মিয়ানমারের সামরিক সরকার আসিয়ানের বিশেষ দূতকে আটক নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয়নি বলে দ্য স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে। ৩০ জুন সংবাদ সম্মেলনে জান্তার মুখপাত্র খাইং খাইং সোয়ে বলেন, সু চি সাজাপ্রাপ্ত বন্দি হওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি তাঁর নেই। সু চির সঙ্গে দেখা মিয়ানমার জান্তা এবারও আটকে দিল, যা আসিয়ানের দ্বিতীয়বারের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা।
আসিয়ানের চলতি চেয়ার ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারো এর আগে জানুয়ারিতেও নেপিদোতে গিয়ে সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। সু চির সঙ্গে দেখা মিয়ানমার জান্তা কেবল আসিয়ানকে নয়, ২০২১ ও ২০২২ সালে ব্রুনেই ও কম্বোডিয়ার বিশেষ দূতদেরও দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং মনে করেন আসিয়ানকে যতটা প্রয়োজন মিয়ানমারের, তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন আসিয়ানের মিয়ানমারকে।
৮১ বছর বয়সী সু চি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে বন্দি আছেন, যাঁর মূল সাজা ৩৩ বছর থেকে কমে বর্তমানে প্রায় ১৮ বছর ৯ মাসে দাঁড়িয়েছে। মে মাসে তাঁকে কারাগার থেকে “নির্ধারিত বাসভবনে” স্থানান্তর করা হয়েছিল, একই সময়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হয়। সু চির সঙ্গে দেখা মিয়ানমার জান্তা যাদের দিয়েছে, তাদের তালিকায় আছেন কেবল থাইল্যান্ডের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দন প্রামুদউইনাই ও চীনের ওয়াং ই।
বাংলাদেশের জন্য এই ঘটনা সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সু চির সঙ্গে দেখা মিয়ানমার জান্তা এবারও আটকে দেওয়ায় বোঝা যায়, আসিয়ানের কূটনৈতিক চাপের সীমাবদ্ধতা এখনও কাটেনি। জান্তা যদি আসিয়ানের অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আঞ্চলিক চাপের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।
সু চির ছেলে কিম অ্যারিস পাঁচ বছর ধরে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, আর জান্তার দাবি তাঁর স্বাস্থ্য “পুরোপুরি ভালো”। এই দুই বক্তব্যের ফারাকই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তোলে, সাজা শেষ হওয়ার আগে সু চির প্রকৃত অবস্থা আসলে কতটা স্বচ্ছভাবে জানা সম্ভব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















