা পার হওয়া সাধারণ মানুষ এবং পরিবহন খাতের শ্রমিকরাও বড় ঝুঁকির মধ্যে আছেন।

বাংলাদেশের অনেক সড়কে নিরাপদ ফুটপাত নেই, জেব্রা ক্রসিং কার্যকর নয়, সিগন্যাল মানার সংস্কৃতি দুর্বল এবং মহাসড়কে স্থানীয় যানবাহন, ভারী যান ও পথচারীর চলাচল একসঙ্গে ঘটে। এতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়।

জাতীয় মহাসড়ক থেকে আঞ্চলিক সড়ক, ঝুঁকি সর্বত্র

RSF-এর হিসাবে, ১৫১টি দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে এবং ১৯৪টি আঞ্চলিক সড়কে ঘটেছে। গ্রামীণ সড়কে ৬৪টি এবং শহর এলাকায় ৫৭টি দুর্ঘটনা হয়েছে। রাজধানীতেই ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানো, মুখোমুখি সংঘর্ষ, পথচারীকে চাপা দেওয়া এবং পেছন থেকে ধাক্কার কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও রাস্তা, অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ ও বেপরোয়া চালনা, চালকদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও কম মজুরি, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির মতো বিষয়কেও দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সড়ক নিরাপত্তা এখন আর শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়। এটি জনস্বাস্থ্য, শ্রম অধিকার, নগর পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়ও। তাই দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ নয়, দুর্ঘটনা কমানোর নীতি, প্রয়োগ ও জবাবদিহি বেশি জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অজেয়তার মিথ ভাঙছে: ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতির সামনে নতুন বাস্তবতা

জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ মৃত্যু, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই বড় উদ্বেগ

০৭:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

দেশে জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির চিত্র আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে সারাদেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫৬১ জন। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন নারী এবং ৫৬ জন শিশু।

এই পরিসংখ্যান শুধু এক মাসের দুর্ঘটনার হিসাব নয়। এটি বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতা, চালকদের কর্মপরিবেশ, যানবাহনের ফিটনেস, মহাসড়কে শৃঙ্খলার অভাব এবং মোটরসাইকেল ব্যবহারের ঝুঁকি আবারও সামনে এনেছে। সড়কে প্রতিদিনের যাতায়াত সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়লে তার প্রভাব পরিবার, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা ও অর্থনীতির ওপরও পড়ে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ মৃত্যু

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। জুনে ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। মোট মৃত্যুর ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশই এসেছে মোটরসাইকেল-সম্পর্কিত দুর্ঘটনা থেকে।

মোটরসাইকেল এখন তরুণদের চলাচল, রাইড শেয়ারিং, ছোট ব্যবসা, ডেলিভারি সেবা ও ব্যক্তিগত যাতায়াতের বড় মাধ্যম। কিন্তু একই সঙ্গে দ্রুতগতি, হেলমেট না পরা, অভিজ্ঞতার ঘাটতি, রাতের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল এবং সড়কের অবস্থা মোটরসাইকেল আরোহীদের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। শহর ও মফস্বল দুই জায়গাতেই এই প্রবণতা স্পষ্ট।

পথচারী ও পরিবহন শ্রমিকও ঝুঁকিতে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৯১ জন পথচারী এবং ৫৭ জন চালক ও পরিবহন সহকারী। অর্থাৎ শুধু যানবাহনের ভেতরে থাকা যাত্রীরাই নন, রাস্তা পার হওয়া সাধারণ মানুষ এবং পরিবহন খাতের শ্রমিকরাও বড় ঝুঁকির মধ্যে আছেন।

বাংলাদেশের অনেক সড়কে নিরাপদ ফুটপাত নেই, জেব্রা ক্রসিং কার্যকর নয়, সিগন্যাল মানার সংস্কৃতি দুর্বল এবং মহাসড়কে স্থানীয় যানবাহন, ভারী যান ও পথচারীর চলাচল একসঙ্গে ঘটে। এতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়।

জাতীয় মহাসড়ক থেকে আঞ্চলিক সড়ক, ঝুঁকি সর্বত্র

RSF-এর হিসাবে, ১৫১টি দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে এবং ১৯৪টি আঞ্চলিক সড়কে ঘটেছে। গ্রামীণ সড়কে ৬৪টি এবং শহর এলাকায় ৫৭টি দুর্ঘটনা হয়েছে। রাজধানীতেই ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানো, মুখোমুখি সংঘর্ষ, পথচারীকে চাপা দেওয়া এবং পেছন থেকে ধাক্কার কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও রাস্তা, অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ ও বেপরোয়া চালনা, চালকদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও কম মজুরি, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির মতো বিষয়কেও দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সড়ক নিরাপত্তা এখন আর শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়। এটি জনস্বাস্থ্য, শ্রম অধিকার, নগর পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়ও। তাই দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ নয়, দুর্ঘটনা কমানোর নীতি, প্রয়োগ ও জবাবদিহি বেশি জরুরি।