সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে পরপর দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যে হোটেলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ অবস্থান করছিলেন, তার কাছেই বিস্ফোরক ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং আশপাশের সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের সময় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ হোটেলে ছিলেন না। তিনি সকালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে প্রেসিডেন্ট ভবনে চলে যাওয়ায় নিরাপদ ছিলেন।
দুটি বিস্ফোরণে নিরাপত্তা জোরদার
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি বিস্ফোরক রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা একটি গাড়ির ভেতরে রাখা ছিল। অন্যটি হোটেলের কাছাকাছি একটি ময়লার পাত্রে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বিস্ফোরণ ঘটায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
আহতের সংখ্যা বেড়েছে
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।
এর কয়েক দিন আগেই দামেস্কের বিচার প্রাসাদের কাছে একটি ক্যাফেতে বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক এসব হামলা রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ সফরের মধ্যেই হামলা
২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতনের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দেশের শীর্ষ নেতা হিসেবে প্রথমবারের মতো সিরিয়া সফরে যান প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দামেস্কে বৈঠক শেষে তার তুরস্কের আঙ্কারায় যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। সিরিয়ায় অবস্থানকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ারও কথা রয়েছে। সফরে ফ্রান্সের কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ীও তার সঙ্গে রয়েছেন।
দামেস্কের এই জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দামেস্কে ফরাসি প্রেসিডেন্টের হোটেলের কাছে জোড়া বিস্ফোরণ। অন্তত ১৮ জন আহত, নিরাপত্তা জোরদার, সফর ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















