০৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিএনপির কোনো কলঙ্ক নেই, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট পতিত শাসকগোষ্ঠীর তৈরি: এমপি বাবুল রোজার আগেই বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রস্তুতির আহ্বান এফবিসিসিআইয়ের হামে আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃত্যু ৯৭৯ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের আশা ট্রাম্পের, বোয়িং কেনায় ধন্যবাদ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় দুই বন্ধুর মৃত্যু মুইজ্জুর তথ্য কমিশনার বাছাই: তথ্যের অধিকার কি রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে ঝুঁকছে? লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়তে চেয়েছিলেন স্ত্রী, রাজি ছিলেন না স্বামী—শেষ পর্যন্ত কেন কেনটাকিতেই নতুন জীবন ব্রিটেনের রিজার্ভ বাহিনী কেন আজ অবহেলার প্রতীক আগামী ১০ বছরে সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে যেসব উচ্চ বেতনের চাকরি সন্তানের জন্ম উদযাপন করি, কিন্তু মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের খবর রাখি কি?

ইন্দোনেশিয়ায় ভারতের ডিজিটাল মডেল, আঞ্চলিক পেমেন্ট কূটনীতির নতুন পরীক্ষা

ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট কূটনীতি এবার ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে নতুন মাত্রা পেতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশটি ভারতের কম খরচের ডিজিটাল অবকাঠামো কীভাবে নিজের ব্যবস্থায় কাজে লাগানো যায়, তা খতিয়ে দেখছে। আলোচনার কেন্দ্রে আছে ভারতের তাৎক্ষণিক পেমেন্ট ব্যবস্থা, তবে বিষয়টি শুধু টাকা পাঠানো বা পর্যটকের লেনদেনে সীমিত নয়। ইন্দোনেশিয়া ভারতের বৃহত্তর ডিজিটাল জনপরিকাঠামো মডেলকেও নীতিগত উদাহরণ হিসেবে দেখছে।

ভারতের অভিজ্ঞতা গত এক দশকে দ্রুত বড় হয়েছে। মোবাইলভিত্তিক তাৎক্ষণিক পেমেন্ট, ডিজিটাল পরিচয়, নথি সংরক্ষণ, ভাষাভিত্তিক সেবা ও সরকারি প্ল্যাটফর্মকে একসঙ্গে ব্যবহার করে দেশটি বড় জনসংখ্যার জন্য সেবা পৌঁছানোর একটি মডেল বানিয়েছে। এই মডেলের আকর্ষণ হলো, এটি শুধু বেসরকারি পেমেন্ট ব্যবসা নয়। এর সঙ্গে জড়িত রাষ্ট্র, ব্যাংক, আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ছোট ব্যবসা ও নাগরিক সেবা। ইন্দোনেশিয়ার জন্য এখানে একটি বাস্তব সুবিধা আছে। ছড়ানো দ্বীপপুঞ্জ, বড় জনসংখ্যা, ব্যাংকিং সেবার অসম উপস্থিতি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার ঘনত্ব ডিজিটাল লেনদেনের জন্য নতুন অবকাঠামো দাবি করে। তাই ভারতের অভিজ্ঞতা তাদের কাছে শুধু প্রযুক্তি নয়, শাসনব্যবস্থার পরীক্ষাও।

ডিজিটাল পেমেন্ট কূটনীতি এখন আঞ্চলিক প্রভাব তৈরির নরম পথ হয়ে উঠছে। আগে অবকাঠামো বলতে বন্দর, সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা রেল বোঝানো হতো। এখন পেমেন্ট নেটওয়ার্ক, পরিচয় যাচাই, ডিজিটাল নথি ও সরকারি সেবার প্ল্যাটফর্মও অবকাঠামোর অংশ। যে দেশ অন্য দেশে এ ধরনের ব্যবস্থার মান, নকশা বা সংযোগ তৈরি করতে পারে, সে দেশের প্রভাব বাজারের ভেতরে ঢুকে যায়। ভারত যদি ইন্দোনেশিয়ায় পেমেন্ট সংযোগের বাইরেও ডিজিটাল মডেল রপ্তানি করতে পারে, তাহলে এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনা প্রযুক্তি প্রভাবের পাশাপাশি আরেকটি প্রতিদ্বন্দ্বী পথ তৈরি করবে। এখানে প্রশ্ন হবে, সস্তা ও খোলা ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব, আর ডেটা সার্বভৌমত্ব কতটা সুরক্ষিত।

