যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমতে শুরু করায় অনেকেই স্বস্তির আশা করছেন। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু পেট্রোলের দাম কমে যাওয়া দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট দূর করতে পারবে না। কয়েক মাসের কিছুটা স্বস্তি মিললেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেই যাবে।
সম্প্রতি দেশটিতে সাধারণ মানের পেট্রোলের গড় মূল্য প্রতি গ্যালনে চার ডলারের নিচে নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমে আসা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার প্রত্যাশায় জ্বালানির বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে গাড়িচালকদের ব্যয় আগের তুলনায় কমছে।
দুই গতির অর্থনীতিতে বৈষম্য রয়ে গেছে
বিশ্লেষকদের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন অনেকটাই ‘কে-আকৃতির’। অর্থাৎ উচ্চ আয়ের মানুষ ও নিম্ন আয়ের মানুষের আর্থিক অবস্থার মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। একদিকে তুলনামূলক স্বচ্ছল পরিবারগুলো অর্থনৈতিক চাপ সহজে সামাল দিতে পারছে, অন্যদিকে নিম্ন আয়ের মানুষের বড় অংশ প্রতিদিনের খরচ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের প্রায় অর্ধেক পরিবার নিজেদের আর্থিক অবস্থাকে ‘খারাপ’ বা ‘খুবই খারাপ’ বলে মনে করছে। যদিও বছরের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত তাদের ব্যাংক আমানতের মধ্যম পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ কর-সুবিধা ও অর্থ ফেরত পাওয়ার কারণে এই বৃদ্ধি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সময়ে উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোর আমানতও বেড়েছে, তবে তুলনামূলকভাবে কম হারে।
স্বস্তি মিললেও তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাতে কিছু অতিরিক্ত অর্থ এবং জ্বালানির কম দামের কারণে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। কিন্তু এই সুবিধা দীর্ঘদিন টিকবে না।
কারণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে ব্যয় এখনও অনেক বেশি। ফলে মানুষ দ্রুতই সঞ্চিত অর্থ খরচ করে ফেলছে। এতে সাময়িক আর্থিক উন্নতির প্রভাবও ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে পারে।
মূল্যস্ফীতির ক্ষত এখনও গভীর
অর্থনীতিবিদদের মতে, গত কয়েক বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটকে ব্যাপকভাবে সংকুচিত করেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো প্রতিটি অতিরিক্ত খরচ হিসাব করে চলতে বাধ্য হচ্ছে।
এ অবস্থায় জ্বালানির দাম কমে যাওয়া অবশ্যই ইতিবাচক খবর। তবে শুধু এই একটি পরিবর্তন খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ কমাতে পারছে না। ফলে অনেক পরিবারের জন্য আর্থিক বাস্তবতা এখনও কঠিনই রয়ে গেছে।
সামনে কী হতে পারে
বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি মূল্যস্ফীতি আরও নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মানুষের আয় টেকসইভাবে বাড়ে, তবেই নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর আর্থিক অবস্থায় স্থায়ী উন্নতি দেখা যেতে পারে। অন্যথায় জ্বালানির কম দাম সাময়িক স্বস্তি দিলেও দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না।
সস্তা জ্বালানির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের লাখো পরিবার তাই এখনও দৈনন্দিন খরচের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















