টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাতসুও-ইওয়াসাওয়া ল্যাবের অনলাইন কোর্স শিক্ষার্থীদের জন্য এআই দক্ষতা উন্নয়নকে আরও আন্তর্জাতিক করছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল সেশনের আবেদন শেষ হয়েছে। পরবর্তী সেশন সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের দিকে শুরু হওয়ার কথা। কোর্সটি বিনা খরচে, অনলাইনে এবং ডেটা সায়েন্স থেকে মেশিন লার্নিংয়ের ভিত্তি পর্যন্ত হাতে-কলমে শেখার জন্য সাজানো।
এ ধরনের কোর্সের গুরুত্ব শুধু বিদেশি সার্টিফিকেটে নেই। গ্লোবাল কনজিউমার ইন্টেলিজেন্স নামে পরিচিত এই উদ্যোগে ২০২৫ সালে ৩০টির বেশি দেশ ও ৪৩০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৭,৭০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। পাঠক্রমে ডেটা ব্যবহার, পাইথনভিত্তিক বিশ্লেষণ, মেশিন লার্নিং, বাস্তব ব্যবসায়িক প্রয়োগ, প্রতিযোগিতা ও চূড়ান্ত অ্যাসাইনমেন্ট আছে। শিক্ষার্থী হিসেবে যোগ্যতা দেখাতে হয়। শুধু স্মার্টফোনে অংশ নেওয়া নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কম্পিউটার, স্থিতিশীল ইন্টারনেট এবং নিয়মিত শেখার সক্ষমতা প্রয়োজন। এই শর্তগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনলাইন কোর্স অনেকের কাছে সহজ মনে হলেও প্রকল্পভিত্তিক শেখা সময়, মনোযোগ এবং নিয়মিত অনুশীলন দাবি করে। এআই দক্ষতা উন্নয়ন তাই কেবল বক্তৃতা শোনা নয়, কাজ জমা দেওয়া এবং সমস্যা সমাধানের অনুশীলন।
বাংলাদেশের জন্য এই ধরনের সুযোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এআই নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে, কিন্তু শিক্ষাক্রম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কম্পিউটিং সুবিধা এবং নৈতিক ব্যবহারের পাঠ সব জায়গায় সমান নয়। বহু শিক্ষার্থী ইউটিউব, ছোট কোর্স ও ব্যক্তিগত অনুশীলনের ওপর নির্ভর করে দক্ষতা গড়ে তুলছেন। আন্তর্জাতিক অনলাইন কোর্স সেই ব্যবধান কিছুটা কমাতে পারে। তবে ভাষা, সময় ব্যবস্থাপনা, স্থিতিশীল ইন্টারনেট এবং প্রকল্পভিত্তিক কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলে অনেকেই মাঝপথে বাদ পড়বেন। তাই এআই দক্ষতা উন্নয়নকে শুধু ভর্তি বিজ্ঞপ্তি হিসেবে দেখলে চলবে না। বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং শিল্পখাতকে শেখার পর ব্যবহারযোগ্য কাজের পথও খুলতে হবে। একজন শিক্ষার্থী যদি শুধু মডেল চালাতে শেখেন, তা যথেষ্ট নয়। তাঁকে ডেটার ভুল, পক্ষপাত, গোপনীয়তা এবং বাস্তব সমস্যার সীমাও বুঝতে হবে।
জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থাগুলো এখন এআইকে মানবসম্পদ বিনিয়োগের অংশ হিসেবে দেখছে। অবকাঠামো, ডেটাসেট, গবেষণা, নিরাপত্তা এবং দক্ষতা তৈরিকে একসঙ্গে ধরার প্রবণতা বাড়ছে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এতে দুটি বার্তা আছে। প্রথমত, এআই শেখা আর কেবল সফটওয়্যার কোম্পানির কাজ নয়। কৃষি, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, গণপরিবহন, সংবাদ, প্রশাসন ও শিক্ষা সবখানেই ডেটা বোঝা কর্মদক্ষতার অংশ হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক কোর্সে অংশ নেওয়ার অর্থ শুধু শেখা নয়, বৈশ্বিক মানের সঙ্গে নিজের দক্ষতা মেলানো। এই অভিজ্ঞতা স্থানীয় চাকরির সাক্ষাৎকারে, গবেষণা প্রকল্পে এবং ফ্রিল্যান্স কাজেও কাজে লাগতে পারে। তবে সার্টিফিকেটের চেয়ে পোর্টফোলিও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এপ্রিল সেশনের দরজা বন্ধ হওয়া মানে সুযোগ শেষ নয়। বরং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের সম্ভাব্য সেশন সামনে রেখে প্রস্তুতির সময় শুরু হয়েছে। যাদের কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও ইংরেজি পাঠ অনুসরণের ন্যূনতম সক্ষমতা আছে, তারা আগে থেকেই পাইথন, ডেটা পরিষ্কার, গ্রাফ আঁকা এবং ছোট প্রকল্প অনুশীলন করতে পারেন। এআই দক্ষতা উন্নয়ন তখন সিভির আরেকটি লাইন হবে না। এটি হবে এমন একটি ব্যবহারিক ভিত্তি, যা বাংলাদেশের কর্মবাজারে তরুণদের শুধু ব্যবহারকারী নয়, সমাধান নির্মাতা হিসেবে দাঁড় করাতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















