টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং পার্বত্য জেলাগুলোতে এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে ১৯ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন, বান্দরবানে পাঁচজন এবং রাঙামাটিতে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সুরক্ষা এবং তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য মোট ১,০৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে।
এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে ৮ হাজার ৩৪০ জন, রাঙামাটিতে ১২৬ জন, খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং বান্দরবানে ২ হাজার ১৭৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

ত্রাণ সহায়তা আরও বাড়ানো হয়েছে
মন্ত্রী জানান, গত ৭ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলায় প্রাথমিকভাবে জিআর কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি জেলায় ১০ লাখ টাকা এবং ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার আরও অতিরিক্ত সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন বরাদ্দ অনুযায়ী চট্টগ্রাম পেয়েছে ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজার ২০ লাখ টাকা এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান প্রত্যেকটি জেলা পেয়েছে ১০ লাখ টাকা করে।
চালের বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত হিসেবে চট্টগ্রামের জন্য ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারের জন্য ২৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ স্থানে যেতে প্রচার
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে জানান ত্রাণমন্ত্রী। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, শিশু খাদ্য এবং আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য প্রতিদিন তিন বেলার খাবারের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জেলার জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজন হলে আরও জরুরি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও সংসদে জানানো হয়।
পাহাড়ধস রোধে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা
বারবার পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা উল্লেখ করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে খাসজমি ও সরকারি জমিতে ঘর নির্মাণ করে পুনর্বাসনের প্রস্তুতি রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জনসচেতনতা বাড়ানো এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর আশা, সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে পাহাড়ধসে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়ক হবে।
এদিকে ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সংসদকে জানান, বুধবার তিন পার্বত্য জেলায় মোট ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা-ভূমিধসে ৩০ প্রাণহানি, ১,০৫৭ আশ্রয়কেন্দ্রে চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















