০৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
শেয়ারবাজারে সপ্তাহ শেষ ইতিবাচক ধারায়, বেড়েছে সূচক ও লেনদেন ময়মনসিংহে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার রায় ২৫ দিনে, তিনজনের মৃত্যুদণ্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি ৩০, আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে ১,০৫৭টি ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দরকার উদ্ভাবনও, প্রাপ্যতাও কবিতার জন্ম: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে সাহিত্যিক আত্মপরিচয়ের নির্মাণ বাংলাদেশ ব্যাংকে এআই ব্যবহারে কড়াকড়ি, গোপন তথ্য সুরক্ষার নির্দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ভারতের ডিজিটাল মডেল, আঞ্চলিক পেমেন্ট কূটনীতির নতুন পরীক্ষা ইরানে নতুন হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচে রেফারিং নিয়ে তীব্র বিতর্ক, বিশ্বকাপে ভিএআর ব্যবহারে নতুন প্রশ্ন দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ মামলায় গ্রেপ্তার ৫, এনসিপির দুই নেতাকে আটকের দাবি পুলিশের

দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ মামলায় গ্রেপ্তার ৫, এনসিপির দুই নেতাকে আটকের দাবি পুলিশের

দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সংশ্লিষ্ট দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় অপহৃত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার পাঁচজনকেই অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপহরণের অভিযোগ ও উদ্ধার অভিযান

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ (৫৮) রোববার রাতে নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত হন। এরপর তার পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তার ছেলে মো. মামুনকে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে ডেকে পাঠানো হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ।

অভিযানের সময় একটি প্রাইভেটকার থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন এবং এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য বলে পুলিশের দাবি করা হাসীন ইসরাক মিমকে আটক করা হয়।

থানায় উত্তেজনা, আরও তিনজন আটক

পুলিশের ভাষ্য, আটক দুইজনকে থানায় নেওয়ার পর এনসিপি ও যুব শক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী তাদের ছাড়িয়ে নিতে সেখানে যান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।

এই ঘটনার পর মিনাজ (২৯), প্রেম (২২) ও হৃদয় ইসলাম (২২) নামে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।

মামলা ও তদন্ত

সোমবার রাতে অপহৃত আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরন্নবী বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির সঙ্গে টাকা লেনদেন-সংক্রান্ত একটি বিষয় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট হবে।

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার রাতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালি থানার সামনে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এনসিপি-সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এনসিপির বক্তব্য

জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির পুলিশের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া হাসীন ইসরাক মিম জেলা কমিটির সদস্য নন।

তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ মামলায় পাঁচজন গ্রেপ্তার। অভিযানে উদ্ধার হয়েছেন অপহৃত ব্যক্তি। ঘটনার তদন্ত চলছে, জানিয়েছে পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেয়ারবাজারে সপ্তাহ শেষ ইতিবাচক ধারায়, বেড়েছে সূচক ও লেনদেন

দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ মামলায় গ্রেপ্তার ৫, এনসিপির দুই নেতাকে আটকের দাবি পুলিশের

০৫:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সংশ্লিষ্ট দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় অপহৃত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার পাঁচজনকেই অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপহরণের অভিযোগ ও উদ্ধার অভিযান

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ (৫৮) রোববার রাতে নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত হন। এরপর তার পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তার ছেলে মো. মামুনকে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে ডেকে পাঠানো হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ।

অভিযানের সময় একটি প্রাইভেটকার থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন এবং এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য বলে পুলিশের দাবি করা হাসীন ইসরাক মিমকে আটক করা হয়।

থানায় উত্তেজনা, আরও তিনজন আটক

পুলিশের ভাষ্য, আটক দুইজনকে থানায় নেওয়ার পর এনসিপি ও যুব শক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী তাদের ছাড়িয়ে নিতে সেখানে যান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।

এই ঘটনার পর মিনাজ (২৯), প্রেম (২২) ও হৃদয় ইসলাম (২২) নামে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।

মামলা ও তদন্ত

সোমবার রাতে অপহৃত আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরন্নবী বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির সঙ্গে টাকা লেনদেন-সংক্রান্ত একটি বিষয় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট হবে।

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার রাতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালি থানার সামনে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এনসিপি-সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এনসিপির বক্তব্য

জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির পুলিশের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া হাসীন ইসরাক মিম জেলা কমিটির সদস্য নন।

তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ মামলায় পাঁচজন গ্রেপ্তার। অভিযানে উদ্ধার হয়েছেন অপহৃত ব্যক্তি। ঘটনার তদন্ত চলছে, জানিয়েছে পুলিশ।