০৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
জ্বলতে শেখার মধ্যেই দীপ্তির জন্ম আপারেশন সাগরে ট্রলারডুবি: পটুয়াখালীর উপকূলে নিখোঁজ ৬ জেলে সংযুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৭৭৫ কোটি টাকার রাইট শেয়ার অনুমোদন, নতুন মিউচ্যুয়াল ফান্ডেও সবুজ সংকেত জুনে ৯.৯ পয়েন্ট কমল বাংলাদেশের পিএমআই, ব্যবসায়িক আস্থায় দুর্বলতার ইঙ্গিত আপসে আফগান ক্রিকেটের পথিকৃৎ শাপুর জাদরান আর নেই, ৩৮ বছরেই জীবনাবসান টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে চট্টগ্রাম, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন কক্সবাজারে পাহাড়ধসে আরও এক নারীর মৃত্যু, আহত স্বামী-সন্তান বাংলায় ২৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল চালুতে ধীরগতি, গ্রাহক উদ্বেগে নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মুষলধারে বৃষ্টিতে মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের ‘মিসিং লিংক’ ক্ষতিগ্রস্ত, ভূমিধসে বন্ধ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কিউবার ভবিষ্যতের নতুন মুখ? ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী কাস্ত্রো পরিবারের উত্তরসূরি

জ্বালানি খাতের পরবর্তী বিপ্লব হবে তথ্যের—অবকাঠামো থেকে বুদ্ধিমান ব্যবস্থাপনার পথে ভারত

অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, শিল্পের প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগের গতি কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন—সবকিছুর কেন্দ্রেই রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় বিদ্যুৎকে মূলত অবকাঠামোর একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন। জ্বালানি এখন শুধু উৎপাদনের উপাদান নয়; এটি অর্থনীতির সামগ্রিক দক্ষতা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের অন্যতম ভিত্তি। ফলে নতুন চ্যালেঞ্জ আর কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও বুদ্ধিমান, সমন্বিত এবং তথ্যনির্ভর করে তোলা।

গত এক দশকে ভারতের বিদ্যুৎ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ ঘাটতি অনেকাংশে কাটিয়ে দেশটি এখন বিশ্বের বৃহত্তম সমন্বিত বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোর একটি পরিচালনা করছে। বিদ্যুতের প্রাপ্যতা বেড়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতাও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। অ-জীবাশ্ম উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অংশ উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আগামী বছরগুলোতে সেই সক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এই অগ্রগতি নতুন এক প্রশ্ন সামনে এনেছে। যখন অবকাঠামো নির্মাণের বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছে, তখন পরবর্তী উন্নয়নের চালিকাশক্তি কী হবে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায়। বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তথ্য তৈরি করছে। কিন্তু সেই তথ্য যদি নিরাপদ, মানসম্মত ও সমন্বিতভাবে একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করা না যায়, তাহলে অবকাঠামোতে বিনিয়োগের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।

ভারত ইতোমধ্যে ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নির্মাণে একটি স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। পরিচয় যাচাই, আর্থিক লেনদেন কিংবা বিভিন্ন সরকারি সেবায় যে মানসম্মত ডিজিটাল কাঠামো তৈরি হয়েছে, তার মূল শক্তি ছিল অভিন্ন প্রযুক্তিগত মান এবং নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা। এসব উদ্যোগ কোনো বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানকে প্রতিস্থাপন করেনি; বরং তাদের আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করেছে। এর ফলে বেসরকারি উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতার জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

National Mission On Enhanced Energy Efficiency: How India's tech revolution  is contributing to a greener planet, ETGovernment

জ্বালানি খাতেও একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ ও ব্যবহার—প্রতিটি স্তরে বিভিন্ন সংস্থা আলাদা তথ্যভান্ডার নিয়ে কাজ করে। এই বিচ্ছিন্নতা শুধু প্রশাসনিক জটিলতাই বাড়ায় না, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ও নির্ভুলতাকেও সীমিত করে। যদি একটি অভিন্ন কাঠামোর মাধ্যমে এসব তথ্য নিরাপদভাবে বিনিময় করা যায়, তাহলে পুরো ব্যবস্থার দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

