১০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সব এফআইআর বাতিল সুপ্রিম কোর্টের বৃদ্ধার চোখে বিজয়ের দামি চশমা, মানবিকতায় মুগ্ধ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর ভক্ত নেপালের ভয়াবহ বন্যায় জলবায়ু সংকটের দায় এড়াচ্ছে পশ্চিমা গণমাধ্যম? হারাল্ডের মৃত্যুর পর নরওয়েতে রাজতন্ত্রের সমর্থন বেড়ে ৭২ শতাংশ, নতুন রাজার শপথ গোপন তহবিলের নামে জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ নেই নতুন বিশ্বব্যবস্থা আসছে, কিন্তু আমরা কি তার জন্য প্রস্তুত? ঢাকায় কমছে দুপুরের খাবার, বাড়ছে খরচের চাপ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভারে ট্যাক্স ছাড়, স্বস্তি ছোট ব্যবসায়ীদের সিলেট সীমান্তে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বিএসইসির নতুন খসড়া: আইপিও ছাড়াই সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে মৃত্যু এক লাখের বেশি, স্বজন হারানোর বেদনায় বিধ্বস্ত একটি জাতি

মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা এক লাখ অতিক্রম করেছে বলে বিভিন্ন মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও যুদ্ধক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহের সীমাবদ্ধতার কারণে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন, তবুও সংঘাতের ব্যাপ্তি, নিহত মানুষের সংখ্যা এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর অবস্থা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে মিয়ানমার এক গভীর জাতীয় বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিদিনই দেশটির কোথাও না কোথাও নতুন করে সংঘর্ষ, বিমান হামলা কিংবা গোলাবর্ষণের খবর আসছে। এর সঙ্গে বাড়ছে স্বজন হারানো পরিবারের দীর্ঘশ্বাস, বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের অনিশ্চয়তা। যুদ্ধ এখন শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক লড়াই নয়, এটি লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নির্মম বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

শোকে ডুবে আছে হাজারো পরিবার

What’s happening in Myanmar’s civil war as military stages elections?

মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে নিহত স্বজনদের স্মরণে এখনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন অসংখ্য মানুষ। পরিবারগুলো নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার বিতরণ, দান কিংবা প্রার্থনার মাধ্যমে প্রিয়জনদের স্মরণ করছে। যুদ্ধের কারণে যাদের সন্তান, ভাই, বোন বা বাবা-মা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের অনেকেই এখনো সেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

অনেক পরিবারের মতে, এই সংঘাত একটি পুরো প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে প্রাণহানির হার বেশি হওয়ায় অনেক গ্রাম ও শহরে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে পরিবারগুলো শুধু প্রিয়জনই হারায়নি, হারিয়েছে তাদের ভবিষ্যতের ভরসাও।

এক লাখের বেশি প্রাণহানি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, গৃহযুদ্ধে নিহত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অনেক এলাকায় স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংঘর্ষে শুধু যোদ্ধারাই নয়, বহু সাধারণ মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন। নারী, শিশু এবং বয়স্কদেরও এই সহিংসতার শিকার হতে হয়েছে। বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ, স্থল অভিযান এবং বিভিন্ন ধরনের সহিংস ঘটনায় বহু মানুষের জীবন থেমে গেছে।

বাস্তুচ্যুত মানুষের কঠিন সংগ্রাম

দীর্ঘ সংঘাতের কারণে লাখো মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়, কেউ জঙ্গলে, আবার কেউ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা ধর্মীয় উপাসনালয়ে।

Leave or die': Myanmar refugees recount how they fled the junta - France 24

বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় একটি অংশ নিয়মিত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে ভুগছে। অনেক শিশু বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। বহু পরিবার বছরের পর বছর ধরে অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে, যেখানে ন্যূনতম জীবনযাপনের সুযোগও সীমিত।

শিশু ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশু ও তরুণদের ওপর। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অসংখ্য শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ রয়েছে।

একই সঙ্গে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রতিদিন সহিংসতা, ভয় এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রভাব আগামী বহু বছর ধরে দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নেতিবাচক ছাপ ফেলতে পারে।

