সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভ্রমণ পরিকল্পনার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন অনেক ভ্রমণকারী গন্তব্য নির্বাচন, হোটেল তুলনা, বাজেট নির্ধারণ, ভ্রমণসূচি তৈরি থেকে শুরু করে ভিসার প্রস্তুতি পর্যন্ত নানা কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিচ্ছেন। এর ফলে সময় বাঁচার পাশাপাশি ভ্রমণ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দ্রুত বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
ভ্রমণ খাতের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রায় আড়াই লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ মানুষ ভ্রমণ পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিচ্ছেন। ঈদ, গ্রীষ্মকালীন ছুটি, শীতকালীন অবকাশ এবং দীর্ঘ ছুটির সময় এই সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।
আগে যেখানে একটি ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে একাধিক ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করতে হতো, এখন একটি নির্দিষ্ট নির্দেশনার মাধ্যমেই গন্তব্য, হোটেল, বিমানের সময়সূচি, স্থানীয় পরিবহন, দর্শনীয় স্থান এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

ভ্রমণ ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় পরিকল্পনা করলে সাধারণ অবকাশ যাপনের ভ্রমণে মোট ব্যয়ের ৮ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব।
যেসব দম্পতি বা একক ভ্রমণকারীর সফরের বাজেট ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার দিরহামের মধ্যে থাকে, তারা প্রায় ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ দিরহাম পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারেন। অন্যদিকে একটি পরিবারের সুপরিকল্পিত ভ্রমণে ১ হাজার ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম পর্যন্ত খরচ কমানো সম্ভব।
এই সাশ্রয় আসে তুলনামূলক কম ভাড়ার ফ্লাইট নির্বাচন, সুবিধাজনক এলাকায় হোটেল বাছাই, কম ব্যয়ের পরিবহন ব্যবস্থা, সাশ্রয়ী দর্শনীয় স্থান নির্বাচন এবং প্রতিদিনের যাতায়াতের কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর বাড়ছে আস্থা
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের ভ্রমণকারীদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতি আস্থার হার ৮১ শতাংশ। বৈশ্বিক গড় যেখানে ৫৪ শতাংশ, সেখানে এই দুই দেশের ব্যবহারকারীরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করছেন।

এই আস্থার কারণে ভ্রমণ পরিকল্পনার শুরুতেই মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বিভিন্ন বিকল্প যাচাই করছেন। বিশেষ করে কম খরচের গন্তব্য, মৌসুমি ভ্রমণ এবং বিমানের ভাড়া তুলনা করার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
ট্রাভেল এজেন্টের ভূমিকা কি কমছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভ্রমণ পরিকল্পনার প্রথম ধাপকে বদলে দিলেও এটি ট্রাভেল এজেন্টদের পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করছে না।
সাধারণ ভ্রমণের ক্ষেত্রে মানুষ দ্রুত তথ্য ও ব্যক্তিগত চাহিদাভিত্তিক পরামর্শ পেতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করছেন। তবে বিলাসবহুল ভ্রমণ, বড় পারিবারিক সফর, জটিল ভিসা প্রক্রিয়া, ধর্মীয় ভ্রমণ, করপোরেট সফর কিংবা শেষ মুহূর্তের সমস্যার ক্ষেত্রে এখনো অভিজ্ঞ ট্রাভেল পরামর্শকদের গুরুত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের ভ্রমণ পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হবে প্রাথমিক সহকারী, আর জটিল সিদ্ধান্ত ও বাস্তব ব্যবস্থাপনায় মানুষের অভিজ্ঞতাই থাকবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ভ্রমণ খাতের পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভ্রমণসেবায় ব্যবহারকারীদের বেশির ভাগ অনুসন্ধান মৌসুমি ভ্রমণ, বিমানের টিকিট এবং বাজেটকেন্দ্রিক। যারা এসব সেবা ব্যবহার করছেন, তাদের বড় একটি অংশ পরবর্তীতে প্রস্তাবিত ফ্লাইটের বিস্তারিত তথ্যও দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ভ্রমণ পরিকল্পনার প্রাথমিক পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব দ্রুত বাড়ছে।




