এই ধারণার কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘ইন্ডিয়া এনার্জি স্ট্যাক’। এটি নতুন কোনো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নয়; বরং এমন একটি প্রযুক্তিগত মানদণ্ড, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য নির্ভরযোগ্যভাবে আদান-প্রদান সম্ভব হবে। এতে প্রতিটি রাজ্য বা বিতরণ সংস্থা তাদের নিজস্ব কাঠামো বজায় রেখেও একটি বৃহত্তর সমন্বিত ব্যবস্থার অংশ হতে পারবে। ভারতের মতো ফেডারেল কাঠামোর দেশে এটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

এ ধরনের তথ্যভিত্তিক সংযোগ ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিদ্যুতের চাহিদা আরও নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়া, নবায়নযোগ্য উৎসের ওঠানামা সামাল দেওয়া, বিকেন্দ্রীভূত উৎপাদন ব্যবস্থাকে সমন্বয় করা কিংবা সময়ভিত্তিক বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ—এসবই তখন বাস্তবসম্মত হয়ে উঠবে। এর ফলে একই সঙ্গে ব্যয় কমবে, দক্ষতা বাড়বে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহারও আরও সম্প্রসারিত হবে।

তবে বিদ্যুৎ খাতকে আলাদা করে দেখলে চলবে না। একটি দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থার মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং অন্যান্য জ্বালানি উৎস পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এগুলোর নীতি, নিয়ন্ত্রণ এবং পরিকল্পনা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হয়। ফলে বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্তের বদলে সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

দুই দশক আগে সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার যে ধারণা সামনে এসেছিল, আজ তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সক্ষমতা অনেকটাই তৈরি হয়েছে। এখন দরকার সেই সক্ষমতাকে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের সঙ্গে যুক্ত করা। তথ্যভিত্তিক সমন্বয় শুধু প্রশাসনিক দক্ষতাই বাড়াবে না; এটি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করবে, শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কমাবে এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলবে।

আগামী দিনের প্রতিযোগিতা শুধু কত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, তার ওপর নির্ভর করবে না। বরং নির্ভর করবে সেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কতটা বুদ্ধিমান, কতটা সংযুক্ত এবং কত দ্রুত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তার ওপর। যে দেশ এই রূপান্তর দ্রুত সম্পন্ন করতে পারবে, তার শিল্প, প্রযুক্তি ও অর্থনীতি নতুন প্রজন্মের প্রবৃদ্ধির সুযোগও তত দ্রুত কাজে লাগাতে সক্ষম হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বলতে শেখার মধ্যেই দীপ্তির জন্ম

জ্বালানি খাতের পরবর্তী বিপ্লব হবে তথ্যের—অবকাঠামো থেকে বুদ্ধিমান ব্যবস্থাপনার পথে ভারত

০৫:২৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, শিল্পের প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগের গতি কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন—সবকিছুর কেন্দ্রেই রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় বিদ্যুৎকে মূলত অবকাঠামোর একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন। জ্বালানি এখন শুধু উৎপাদনের উপাদান নয়; এটি অর্থনীতির সামগ্রিক দক্ষতা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের অন্যতম ভিত্তি। ফলে নতুন চ্যালেঞ্জ আর কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও বুদ্ধিমান, সমন্বিত এবং তথ্যনির্ভর করে তোলা।

গত এক দশকে ভারতের বিদ্যুৎ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ ঘাটতি অনেকাংশে কাটিয়ে দেশটি এখন বিশ্বের বৃহত্তম সমন্বিত বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোর একটি পরিচালনা করছে। বিদ্যুতের প্রাপ্যতা বেড়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতাও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। অ-জীবাশ্ম উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অংশ উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আগামী বছরগুলোতে সেই সক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এই অগ্রগতি নতুন এক প্রশ্ন সামনে এনেছে। যখন অবকাঠামো নির্মাণের বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছে, তখন পরবর্তী উন্নয়নের চালিকাশক্তি কী হবে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায়। বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তথ্য তৈরি করছে। কিন্তু সেই তথ্য যদি নিরাপদ, মানসম্মত ও সমন্বিতভাবে একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করা না যায়, তাহলে অবকাঠামোতে বিনিয়োগের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।

