১০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
সরকারি অর্থের প্রকৃত ঠিকানা: ট্রেজারি সংস্কারের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর কাবুলে পানির সংকট নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা, শহরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নও ঝুঁকিতে ‘দ্য ওডিসি’ প্রচারে দেবী-প্রেরণার সাজে জেনডায়া, ফ্যাশনে চরিত্রের ভাষা কঙ্গোয় ইবোলা চিকিৎসায় প্রথম ট্রায়াল শুরু, ১৪০০ জন আক্রান্ত অং সান সু চির সঙ্গে দেখা করতে দিল না মিয়ানমার জান্তা থাই বিমানসেবিকার মাধ্যমে হেরোইন পাচার, উৎস মিয়ানমার সন্দেহ পঁচিশ বছর পর তাইওয়ান সেনায় ফিরল কমিউনিস্ট বিরোধী শিক্ষা আমির খানের ব্যক্তিগত আয়োজনে বিয়ে, গৌরী স্প্রাটের সঙ্গে নতুন অধ্যায় এআই এখনো বাস্তব পৃথিবী বোঝে না, গবেষকদের নতুন সতর্কবার্তা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু, বাংলা সাহিত্য ও চিন্তাজগতে শূন্যতা

কাবুলে পানির সংকট নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা, শহরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নও ঝুঁকিতে

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পানীয় জলের সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। স্থানীয় গণমাধ্যম TOLOnews-এর বরাত দিয়ে UNB জানিয়েছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কাবুলের পানি সংকট আরও জটিল হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, এই সংকট শহরটির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

কাবুল বহু বছর ধরেই পানীয় জলের ঘাটতির সঙ্গে লড়ছে। কর্তৃপক্ষ পানি সরবরাহ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা বললেও শহরের বাড়তে থাকা জনসংখ্যা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ সংকটকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা

কাবুলের পানি সরবরাহের বড় অংশ ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। শহরে জনসংখ্যা বাড়লে বাড়িঘর, ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান এবং ছোট শিল্পের পানির চাহিদাও বাড়ে। কিন্তু যদি একই সঙ্গে বৃষ্টিপাত কমে, পুনর্ভরণ কম হয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ বাড়ে, তাহলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যায়।

এই ধরনের শহুরে পানি সংকট শুধু আফগানিস্তানের সমস্যা নয়। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক বড় শহরই একই ধরনের ঝুঁকিতে আছে। ঢাকাসহ বাংলাদেশের নগরগুলোও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ফল নিয়ে বহুদিন ধরে উদ্বেগের মুখে। তাই কাবুলের সংকট বাংলাদেশের পাঠকের কাছেও একটি সতর্ক উদাহরণ।

Kabul at risk of becoming first modern city to run out of water, report warns | Afghanistan | The Guardian

জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগর পরিকল্পনার চাপ

যুদ্ধ, নিরাপত্তা সংকট, অর্থনৈতিক চাপ এবং গ্রাম থেকে শহরে মানুষের আগমন কাবুলের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়িয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে যদি পরিকল্পিত পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নালা-ড্রেন, জলাধার সংরক্ষণ এবং পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে শহর দ্রুত অস্থির হয়ে ওঠে।

পানি সংকটের প্রভাব সরাসরি মানুষের জীবনে পড়ে। পানীয় জল না থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে, শিশু ও নারীর ওপর চাপ বাড়ে, স্কুল ও হাসপাতাল পরিচালনা কঠিন হয় এবং দরিদ্র মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যাদের ট্যাঙ্কার বা বোতলজাত পানি কেনার সামর্থ্য নেই, তারাই সবচেয়ে বেশি ভোগে।

অবকাঠামো প্রকল্প, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দরকার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পানি সংকট মোকাবিলায় কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে শুধু প্রকল্প নিলেই সমাধান হবে না। শহরের পানি ব্যবস্থাপনায় সুশাসন, অপচয় কমানো, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং জলবায়ু-সহনশীল পরিকল্পনা জরুরি।

বাংলাদেশের জন্য এই খবরের তাৎপর্য এখানেই। জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ এবং পানি ব্যবস্থাপনা এখন আলাদা আলাদা ইস্যু নয়। এগুলো একসঙ্গে শহরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে। কাবুলের সংকট দেখায়, পানি শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি নগর নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি অর্থের প্রকৃত ঠিকানা: ট্রেজারি সংস্কারের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর

কাবুলে পানির সংকট নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা, শহরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নও ঝুঁকিতে

০৯:০১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পানীয় জলের সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। স্থানীয় গণমাধ্যম TOLOnews-এর বরাত দিয়ে UNB জানিয়েছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কাবুলের পানি সংকট আরও জটিল হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, এই সংকট শহরটির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

কাবুল বহু বছর ধরেই পানীয় জলের ঘাটতির সঙ্গে লড়ছে। কর্তৃপক্ষ পানি সরবরাহ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা বললেও শহরের বাড়তে থাকা জনসংখ্যা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ সংকটকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা

কাবুলের পানি সরবরাহের বড় অংশ ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। শহরে জনসংখ্যা বাড়লে বাড়িঘর, ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান এবং ছোট শিল্পের পানির চাহিদাও বাড়ে। কিন্তু যদি একই সঙ্গে বৃষ্টিপাত কমে, পুনর্ভরণ কম হয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ বাড়ে, তাহলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যায়।

এই ধরনের শহুরে পানি সংকট শুধু আফগানিস্তানের সমস্যা নয়। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক বড় শহরই একই ধরনের ঝুঁকিতে আছে। ঢাকাসহ বাংলাদেশের নগরগুলোও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ফল নিয়ে বহুদিন ধরে উদ্বেগের মুখে। তাই কাবুলের সংকট বাংলাদেশের পাঠকের কাছেও একটি সতর্ক উদাহরণ।

Kabul at risk of becoming first modern city to run out of water, report warns | Afghanistan | The Guardian

জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগর পরিকল্পনার চাপ

যুদ্ধ, নিরাপত্তা সংকট, অর্থনৈতিক চাপ এবং গ্রাম থেকে শহরে মানুষের আগমন কাবুলের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়িয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে যদি পরিকল্পিত পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নালা-ড্রেন, জলাধার সংরক্ষণ এবং পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে শহর দ্রুত অস্থির হয়ে ওঠে।

পানি সংকটের প্রভাব সরাসরি মানুষের জীবনে পড়ে। পানীয় জল না থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে, শিশু ও নারীর ওপর চাপ বাড়ে, স্কুল ও হাসপাতাল পরিচালনা কঠিন হয় এবং দরিদ্র মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যাদের ট্যাঙ্কার বা বোতলজাত পানি কেনার সামর্থ্য নেই, তারাই সবচেয়ে বেশি ভোগে।

অবকাঠামো প্রকল্প, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দরকার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পানি সংকট মোকাবিলায় কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে শুধু প্রকল্প নিলেই সমাধান হবে না। শহরের পানি ব্যবস্থাপনায় সুশাসন, অপচয় কমানো, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং জলবায়ু-সহনশীল পরিকল্পনা জরুরি।

বাংলাদেশের জন্য এই খবরের তাৎপর্য এখানেই। জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ এবং পানি ব্যবস্থাপনা এখন আলাদা আলাদা ইস্যু নয়। এগুলো একসঙ্গে শহরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে। কাবুলের সংকট দেখায়, পানি শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি নগর নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন।