চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহরের একটি জুতা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং আগুনের কারণ খুঁজে বের করতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগুনে আটকে পড়েন বহু শ্রমিক
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানাটিতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই বহুতল ভবনের ওপরের অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়। আগুনের তীব্রতায় ভবনের ছাদে অন্তত এক ডজন মানুষ আটকা পড়েন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন।
উদ্ধার অভিযান ও তদন্তের নির্দেশ
ঘটনার পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জীবিতদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, আগুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত নিহত ও আহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে
দমকল বাহিনীর সদস্যরা কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর বিকেলের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এরপর ভবনের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের কাজ অব্যাহত রাখা হয়।
কারখানায় কর্মরত ছিলেন দেড় শতাধিক কর্মী
অগ্নিকাণ্ডের শিকার কারখানাটি একটি জুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। প্রতিষ্ঠানটিতে অন্তত ১৫৫ জন কর্মী কাজ করতেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার সময় কতজন কর্মী ভবনের ভেতরে ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
এ ঘটনার পর কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চীনের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অতীতেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তাই এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি আবারও সামনে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















