সিরিয়ার সাবেক শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের প্রায় ১৮ মাস পর দেশটি সফর করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি পশ্চিম ইউরোপের কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম সিরিয়া সফর হিসেবে নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানী দামেস্কে পৌঁছে মাখোঁ বলেন, ফ্রান্স একটি সার্বভৌম, ঐক্যবদ্ধ এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সিরিয়ার পাশে থাকতে চায়। তিনি সিরিয়ার জনগণের প্রতি ফ্রান্সের সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
নতুন সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা
সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ তাঁর সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
মাখোঁর এই সফরকে সেই প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ইউরোপীয় বিভিন্ন নেতার সঙ্গে আল-শারার বৈঠক হলেও পশ্চিম ইউরোপের কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের সরাসরি সিরিয়া সফর এবারই প্রথম।
নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন আলোচনায় গুরুত্ব
সফরে মাখোঁর সঙ্গে ফ্রান্সের কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরাও রয়েছেন। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠন, বিনিয়োগের সুযোগ এবং ব্যবসার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সম্প্রতি রাজধানী দামেস্কে একটি বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্পর্কও এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বার্তা
ফরাসি প্রেসিডেন্ট তাঁর সফরে একটি স্বাধীন, বহুত্ববাদী এবং সব সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করা সিরিয়ার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
ঐতিহাসিক নিদর্শন ফেরত দেবে ফ্রান্স
সফরের অংশ হিসেবে ফ্রান্স সিরিয়ার ২৩টি মূল্যবান প্রত্নসম্পদ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘদিন আগে প্রদর্শনীর জন্য নেওয়া এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি। গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সেগুলো এখন সিরিয়ার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাখোঁর এই সফর শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের নয়, বরং যুদ্ধ-পরবর্তী সিরিয়ার পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ফ্রান্সের সক্রিয় ভূমিকারও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
সিরিয়ায় মাখোঁর সফর নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ের ইঙ্গিত। পুনর্গঠন, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















