অস্ট্রেলিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সফর শেষে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার প্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা এবং সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ১৮টি সমঝোতা ও যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে।
দুই দেশের যৌথ উদ্যোগগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় বড় অগ্রগতি
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হলো প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ক যৌথ ঘোষণা। এর আওতায় দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ জোরদার করা হবে।
এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বাড়াতে একটি নতুন রোডম্যাপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তথ্য বিনিময়, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং যৌথ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে ভারতের কোস্টগার্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মেরিটাইম বর্ডার কমান্ডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে।
জ্বালানি ও পারমাণবিক সহযোগিতা
দুই দেশ জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতিতে নতুন করে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি ভারত-অস্ট্রেলিয়া বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির প্রশাসনিক ব্যবস্থা চূড়ান্ত হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ আরও সুগম হবে।
সাইবার প্রযুক্তি, শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন উদ্যোগ
সাইবার নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করবে।
অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটি বেঙ্গালুরুতে এবং ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি গুরুগ্রামে ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মানোন্নয়নে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
![]()
গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন সহযোগিতা শুরু হচ্ছে। ওষুধ গবেষণা, ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ বিনিময় কর্মসূচি নিয়ে একাধিক সমঝোতা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল লাইব্রেরির তথ্য ব্যবহারে সহযোগিতার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন ফেরত
সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ভারতের ১১ ও ১২ শতকের তিনটি প্রাচীন নিদর্শন ফেরত দেওয়ার ঘোষণা। এর মধ্যে রয়েছে নন্দী, কালী-সংবলিত ত্রিশূল এবং ছয়মুখী স্কন্দ (কার্তিকেয়)-এর ভাস্কর্য।
দক্ষতা উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি
ভুবনেশ্বরে খনি ও খনি প্রযুক্তি বিষয়ক একটি উৎকর্ষ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্যও সমঝোতা হয়েছে। এছাড়া ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রশিক্ষণ একাডেমি চালুর মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার নারী ও তরুণকে সৌর প্রযুক্তিবিদ হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া উদীয়মান প্রযুক্তি, চলচ্চিত্র শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সামরিক প্রশিক্ষণসহ আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৮-২৯ সময়কালে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স কলেজে একজন ভারতীয় সামরিক প্রশিক্ষক নিয়োগের আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।
ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
এই সফরে ঘোষিত সমঝোতাগুলো দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও বিস্তৃত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক জোরদারে মোদির সফরে প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক জ্বালানি, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















