০৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান: চিপের সাফল্যকে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তিতে বদলাবে  সংযোজন সময়ের নাটকীয় জয়ের পর বিতর্ক, আর্জেন্টিনাকে পক্ষপাতের অভিযোগ নাকচ করল ফিফা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘পরিবার নিশ্চিহ্নের’ অভিযোগ, যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন সংঘাত, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা আঘাত হরমুজ ঘিরে যুদ্ধের নতুন মোড়: ইরানে ফের মার্কিন হামলা, উপসাগজে পাল্টা আঘাতে বাড়ছে উত্তেজনা জোকোভিচের পাঁচ ঘণ্টার মহারণ, সেমিফাইনালে সিনারের মুখোমুখি বিশ্বকাপের ফাইনালে কি মঞ্চে উঠছেন জাস্টিন বিবার? গুঞ্জনে সরগরম ভক্তরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভ্রমণ পরিকল্পনা, এক সফরেই সাশ্রয় হতে পারে ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন অধ্যায়, আজই আসছে ওপেনএআইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা মডেল সংঘাতের চাপেও বিশ্ব অর্থনীতি টিকে আছে, তবে প্রবৃদ্ধি কমছে: মূল্যস্ফীতির নতুন শঙ্কা

সংকটময় বিশ্বে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে কানাডা, বদলে যাচ্ছে প্রতিরক্ষা কৌশল

দীর্ঘদিন ধরে সামরিক ব্যয়ে পিছিয়ে থাকা দেশ হিসেবে পরিচিত কানাডা এখন দ্রুত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পথে হাঁটছে। বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে দেশটি সেনাবাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নতুন সাবমেরিন কেনার উদ্যোগ। পুরোনো নৌবহর বদলে সর্বোচ্চ ১২টি আধুনিক সাবমেরিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক ক্রয় কর্মসূচিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিরক্ষায় বড় পরিবর্তনের পথে

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চিত ও বিভক্ত। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মিত্রদের পাশে দাঁড়াতে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।

Mark Carney Launches Bid to Be Canada's Next Prime Minister - The New York  Times

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কানাডার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতিকে যেসব ধারণা পরিচালিত করেছে, সেগুলো এখন আর আগের মতো কার্যকর নয়। নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে হবে।

দ্রুত বাড়ছে সামরিক ব্যয়

গত এক বছরে কানাডা প্রতিরক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটি মোট দেশজ উৎপাদনের ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ করেছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীতে নতুন সদস্য নিয়োগও গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সরকার শুধু নতুন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনাই নয়, সেনাসদস্যদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য বিশেষ বিনিয়োগ সংস্থাও গঠন করেছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বড় বিনিয়োগ

কানাডার ২০২৫ সালের বাজেটে আগামী পাঁচ বছরে সশস্ত্র বাহিনী পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

Canada dials up defense spending with an eye on bridges to Europe

সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি সুযোগ দেওয়া।

বদলাচ্ছে সামরিক কেনাকাটার কৌশল

কানাডা এখন সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রেও নতুন কৌশল অনুসরণ করছে। প্রতিরক্ষা ক্রয়ে বৈচিত্র্য আনতে দেশটি ইউরোপের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ব্যবস্থায় অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক নজরদারি উড়োজাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কানাডা শুধু সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে আরও স্বাধীন ও বহুমুখী প্রতিরক্ষা নীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের আরও প্রস্তুত করতে চায়।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান: চিপের সাফল্যকে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তিতে বদলাবে 

সংকটময় বিশ্বে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে কানাডা, বদলে যাচ্ছে প্রতিরক্ষা কৌশল

১১:৫৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে সামরিক ব্যয়ে পিছিয়ে থাকা দেশ হিসেবে পরিচিত কানাডা এখন দ্রুত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পথে হাঁটছে। বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে দেশটি সেনাবাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নতুন সাবমেরিন কেনার উদ্যোগ। পুরোনো নৌবহর বদলে সর্বোচ্চ ১২টি আধুনিক সাবমেরিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক ক্রয় কর্মসূচিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিরক্ষায় বড় পরিবর্তনের পথে

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চিত ও বিভক্ত। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মিত্রদের পাশে দাঁড়াতে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।

Mark Carney Launches Bid to Be Canada's Next Prime Minister - The New York  Times

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কানাডার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতিকে যেসব ধারণা পরিচালিত করেছে, সেগুলো এখন আর আগের মতো কার্যকর নয়। নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে হবে।

দ্রুত বাড়ছে সামরিক ব্যয়

গত এক বছরে কানাডা প্রতিরক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটি মোট দেশজ উৎপাদনের ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ করেছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীতে নতুন সদস্য নিয়োগও গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সরকার শুধু নতুন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনাই নয়, সেনাসদস্যদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য বিশেষ বিনিয়োগ সংস্থাও গঠন করেছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বড় বিনিয়োগ

কানাডার ২০২৫ সালের বাজেটে আগামী পাঁচ বছরে সশস্ত্র বাহিনী পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

Canada dials up defense spending with an eye on bridges to Europe

সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি সুযোগ দেওয়া।

বদলাচ্ছে সামরিক কেনাকাটার কৌশল

কানাডা এখন সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রেও নতুন কৌশল অনুসরণ করছে। প্রতিরক্ষা ক্রয়ে বৈচিত্র্য আনতে দেশটি ইউরোপের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ব্যবস্থায় অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক নজরদারি উড়োজাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কানাডা শুধু সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে আরও স্বাধীন ও বহুমুখী প্রতিরক্ষা নীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের আরও প্রস্তুত করতে চায়।