০১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
নেইমারের বিদায় ঘোষণায় ব্রাজিল ফুটবলে নতুন অধ্যায়, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে শেষ হলো জাতীয় দলের পথচলা ইংল্যান্ডের রুদ্ধশ্বাস জয়, মেক্সিকোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড কি সম্পদ, নাকি জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলার ক্ষমতা? হালান্ড বনাম ভিনিসিয়ুস, বিশ্বকাপে ব্রাজিল-নরওয়ে মহারণে চোখ শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মাছের জিন গবেষণায় নতুন দিগন্ত, উন্নত চাষে বদলাচ্ছে জলজ খাদ্যের ভবিষ্যৎ স্পেসএক্সে বিনিয়োগ না করে কী হারালেন, কী শিখলেন এক বিনিয়োগকারী আপত্তিকর উপাদানমুক্ত বিস্কুটে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন, ছোট উদ্যোগ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সাফল্য প্রাক্তন কিশোর অপরাধী থেকে সফল উদ্যোক্তা, রান্নাঘরেই জীবনের নতুন ঠিকানা গড়লেন রিউবেন পর্দার দুনিয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার আনন্দ, পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বড় পরিবার মানেই দায় নয়: সন্তান বেশি হলেই কেন প্রশ্নের মুখে পড়েন অভিভাবকেরা

সবুজ জ্বালানিতে বড় প্রণোদনা, কিন্তু জলবায়ু তহবিলের অনিশ্চয়তায় চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের রূপান্তর

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। কর ও শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি রূপান্তরের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারকে আরও স্পষ্ট করেছে। তবে একই সময়ে বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এই রূপান্তরের গতি মন্থর হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তুরস্কে অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নতুন প্রণোদনায় কী থাকছে

সরকারের সাম্প্রতিক বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে একাধিক কর ও শুল্ক সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০৩১ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সরঞ্জাম আমদানিতে শূন্য শুল্ক এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে করপোরেট আয়কর অব্যাহতির ঘোষণা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সুবিধা বিনিয়োগ ব্যয় কমাবে, বেসরকারি খাতকে আরও উৎসাহিত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

 

জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু লক্ষ্য

বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ, কমে আসা দেশীয় গ্যাস মজুত, আমদানি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ফলে জ্বালানি রূপান্তর এখন শুধু পরিবেশগত নয়, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের বিষয়েও পরিণত হয়েছে।

রামপালে ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিকল্পনা | The Daily Star

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতা গুরুত্ব পায়। বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, ব্যাটারি স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন, সবুজ শিল্প এবং জলবায়ু তহবিল নিয়ে আলোচনা হয়। নীতিনির্ধারকদের আশা, চীনের বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশের সবুজ জ্বালানি খাত আরও গতি পাবে।

তবে বাস্তবতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে বাংলাদেশ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানি অব্যাহত রয়েছে এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত কয়লা আমদানিতে কর সুবিধাও বহাল রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, রূপান্তরকালীন সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এসব ব্যবস্থা প্রয়োজন।

অর্থায়নই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন

বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি হালনাগাদ জাতীয় অবদান (এনডিসি) অনুযায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে, যার বড় অংশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনো সীমিত। গ্রিড আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ, উপকূলীয় সুরক্ষা এবং কৃষি ও নগর অবকাঠামোকে জলবায়ু সহনশীল করতে প্রতিবছর বিপুল অর্থায়নের প্রয়োজন হবে।

বিশ্বব্যাংক ২০২৪ সালে ৪১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন দিয়েছে, যার মধ্যে ১১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার অভিযোজন খাতে। একই সময়ে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, দাতা দেশগুলোর অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এ অর্থায়ন কমে যেতে পারে।

কপ-৩১ সামনে, বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ

Center for Participatory Research and Development - CPRD

বাংলাদেশের প্রয়োজন শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানোর অর্থায়ন নয়; বরং বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা এবং কৃষি ক্ষতির মতো জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় অনুদানভিত্তিক সহায়তা।

এদিকে কপ-৩১-এ তুরস্ক বিদ্যুতায়ন, মিথেন নিঃসরণ কমানো এবং বাস্তবভিত্তিক জ্বালানি রূপান্তরকে কেন্দ্র করে একটি ‘অ্যাকশন অ্যাজেন্ডা’ প্রস্তাব করেছে। তবে বাংলাদেশের সাফল্য কেবল আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করবে না; অভ্যন্তরীণ বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে সীমিত গ্রিড সক্ষমতা, ব্যাটারি স্টোরেজের ঘাটতি, জমির সংকট এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কর ও শুল্ক সুবিধা তখনই কার্যকর হবে, যখন তা বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত হবে।

