রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই হামলা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতিই নয়, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতাও সামনে এনে দিয়েছে। দেশটির হাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সোমবারের হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হন। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ছোড়া ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটিও প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।
আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় ঘাটতি
ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সীমিত, আর নতুন করে এগুলো উৎপাদন করতেও দুই বছরের বেশি সময় লাগতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেন পশ্চিমা মিত্রদের কাছে তাদের নিজস্ব মজুত থেকে দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির নেতৃত্বের মতে, বিভিন্ন দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সেগুলো ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তরে রাজনৈতিক অনীহা রয়েছে।
রাশিয়ার কৌশল বদলে যাচ্ছে
যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি না হওয়ায় রাশিয়া এখন বড় শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। ইউক্রেন অধিকাংশ দূরপাল্লার ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরক্ষা না থাকায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
গত কয়েক দিনের মধ্যেই কিয়েভে একাধিক বড় হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। সর্বশেষ হামলায় আবাসিক ভবন ধসে পড়ে বহু মানুষ প্রাণ হারান এবং বিভিন্ন শিল্প স্থাপনা ও গুদামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কেন প্যাট্রিয়ট এত গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত উচ্চগতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে আসে। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে বর্তমানে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ইউক্রেন রাশিয়ার অধিকাংশ দূরপাল্লার ড্রোন এবং বিপুল সংখ্যক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে সফলতার হার অনেক কম। ফলে প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আরও কমে গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
![]()
সমাধানের চেষ্টা চলছে
ইউক্রেন ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি অংশীদার দেশের কাছে দ্রুত প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশেই প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের পথ খুঁজছে।
তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষার বর্তমান ঘাটতি ইউক্রেনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।
এদিকে চলতি বছরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সময় বিপুল সংখ্যক প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হওয়ায় বৈশ্বিক মজুত আরও কমে গেছে। ফলে ইউক্রেনের জন্য নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করাও আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাশিয়ার হামলা অব্যাহত থাকায় ইউক্রেনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রুত কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















