মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বুশেহর প্রদেশে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি স্থাপনা, চাবাহার বন্দরের অবকাঠামো, ইরানশাহর বিমানবন্দর এবং গোলেস্তান প্রদেশের কিছু পরিবহন সংযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের এই হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়, কুয়েত ও জর্ডান জানায় তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ইরানের প্রধান আলোচক পুনর্ব্যক্ত করেন, হরমুজ প্রণালি কেবল ‘ইরানের শর্তেই’ পুনরায় পুরোপুরি খুলবে।
উত্তেজনার কেন্দ্রে বুশেহর
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বুশেহর প্রদেশের উপ-গভর্নর এহসান জাহানিয়ান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বুশেহরের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের এলাকা, চোগাদাকের একটি সামরিক ঘাঁটি এবং একটি মাছ ধরার জেটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।
এর আগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) সতর্ক করেছিল, বুশেহর কেন্দ্রের আশপাশে হামলা পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত এবং বর্তমানে সেখানে একটি রিয়্যাক্টর চালু রয়েছে, আরও দুটি নির্মাণাধীন।

প্রতিবেশী দেশগুলোও সতর্ক
কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০টি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন আহত হলেও তার অবস্থা স্থিতিশীল। জর্ডানও জানায়, তাদের আকাশসীমা অতিক্রম করা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনীও কয়েকটি আকাশ হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে।
ইরানের অভিযোগ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘জঘন্য যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের অভিযোগ, রেলপথ ও সেতুসহ বেসামরিক অবকাঠামোও হামলার শিকার হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য হুমকি কমাতেই নতুন দফার হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সতর্ক করে বলেছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর জবাব দেবে।
তেলের বাজারে প্রভাব
সংঘাতের নতুন মাত্রা বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। এশিয়ার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নেবে, নাকি কূটনৈতিক উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে—সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রধান উদ্বেগ।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বুশেহর, চাবাহারসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















