কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে বান্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। কঙ্গোয় ইবোলা চিকিৎসা ট্রায়ালের নাম পার্টনারস, যেখানে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এমবিপি১৩৪ ও অ্যান্টিভাইরাল রেমডেসিভির পরীক্ষা করা হচ্ছে। মে মাসে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ১৪০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৪৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বান্দিবুগিও প্রজাতির জন্য এখনও কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই, যা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলাকে জটিল করে তুলেছে। কঙ্গোয় ইবোলা চিকিৎসা ট্রায়াল দেশটির জাতীয় বায়োমেডিক্যাল গবেষণা প্রতিষ্ঠান, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বেলজিয়ামের ট্রপিক্যাল মেডিসিন ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। সর্বোচ্চ ১২০০ জন রোগীকে এই ট্রায়ালে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে জানা গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, অনুমোদিত চিকিৎসা ছাড়াও মানুষ সুস্থ হচ্ছে, কিন্তু নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা থাকলে আরও অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো। কঙ্গোয় ইবোলা চিকিৎসা ট্রায়াল শুরুর মধ্যেই ইতুরি প্রদেশে একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে হামলা ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে, যাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। জনআস্থার ঘাটতি ও সংঘাত এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার সবচেয়ে বড় বাধা বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এই ঘটনা জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতি, সীমান্ত নজরদারি ও কমিউনিটির আস্থা তৈরির শিক্ষা দেয়। সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বিজ্ঞান যতটা জরুরি, স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জনও ঠিক তেমনই জরুরি। কঙ্গোয় ইবোলা চিকিৎসা ট্রায়াল দেখায়, চিকিৎসা কেন্দ্রে আক্রমণ ঠেকাতে না পারলে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
এই প্রাদুর্ভাব কঙ্গোর সপ্তদশতম ইবোলা সংক্রমণ, যা আগের প্রাদুর্ভাব শেষ হওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যেই শুরু হয়েছিল। ১২০০ জনের লক্ষ্য পূরণ হলেই বোঝা যাবে এমবিপি১৩৪ ও রেমডেসিভির সত্যিই মৃত্যুহার কমাতে পারছে কিনা, আর ততদিন পর্যন্ত ইতুরির মানুষের ভরসা কেবল সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