ভারত ইতোমধ্যে ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নির্মাণে একটি স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। পরিচয় যাচাই, আর্থিক লেনদেন কিংবা বিভিন্ন সরকারি সেবায় যে মানসম্মত ডিজিটাল কাঠামো তৈরি হয়েছে, তার মূল শক্তি ছিল অভিন্ন প্রযুক্তিগত মান এবং নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা। এসব উদ্যোগ কোনো বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানকে প্রতিস্থাপন করেনি; বরং তাদের আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করেছে। এর ফলে বেসরকারি উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতার জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

National Mission On Enhanced Energy Efficiency: How India's tech revolution  is contributing to a greener planet, ETGovernment

জ্বালানি খাতেও একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ ও ব্যবহার—প্রতিটি স্তরে বিভিন্ন সংস্থা আলাদা তথ্যভান্ডার নিয়ে কাজ করে। এই বিচ্ছিন্নতা শুধু প্রশাসনিক জটিলতাই বাড়ায় না, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ও নির্ভুলতাকেও সীমিত করে। যদি একটি অভিন্ন কাঠামোর মাধ্যমে এসব তথ্য নিরাপদভাবে বিনিময় করা যায়, তাহলে পুরো ব্যবস্থার দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

এই ধারণার কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘ইন্ডিয়া এনার্জি স্ট্যাক’। এটি নতুন কোনো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নয়; বরং এমন একটি প্রযুক্তিগত মানদণ্ড, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য নির্ভরযোগ্যভাবে আদান-প্রদান সম্ভব হবে। এতে প্রতিটি রাজ্য বা বিতরণ সংস্থা তাদের নিজস্ব কাঠামো বজায় রেখেও একটি বৃহত্তর সমন্বিত ব্যবস্থার অংশ হতে পারবে। ভারতের মতো ফেডারেল কাঠামোর দেশে এটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

এ ধরনের তথ্যভিত্তিক সংযোগ ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিদ্যুতের চাহিদা আরও নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়া, নবায়নযোগ্য উৎসের ওঠানামা সামাল দেওয়া, বিকেন্দ্রীভূত উৎপাদন ব্যবস্থাকে সমন্বয় করা কিংবা সময়ভিত্তিক বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ—এসবই তখন বাস্তবসম্মত হয়ে উঠবে। এর ফলে একই সঙ্গে ব্যয় কমবে, দক্ষতা বাড়বে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহারও আরও সম্প্রসারিত হবে।

তবে বিদ্যুৎ খাতকে আলাদা করে দেখলে চলবে না। একটি দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থার মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং অন্যান্য জ্বালানি উৎস পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এগুলোর নীতি, নিয়ন্ত্রণ এবং পরিকল্পনা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হয়। ফলে বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্তের বদলে সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

দুই দশক আগে সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার যে ধারণা সামনে এসেছিল, আজ তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সক্ষমতা অনেকটাই তৈরি হয়েছে। এখন দরকার সেই সক্ষমতাকে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের সঙ্গে যুক্ত করা। তথ্যভিত্তিক সমন্বয় শুধু প্রশাসনিক দক্ষতাই বাড়াবে না; এটি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করবে, শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কমাবে এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলবে।

আগামী দিনের প্রতিযোগিতা শুধু কত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, তার ওপর নির্ভর করবে না। বরং নির্ভর করবে সেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কতটা বুদ্ধিমান, কতটা সংযুক্ত এবং কত দ্রুত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তার ওপর। যে দেশ এই রূপান্তর দ্রুত সম্পন্ন করতে পারবে, তার শিল্প, প্রযুক্তি ও অর্থনীতি নতুন প্রজন্মের প্রবৃদ্ধির সুযোগও তত দ্রুত কাজে লাগাতে সক্ষম হবে।