বাংলাদেশের জন্য এই গল্পের শিক্ষা সরাসরি। দেশে মোবাইল আর্থিক সেবা, বাংলা কিউআর, ব্যাংক অ্যাপ ও সরকারি ডিজিটাল সেবা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে সংযোগ, ব্যবহারকারীর আস্থা, খরচ, নিরাপত্তা ও ডেটা ব্যবস্থাপনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল পেমেন্ট কূটনীতি যদি আঞ্চলিক মান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে, বাংলাদেশকে শুধু ব্যবহারকারী বাজার হয়ে থাকলে চলবে না। নিজস্ব পেমেন্ট অবকাঠামো, আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা, বাংলা ভাষাভিত্তিক সেবা ও প্রবাসী আয়ের ডিজিটাল প্রবাহকে একসঙ্গে ভাবতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় সীমান্তপারের পেমেন্ট, পর্যটন, ক্ষুদ্র রপ্তানি ও অনলাইন সেবার বাজার বড় হচ্ছে। বাংলাদেশ এই বাজারে সংযুক্ত হতে চাইলে প্রযুক্তি নীতির সঙ্গে কূটনীতিকেও মিলিয়ে দেখতে হবে।

ইন্দোনেশিয়ার আগ্রহের নির্দিষ্ট দিকটি হলো, তারা পেমেন্টের বাইরে গোটা ডিজিটাল রাষ্ট্রব্যবস্থার নকশা দেখতে চাইছে। এখানেই ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট কূটনীতি বড় পরীক্ষা দেবে। একটি দেশে সফল মডেল অন্য দেশে সরাসরি বসানো যায় না। আইন, ভাষা, ব্যাংকিং অভ্যাস, নগদ অর্থনীতি ও রাজনৈতিক আস্থা আলাদা। সামনে নজর থাকবে, ভারত–ইন্দোনেশিয়া আলোচনা শুধু যৌথ পেমেন্ট সংযোগে আটকে থাকে, নাকি ডিজিটাল জনপরিকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে যায়। সেই উত্তর দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির কোনো কলঙ্ক নেই, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট পতিত শাসকগোষ্ঠীর তৈরি: এমপি বাবুল

ইন্দোনেশিয়ায় ভারতের ডিজিটাল মডেল, আঞ্চলিক পেমেন্ট কূটনীতির নতুন পরীক্ষা

০৬:০৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট কূটনীতি এবার ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে নতুন মাত্রা পেতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশটি ভারতের কম খরচের ডিজিটাল অবকাঠামো কীভাবে নিজের ব্যবস্থায় কাজে লাগানো যায়, তা খতিয়ে দেখছে। আলোচনার কেন্দ্রে আছে ভারতের তাৎক্ষণিক পেমেন্ট ব্যবস্থা, তবে বিষয়টি শুধু টাকা পাঠানো বা পর্যটকের লেনদেনে সীমিত নয়। ইন্দোনেশিয়া ভারতের বৃহত্তর ডিজিটাল জনপরিকাঠামো মডেলকেও নীতিগত উদাহরণ হিসেবে দেখছে।

