মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই নতুন সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে। এর আগে প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জাহাজে হামলার জবাব দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলা
-696080187204e.jpg)
মার্কিন হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। দুটি দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এদিকে কাতার সাময়িকভাবে উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হয়।
দক্ষিণ ইরানের একাধিক স্থাপনায় হামলা
নতুন হামলায় ইরানের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে একাধিক এলাকা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। হামলার মধ্যে ছিল বন্দর আব্বাস, কোনারাক ও চাবাহারসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও সামরিক স্থাপনা।
চাবাহারে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হলেও পরে বেশির ভাগ এলাকায় তা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে একটি সামুদ্রিক নৌযান নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে হামলায় এক দমকলকর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উত্তরাঞ্চলেও একটি রেলসেতুতে হামলার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

উত্তেজনা বাড়াচ্ছে কূটনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, যেকোনো হামলার জবাব দেওয়া হবে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থাপনা ইরানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে, বাইরের চাপের মাধ্যমে নয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
ইরান অভিযোগ করেছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এ বিষয়ে তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির আশা আরও ক্ষীণ
সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ফলে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের সম্ভাবনা বড় ধাক্কা খেয়েছে। ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে এবং স্থায়ী সমঝোতা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন।

তবে তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেবে বলে তিনি মনে করেন না। ভবিষ্যতে আলোচনা চলবে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়।
তেলের বাজারে প্রভাব
নতুন সামরিক উত্তেজনার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হওয়ায় সংঘাত বাড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















