বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতা যখন নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, ঠিক সেই সময়েই আজ উন্মুক্ত হচ্ছে ওপেনএআইয়ের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সক্ষম ভাষা মডেল। গত মাসে জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে এর প্রকাশ বিলম্বিত হলেও অতিরিক্ত মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা যাচাই শেষে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই মডেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তির অপব্যবহার, বিশেষ করে সাইবার হামলা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
মার্কিন-চীন প্রতিযোগিতা আরও তীব্র
বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি তৈরির দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অত্যন্ত শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে জটিল ও আন্তঃসংযুক্ত প্রযুক্তি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে আরও উন্নত সাইবার হামলা চালানো সম্ভব হতে পারে।

এই বাস্তবতায় উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রকাশের আগে নিরাপত্তা মূল্যায়নের ওপর জোর দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ। বিশেষ করে সামরিক বা গোয়েন্দা কাজে প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর উন্মুক্ত হচ্ছে নতুন মডেল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ভাষা মডেল প্রকাশের আগে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে সীমিত সংখ্যক নির্বাচিত অংশীদারের কাছে প্রযুক্তিটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল, যাতে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করা যায়।
একই সঙ্গে কম ব্যয়সাপেক্ষ আরও দুটি নতুন মডেলও প্রকাশ করা হচ্ছে, যা বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বাড়ছে প্রতিযোগিতা
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও আরও তীব্র হচ্ছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিজেদের উন্নত ভাষা মডেল উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিচ্ছে। সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে কিছু উন্নত মডেলের ব্যবহার সীমিত করা হলেও পরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করার পর সেই সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু প্রযুক্তি শিল্পেই নয়, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা এবং সাইবার নিরাপত্তাসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। তবে এর পাশাপাশি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাও হবে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















