বিতর্ক ও আইনি জটিলতায় শুরু হওয়া যুক্তরাজ্য সফরের মাঝেই নতুন ইতিবাচক বার্তা দিলেন ব্রিটেনের প্রিন্স হ্যারি। সফরের তৃতীয় দিনে তিনি বার্মিংহাম শিশু হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকা একটি শিশু সহায়তা উদ্যোগের কাজের প্রশংসা করেন।
হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। তিনি এক নার্সকে আলিঙ্গন করেন এবং পরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে শিশু রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তিনি কিছু সময় কাটান।
শিশুদের সেবায় দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা
প্রিন্স হ্যারি ২০০৭ সাল থেকে শিশুদের জটিল স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা একটি দাতব্য সংস্থার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্ত আছেন। সংস্থাটি গুরুতর অসুস্থ শিশু এবং তাদের পরিবারের পাশে থেকে চিকিৎসা ও পরিচর্যার সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এ বছর সংস্থাটির বিশেষায়িত নার্স কর্মসূচির ২০ বছর পূর্তি হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশিক্ষিত নার্সরা হাসপাতাল ও বাড়ির মধ্যে চিকিৎসা সমন্বয় করে শিশুদের সেবা নিশ্চিত করেন। এই উদ্যোগের অর্থায়নেও প্রিন্স হ্যারি অতীতে সহায়তা করেছিলেন।
সফরের সময় তিনি এমন এক নার্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যিনি শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়ক যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল শিশুদের নিয়ে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও কয়েকজন শিশুর সঙ্গে কথা বলেন।
বিতর্কের পর ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা
সপ্তাহের শুরুতে প্রিন্স হ্যারির সফর নানা বিতর্কে পড়ে যায়। একটি বহুল আলোচিত মামলায় আদালতে পরাজয়ের খবর প্রকাশের পর তার প্রথম কর্মসূচি আড়ালে চলে যায়।
এরপর রাজপ্রাসাদে তার থাকার বিষয়েও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তার পক্ষ থেকে এক ধরনের তথ্য দেওয়া হলেও পরে জানানো হয়, সেখানে থাকার অনুমতি আগে থেকেই দেওয়া হয়নি।
আরও একটি অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশের সুযোগ না দেওয়ায় সফর নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়।
![]()
আগামী বছরের ক্রীড়া আসরের প্রস্তুতি
বৃহস্পতিবার লন্ডনের একটি রেলস্টেশনে আগামী বছরের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরকে সামনে রেখে বিশেষ একটি ট্রেনের উদ্বোধন করা হয়। এই ট্রেনটি লন্ডন থেকে বার্মিংহাম রুটে চলবে। আগামী বছর বার্মিংহামেই অনুষ্ঠিত হবে আহত ও অসুস্থ সাবেক ও বর্তমান সামরিক সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।
পরিবারের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের কারণে সফরের শুরুতে প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান এবং তাদের দুই সন্তান যুক্তরাজ্যে আসেননি। তবে সপ্তাহের বাকি সময়ে তারা সফরে যোগ দিতে পারেন কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি।
এদিকে প্রিন্স হ্যারি ও রাজা চার্লসের সম্ভাব্য সাক্ষাৎ নিয়েও আলোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি।
বিতর্কের মধ্যেও শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রিন্স হ্যারি তার সফরকে ইতিবাচক বার্তায় এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
প্রিন্স হ্যারির বার্মিংহাম শিশু হাসপাতাল সফর, অসুস্থ শিশুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বিতর্কের পর যুক্তরাজ্য সফর নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















