বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া আসর ২০২৮ সালের অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে ক্রমেই চাপে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস। শুরুতে স্বল্প ব্যয়ে এবং নতুন স্থাপনা ছাড়াই অলিম্পিক আয়োজনের পরিকল্পনা প্রশংসিত হলেও এখন বাড়তে থাকা ব্যয়, পরিবহন ব্যবস্থা, গৃহহীন সংকট এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে আসছে। ফলে এই আয়োজন শুধু ক্রীড়া নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
শহরের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছে। অলিম্পিকের আগে নগরের পরিবহন, নিরাপত্তা ও গৃহহীন মানুষের সমস্যা কতটা কার্যকরভাবে সামাল দেওয়া যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে সামনে স্থানীয় নির্বাচন থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিক গুরুত্বও পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের নজর যখন লস অ্যাঞ্জেলেসের দিকে থাকবে, তখন সামান্য ব্যর্থতাও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। অন্যদিকে সফল আয়োজন নগর প্রশাসনের সক্ষমতারও বড় প্রমাণ হয়ে উঠবে।

পরিবহন পরিকল্পনা নিয়ে সংশয়
শুরুর দিকে ব্যক্তিগত গাড়িবিহীন অলিম্পিক আয়োজনের লক্ষ্য ঘোষণা করা হলেও পরে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন মূল জোর দেওয়া হচ্ছে গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর।
অলিম্পিক উপলক্ষে নতুন রেল ও পরিবহন প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও কয়েকটি প্রকল্পে বিলম্ব দেখা দিয়েছে। আবার বিভিন্ন ভেন্যু একে অপরের থেকে অনেক দূরে হওয়ায় লাখো দর্শক ও হাজারো ক্রীড়াবিদের যাতায়াত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী অবকাঠামোর পাশাপাশি অস্থায়ী বাস ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনাই শেষ পর্যন্ত সফলতার মূল চাবিকাঠি হবে।
নতুন স্থাপনা ছাড়াই আয়োজন
এই অলিম্পিকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নতুন স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণ না করা। বিদ্যমান ক্রীড়া অবকাঠামো ব্যবহার করেই প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হলেও ভবিষ্যতের জন্য নতুন আবাসন বা অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরির সুযোগ সীমিত থাকবে বলে মত রয়েছে।

গৃহহীন সংকট এখনো বড় বাধা
লস অ্যাঞ্জেলেসের অন্যতম বড় সামাজিক সমস্যা গৃহহীনতা। সাম্প্রতিক সময়ে এ সংকট কিছুটা কমেছে বলে দাবি করা হলেও এখনও হাজার হাজার মানুষ স্থায়ী আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছেন।
সমালোচকদের অভিযোগ, অলিম্পিকের আগে শুধু শহরকে পরিচ্ছন্ন দেখানোর উদ্দেশ্যে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকেই তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।
জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে
অলিম্পিক শুরু হবে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও ঘনিয়ে আসবে। ফলে এই আন্তর্জাতিক আসর রাজনৈতিকভাবেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সফল আয়োজন হলে তা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। আর যদি বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা, ব্যয় বৃদ্ধি বা অব্যবস্থাপনা দেখা দেয়, তাহলে সেটি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
অভিবাসন নীতি, সামাজিক বৈষম্য এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে অলিম্পিক চলাকালে বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখাও আয়োজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
আগামী দুই বছরে প্রস্তুতির অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সমস্যার সমাধান কতটা এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ২০২৮ সালের অলিম্পিক শেষ পর্যন্ত সফলতার প্রতীক হবে, নাকি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।



সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















