বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের জয়ের পর ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ম্যাচের রেফারিং। মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে ম্যাচ পরিচালনা এবং ভিএআরের ব্যবহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। অনেক সমর্থক, সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকের দাবি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মিসর বঞ্চিত হয়েছে।
মঙ্গলবারের এই জয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল রেফারিংয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন। বিশেষ করে ভিএআরের ব্যবহার সব ক্ষেত্রে সমানভাবে হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভিএআর পর্যালোচনার পর মিসরের একটি গোল বাতিল করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, একই ধরনের কয়েকটি ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভিএআর ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়া মিসরের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহর ওপর হওয়া একটি ফাউলেরও কোনো শাস্তি না হওয়ায় সমর্থকদের অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়।
সমালোচকদের মতে, একই ধরনের পরিস্থিতিতে দুই দলের ক্ষেত্রে ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়েছে, যা ম্যাচের ফল নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ
ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই দাবি করেন, ভিএআরের ব্যবহার ছিল বাছাই করা এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কেউ কেউ লিখেছেন, এমনভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
অনেক সমর্থক মনে করেন, স্কোরবোর্ডে হারলেও পারফরম্যান্সের দিক থেকে মিসর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের সম্মান অর্জন করেছে। তাদের লড়াকু মানসিকতারও প্রশংসা করেন অনেকে।
রেফারির পারফরম্যান্স নিয়েও সমালোচনা
ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র সমালোচনা হয়েছে। বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, কয়েকটি ফাউল ও হলুদ কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ছিল না। বিশ্লেষকদের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আরও স্বচ্ছ ও একরূপ সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ছিল।
সাবেক খেলোয়াড় ও টেলিভিশন বিশ্লেষকরাও মন্তব্য করেন, আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ম্যাচটিকে রোমাঞ্চকর করলেও বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো সেই লড়াইয়ের সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।
পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া
ম্যাচটি নিয়ে পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। অনেকেই মিসরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রেফারিংয়ের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ বড় দলগুলোর প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগও তুলেছেন।
ফিফার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এই বিতর্কের পর আবারও ভিএআর ব্যবহারের নীতিমালা আরও স্পষ্ট ও ধারাবাহিক করার দাবি জোরালো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় ম্যাচে একই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড অনুসরণ করা হলে এমন বিতর্ক অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
তবে বিতর্কের মাঝেও মিসরের সাহসী পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে। অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও আর্জেন্টিনার জয়কে ঘিরে রেফারিং বিতর্কই এখন ফুটবল অঙ্গনের প্রধান আলোচনার বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