সেন্টার ফর পারটিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহার মতে, এখন নীতি ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প তৈরির ওপর জোর দেওয়া জরুরি। তিনি মনে করেন, পূর্বানুমানযোগ্য ও অনুদানভিত্তিক জলবায়ু তহবিলই টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের সবুজ জ্বালানি বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে স্বচ্ছতা, পরিবেশগত মান বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

বাংলাদেশের সবুজ জ্বালানি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে বড় প্রণোদনা ঘোষণা হলেও শেষ পর্যন্ত সাফল্য নির্ভর করবে প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও প্রযুক্তিকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়ার সক্ষমতার ওপর।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নেইমারের বিদায় ঘোষণায় ব্রাজিল ফুটবলে নতুন অধ্যায়, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে শেষ হলো জাতীয় দলের পথচলা

সবুজ জ্বালানিতে বড় প্রণোদনা, কিন্তু জলবায়ু তহবিলের অনিশ্চয়তায় চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের রূপান্তর

১১:৪০:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। কর ও শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি রূপান্তরের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারকে আরও স্পষ্ট করেছে। তবে একই সময়ে বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এই রূপান্তরের গতি মন্থর হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তুরস্কে অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নতুন প্রণোদনায় কী থাকছে

সরকারের সাম্প্রতিক বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে একাধিক কর ও শুল্ক সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০৩১ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সরঞ্জাম আমদানিতে শূন্য শুল্ক এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে করপোরেট আয়কর অব্যাহতির ঘোষণা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সুবিধা বিনিয়োগ ব্যয় কমাবে, বেসরকারি খাতকে আরও উৎসাহিত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

 

জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু লক্ষ্য

বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ, কমে আসা দেশীয় গ্যাস মজুত, আমদানি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ফলে জ্বালানি রূপান্তর এখন শুধু পরিবেশগত নয়, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের বিষয়েও পরিণত হয়েছে।

রামপালে ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিকল্পনা | The Daily Star

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতা গুরুত্ব পায়। বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, ব্যাটারি স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন, সবুজ শিল্প এবং জলবায়ু তহবিল নিয়ে আলোচনা হয়। নীতিনির্ধারকদের আশা, চীনের বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশের সবুজ জ্বালানি খাত আরও গতি পাবে।

তবে বাস্তবতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে বাংলাদেশ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানি অব্যাহত রয়েছে এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত কয়লা আমদানিতে কর সুবিধাও বহাল রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, রূপান্তরকালীন সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এসব ব্যবস্থা প্রয়োজন।

অর্থায়নই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন

বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি হালনাগাদ জাতীয় অবদান (এনডিসি) অনুযায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে, যার বড় অংশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনো সীমিত। গ্রিড আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ, উপকূলীয় সুরক্ষা এবং কৃষি ও নগর অবকাঠামোকে জলবায়ু সহনশীল করতে প্রতিবছর বিপুল অর্থায়নের প্রয়োজন হবে।

বিশ্বব্যাংক ২০২৪ সালে ৪১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন দিয়েছে, যার মধ্যে ১১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার অভিযোজন খাতে। একই সময়ে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, দাতা দেশগুলোর অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এ অর্থায়ন কমে যেতে পারে।

কপ-৩১ সামনে, বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ

Center for Participatory Research and Development - CPRD

বাংলাদেশের প্রয়োজন শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানোর অর্থায়ন নয়; বরং বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা এবং কৃষি ক্ষতির মতো জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় অনুদানভিত্তিক সহায়তা।

এদিকে কপ-৩১-এ তুরস্ক বিদ্যুতায়ন, মিথেন নিঃসরণ কমানো এবং বাস্তবভিত্তিক জ্বালানি রূপান্তরকে কেন্দ্র করে একটি ‘অ্যাকশন অ্যাজেন্ডা’ প্রস্তাব করেছে। তবে বাংলাদেশের সাফল্য কেবল আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করবে না; অভ্যন্তরীণ বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে সীমিত গ্রিড সক্ষমতা, ব্যাটারি স্টোরেজের ঘাটতি, জমির সংকট এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কর ও শুল্ক সুবিধা তখনই কার্যকর হবে, যখন তা বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত হবে।

সেন্টার ফর পারটিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহার মতে, এখন নীতি ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প তৈরির ওপর জোর দেওয়া জরুরি। তিনি মনে করেন, পূর্বানুমানযোগ্য ও অনুদানভিত্তিক জলবায়ু তহবিলই টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের সবুজ জ্বালানি বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে স্বচ্ছতা, পরিবেশগত মান বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

বাংলাদেশের সবুজ জ্বালানি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে বড় প্রণোদনা ঘোষণা হলেও শেষ পর্যন্ত সাফল্য নির্ভর করবে প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও প্রযুক্তিকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়ার সক্ষমতার ওপর।