বেইজিং শনিবার তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে নতুন কোস্টগার্ড টাস্কফোর্স মোতায়েন করেছে বলে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে। জাহাজ শিউশান আগের দাইশান গ্রুপের জায়গা নিয়ে “নিয়মিত আইন প্রয়োগ টহল” চালিয়ে যাচ্ছে বলে চীনা কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জিয়াং লুয়ে জানিয়েছেন। এক মাসের মধ্যে এটি চীনা কোস্টগার্ডের তাইওয়ান টহল দ্বিতীয়বার, যা তাইপেতে ক্ষোভ আর পশ্চিমা রাজধানীতে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তাইওয়ান কোস্টগার্ড জানিয়েছে তারা দুটি চীনা জাহাজকে হুয়ালিয়েনের প্রায় ৫৪ নটিক্যাল মাইল পূর্বে চিহ্নিত করেছে এবং নিজেদের দুটি জাহাজ পাঠিয়ে নজরদারি করছে। হুয়ালিয়েন তাইওয়ানের একটি প্রধান বিমানঘাঁটির অবস্থান। চীনা কোস্টগার্ডের তাইওয়ান টহল প্রথমবার জুনে শুরু হয়েছিল, জাপান ও ফিলিপাইনের সমুদ্রসীমা আলোচনার ঘোষণার পরপরই।
তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল বলছে, চীনের ওই জলসীমায় কোনো সার্বভৌমত্ব বা আইন প্রয়োগের অধিকার নেই। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন আগের টহল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। চীনা কোস্টগার্ডের তাইওয়ান টহলকে তাইওয়ান “লফেয়ার” বলে বর্ণনা করছে, অর্থাৎ সামরিক শক্তি ছাড়াই আইনি ভাষায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।
বাংলাদেশের জন্য এই ঘটনা সরাসরি সম্পর্কিত না হলেও সমুদ্রসীমা, মৎস্যসম্পদ ও নৌ কূটনীতির প্রশ্নে শিক্ষা আছে। বড় শক্তি কীভাবে কোস্টগার্ডকে সামরিক নয়, প্রশাসনিক হাতিয়ার বানিয়ে সমুদ্রসীমা দাবি করে, তা বাংলাদেশের সমুদ্র নিরাপত্তা নীতির জন্যও পর্যবেক্ষণযোগ্য। চীনা কোস্টগার্ডের তাইওয়ান টহল বুঝিয়ে দেয়, সমুদ্রসীমার লড়াই এখন কেবল রণতরী নয়, নিয়মিত প্রশাসনিক উপস্থিতির লড়াইও।
জুনের প্রথম টহল আর জুলাইয়ের এই রোটেশন মিলিয়ে বেইজিং একটি স্থায়ী প্যাটার্ন তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। শিউশান জাহাজের ম্যান্ডেট ঠিক কতদূর বিস্তৃত, তা এখনও স্পষ্ট নয়, আর সেই অস্পষ্টতাই তাইপের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