ভারতের অভিজ্ঞতা গত এক দশকে দ্রুত বড় হয়েছে। মোবাইলভিত্তিক তাৎক্ষণিক পেমেন্ট, ডিজিটাল পরিচয়, নথি সংরক্ষণ, ভাষাভিত্তিক সেবা ও সরকারি প্ল্যাটফর্মকে একসঙ্গে ব্যবহার করে দেশটি বড় জনসংখ্যার জন্য সেবা পৌঁছানোর একটি মডেল বানিয়েছে। এই মডেলের আকর্ষণ হলো, এটি শুধু বেসরকারি পেমেন্ট ব্যবসা নয়। এর সঙ্গে জড়িত রাষ্ট্র, ব্যাংক, আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ছোট ব্যবসা ও নাগরিক সেবা। ইন্দোনেশিয়ার জন্য এখানে একটি বাস্তব সুবিধা আছে। ছড়ানো দ্বীপপুঞ্জ, বড় জনসংখ্যা, ব্যাংকিং সেবার অসম উপস্থিতি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার ঘনত্ব ডিজিটাল লেনদেনের জন্য নতুন অবকাঠামো দাবি করে। তাই ভারতের অভিজ্ঞতা তাদের কাছে শুধু প্রযুক্তি নয়, শাসনব্যবস্থার পরীক্ষাও।

ডিজিটাল পেমেন্ট কূটনীতি এখন আঞ্চলিক প্রভাব তৈরির নরম পথ হয়ে উঠছে। আগে অবকাঠামো বলতে বন্দর, সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা রেল বোঝানো হতো। এখন পেমেন্ট নেটওয়ার্ক, পরিচয় যাচাই, ডিজিটাল নথি ও সরকারি সেবার প্ল্যাটফর্মও অবকাঠামোর অংশ। যে দেশ অন্য দেশে এ ধরনের ব্যবস্থার মান, নকশা বা সংযোগ তৈরি করতে পারে, সে দেশের প্রভাব বাজারের ভেতরে ঢুকে যায়। ভারত যদি ইন্দোনেশিয়ায় পেমেন্ট সংযোগের বাইরেও ডিজিটাল মডেল রপ্তানি করতে পারে, তাহলে এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনা প্রযুক্তি প্রভাবের পাশাপাশি আরেকটি প্রতিদ্বন্দ্বী পথ তৈরি করবে। এখানে প্রশ্ন হবে, সস্তা ও খোলা ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব, আর ডেটা সার্বভৌমত্ব কতটা সুরক্ষিত।

বাংলাদেশের জন্য এই গল্পের শিক্ষা সরাসরি। দেশে মোবাইল আর্থিক সেবা, বাংলা কিউআর, ব্যাংক অ্যাপ ও সরকারি ডিজিটাল সেবা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে সংযোগ, ব্যবহারকারীর আস্থা, খরচ, নিরাপত্তা ও ডেটা ব্যবস্থাপনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল পেমেন্ট কূটনীতি যদি আঞ্চলিক মান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে, বাংলাদেশকে শুধু ব্যবহারকারী বাজার হয়ে থাকলে চলবে না। নিজস্ব পেমেন্ট অবকাঠামো, আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা, বাংলা ভাষাভিত্তিক সেবা ও প্রবাসী আয়ের ডিজিটাল প্রবাহকে একসঙ্গে ভাবতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় সীমান্তপারের পেমেন্ট, পর্যটন, ক্ষুদ্র রপ্তানি ও অনলাইন সেবার বাজার বড় হচ্ছে। বাংলাদেশ এই বাজারে সংযুক্ত হতে চাইলে প্রযুক্তি নীতির সঙ্গে কূটনীতিকেও মিলিয়ে দেখতে হবে।

ইন্দোনেশিয়ার আগ্রহের নির্দিষ্ট দিকটি হলো, তারা পেমেন্টের বাইরে গোটা ডিজিটাল রাষ্ট্রব্যবস্থার নকশা দেখতে চাইছে। এখানেই ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট কূটনীতি বড় পরীক্ষা দেবে। একটি দেশে সফল মডেল অন্য দেশে সরাসরি বসানো যায় না। আইন, ভাষা, ব্যাংকিং অভ্যাস, নগদ অর্থনীতি ও রাজনৈতিক আস্থা আলাদা। সামনে নজর থাকবে, ভারত–ইন্দোনেশিয়া আলোচনা শুধু যৌথ পেমেন্ট সংযোগে আটকে থাকে, নাকি ডিজিটাল জনপরিকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে যায়। সেই উত্তর দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।