পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিরোধে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত জবাব জমা দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। তাদের দাবি, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উত্থাপিত অভিযোগ দলীয় সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং সংগঠনের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৈধ রয়েছে।
১৪ পাতার জবাবে সংবিধানের ব্যাখ্যা
দলীয় প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের কাছে ১৪ পাতার লিখিত জবাব জমা দেন। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস থেকে শুরু করে দলীয় সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনী এবং সংগঠন পরিচালনার বিধান তুলে ধরা হয়েছে।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সর্বশেষ সাংগঠনিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচনে দলীয় সংবিধান অনুসারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ফলে বর্তমান সর্বভারতীয় কমিটি ও জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবিকে অসাংবিধানিক বলে দাবি
মমতা শিবিরের দাবি, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২২ সালের সাংগঠনিক নির্বাচনের সময় দলীয় কমিটির সদস্যই ছিলেন না। তাই বর্তমান নেতৃত্বের বৈধতা নিয়ে তাঁর অভিযোগের কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি নেই।
জবাবে আরও বলা হয়েছে, দলীয় সংবিধানে সময়ের সঙ্গে সংশোধন এনে কমিটির মেয়াদ তিন বছর থেকে প্রথমে চার বছর এবং পরে পাঁচ বছরে উন্নীত করা হয়েছিল। এসব পরিবর্তনের বিষয় নির্বাচন কমিশনকেও যথাযথভাবে জানানো হয়েছিল। তাই ২০২৫ সালেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে—এমন দাবি সঠিক নয়।
![]()
নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গও তুলে ধরা
মমতা শিবির আরও যুক্তি দিয়েছে, বিদ্রোহী নেতারাই ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। প্রার্থিতা সংক্রান্ত দলীয় অনুমোদনের নথিতে দলের চেয়ারপারসন হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে।
তাদের প্রশ্ন, যদি বিদ্রোহীদের দাবি অনুযায়ী ২০২৫ সালের পর দলীয় নেতৃত্ব বা সংগঠনের বৈধতা না থাকে, তাহলে সেই প্রতীক ও অনুমোদনের ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়। তাদের মতে, বিদ্রোহী শিবিরের বর্তমান অবস্থান তাদের আগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক।
বিশেষ অধিবেশন নিয়ে আপত্তি
জুন মাসে বিদ্রোহী শিবির যে বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে নতুন সংগঠন গঠনের দাবি করেছে, সেটিকেও মমতা শিবির দলীয় সংবিধানবিরোধী বলে উল্লেখ করেছে।
তাদের বক্তব্য, দলীয় সংবিধান অনুযায়ী ব্লক, জেলা ও রাজ্য পর্যায়ের নির্ধারিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করতে হয়। কিন্তু বিদ্রোহী শিবির সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। যথাযথ নোটিশ, প্রচার বা পদাধিকারী সদস্যদের অবহিত না করেই তারা নতুন কমিটি গঠনের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ বেআইনিভাবে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
কমিশনের সামনে দুই পক্ষের দাবি
দলীয় নেতৃত্ব, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী এবং সাংগঠনিক নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন উভয় শিবিরকে নিজেদের দাবি ও পাল্টা দাবি লিখিতভাবে জমা দিতে বলেছিল। সেই নির্দেশ অনুসারেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির তাদের বিস্তারিত জবাব কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে। এখন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















