ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক নিজস্বভাবে উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে এই সিদ্ধান্ত দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কেও নতুন ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
ন্যাটো সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ করার প্রয়োজন না হয়।
ট্রাম্প জানান, তিনি আক্রমণাত্মক অস্ত্রের চেয়ে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রকে বেশি গুরুত্ব দেন। তবে তিনি লাইসেন্স কার্যকর হওয়ার সময়সূচি বা উৎপাদনের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।
সম্পর্কের নতুন মোড়
একসময় জেলেনস্কির কঠোর সমালোচক ছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এবার তিনি বলেন, তাদের মধ্যে এখন খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই যুদ্ধের অবসান চায়।
ট্রাম্প জানান, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলবেন। তার ভাষায়, এই যুদ্ধের সমাধান সহজ হবে বলে একসময় মনে হলেও বাস্তবে তা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে জেলেনস্কি ট্রাম্পের প্রতি আশা প্রকাশ করে বলেন, তিনি যুদ্ধ বন্ধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ প্যাট্রিয়ট
প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম কার্যকর অস্ত্রগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় এই ব্যবস্থার ওপর ইউক্রেনের নির্ভরতা অনেক বেশি।
ট্রাম্প জানান, কিছু প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধক স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইউক্রেনে পাঠানো হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রয়োজন থাকায় তাদের মজুদও সীমিত।

ইউরোপেই হতে পারে উৎপাদন
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে নয়, বরং জার্মানি বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশে উৎপাদিত হতে পারে। এতে সম্ভাব্য রুশ হামলার ঝুঁকি কমবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত উৎপাদন শুরু করা হবে। তার বিশ্বাস, ইউক্রেন জটিল অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনপ্রণেতা। তাদের মতে, ইউক্রেনকে নিজস্ব উৎপাদনের সুযোগ দেওয়া হলে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা করা সহজ হবে।
বিশ্লেষকদেরও ধারণা, ন্যাটো সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হতে পারে এই সিদ্ধান্ত। যদিও এর তাৎক্ষণিক সামরিক প্রভাব সীমিত, তবে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
রাশিয়ার হামলা অব্যাহত
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আরও জোরদার করেছে রাশিয়া। সর্বশেষ হামলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী বিপুল সংখ্যক ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি। ফলে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি আবারও সামনে এসেছে।
রাশিয়াও ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে এবং এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















