দিল্লির আবর্জনাকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে রূপান্তর করে গণপরিবহন চালানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কমন্ত্রী নিতিন গড়করি। তাঁর মতে, সঠিকভাবে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে সেই আবর্জনা থেকেই হাইড্রোজেন উৎপাদন সম্ভব, আর ভবিষ্যতে সেই জ্বালানিতে রাজধানীর বাস চলতে পারে।
আবর্জনা থেকে জ্বালানি উৎপাদনের পরিকল্পনা
এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গড়করি বলেন, পৌরসভার পৃথক করা বর্জ্য বায়োডাইজেস্টার প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে হাইড্রোজেন উৎপাদন করা যাবে। এই পরিচ্ছন্ন জ্বালানি গণপরিবহনে ব্যবহার করলে দূষণ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয়ও হ্রাস পাবে।
তিনি দাবি করেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার হলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং ভবিষ্যতে নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ভবিষ্যতের পরিবহনে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির গুরুত্ব

গড়করি আরও বলেন, এমন একটি সময় আসতে পারে যখন যানবাহন আরও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ওপর নির্ভর করবে। তাঁর মতে, নতুন প্রযুক্তিকে ঘিরে অনেক সময় সন্দেহ তৈরি হলেও অতীতের বহু ধারণাই পরে বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
তিনি পরিচ্ছন্ন জ্বালানিকে ভারতের পরিবহন খাতের ভবিষ্যৎ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ল্যান্ডফিলের আবর্জনা কাজে লাগছে অবকাঠামো নির্মাণে
মন্ত্রী জানান, দিল্লির ল্যান্ডফিল এলাকায় জমে থাকা প্রায় ৮০ লাখ টন আবর্জনা ইতোমধ্যে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের মধ্যে দেশজুড়ে জমে থাকা আবর্জনার বড় অংশ অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক হতে পারে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাড়ছে আয়
গড়করি বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার পৌর সংস্থা পরিশোধিত বর্জ্যজল বিক্রি করে বছরে উল্লেখযোগ্য আয় করছে। এতে প্রমাণ হয়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।

ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়েও জোরালো অবস্থান
ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে সমালোচনার জবাবও দেন গড়করি। তিনি দাবি করেন, ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারে কোনো গাড়ির ক্ষতির প্রমাণ নেই। এ নিয়ে যেসব নেতিবাচক প্রচারণা চলছে, সেগুলোকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ভারত বছরে বিপুল অর্থ ব্যয় করে জ্বালানি আমদানি করে। তাই আমদানি নির্ভরতা কমাতে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।
ভারত ইতোমধ্যেই পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। আখ, ভুট্টা ও ধানের মতো জৈব উৎস থেকে উৎপাদিত ইথানল ব্যবহার করে তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি তৈরির মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ আরও জোরদার করা হচ্ছে।
আবর্জনা থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন করে গণপরিবহন চালানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