অর্থনীতি ও জনজীবনে গভীর প্রভাব

গৃহযুদ্ধ শুধু প্রাণহানিই বাড়ায়নি, দেশের অর্থনীতিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি উৎপাদন, পরিবহন ও স্থানীয় বাজারব্যবস্থা অনেক এলাকায় স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিনিয়োগ কমেছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হয়েছে।

AFP via Getty Images) Women weep in front bodies not pictured in the frame during a funeral for the victims of a bombardment carried out by Myanmar's military in Mrauk U, Myanmar's Rakhine State on August 26, 2025.

অনেক পরিবার তাদের আয়ের প্রধান উৎস হারিয়েছে। ফলে দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও গভীর হয়েছে। বিশেষ করে সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

শান্তির পথ এখনো অনিশ্চিত

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বাহিনী, গণতন্ত্রপন্থী প্রতিরোধ গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। একাধিক এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো থামেনি।

দীর্ঘ এই সংঘাতের দ্রুত অবসানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আশা বারবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সহিংসতার অবসান, রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মিয়ানমারের মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। আর সেই সংকটের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে দেশটির সাধারণ মানুষকেই, যারা প্রতিদিন যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতার মধ্যে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সব এফআইআর বাতিল সুপ্রিম কোর্টের

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে মৃত্যু এক লাখের বেশি, স্বজন হারানোর বেদনায় বিধ্বস্ত একটি জাতি

০১:০৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা এক লাখ অতিক্রম করেছে বলে বিভিন্ন মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও যুদ্ধক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহের সীমাবদ্ধতার কারণে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন, তবুও সংঘাতের ব্যাপ্তি, নিহত মানুষের সংখ্যা এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর অবস্থা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে মিয়ানমার এক গভীর জাতীয় বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিদিনই দেশটির কোথাও না কোথাও নতুন করে সংঘর্ষ, বিমান হামলা কিংবা গোলাবর্ষণের খবর আসছে। এর সঙ্গে বাড়ছে স্বজন হারানো পরিবারের দীর্ঘশ্বাস, বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের অনিশ্চয়তা। যুদ্ধ এখন শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক লড়াই নয়, এটি লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নির্মম বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

শোকে ডুবে আছে হাজারো পরিবার

What’s happening in Myanmar’s civil war as military stages elections?

মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে নিহত স্বজনদের স্মরণে এখনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন অসংখ্য মানুষ। পরিবারগুলো নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার বিতরণ, দান কিংবা প্রার্থনার মাধ্যমে প্রিয়জনদের স্মরণ করছে। যুদ্ধের কারণে যাদের সন্তান, ভাই, বোন বা বাবা-মা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের অনেকেই এখনো সেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

অনেক পরিবারের মতে, এই সংঘাত একটি পুরো প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে প্রাণহানির হার বেশি হওয়ায় অনেক গ্রাম ও শহরে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে পরিবারগুলো শুধু প্রিয়জনই হারায়নি, হারিয়েছে তাদের ভবিষ্যতের ভরসাও।

এক লাখের বেশি প্রাণহানি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, গৃহযুদ্ধে নিহত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অনেক এলাকায় স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংঘর্ষে শুধু যোদ্ধারাই নয়, বহু সাধারণ মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন। নারী, শিশু এবং বয়স্কদেরও এই সহিংসতার শিকার হতে হয়েছে। বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ, স্থল অভিযান এবং বিভিন্ন ধরনের সহিংস ঘটনায় বহু মানুষের জীবন থেমে গেছে।

বাস্তুচ্যুত মানুষের কঠিন সংগ্রাম

দীর্ঘ সংঘাতের কারণে লাখো মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়, কেউ জঙ্গলে, আবার কেউ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা ধর্মীয় উপাসনালয়ে।

Leave or die': Myanmar refugees recount how they fled the junta - France 24

বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় একটি অংশ নিয়মিত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে ভুগছে। অনেক শিশু বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। বহু পরিবার বছরের পর বছর ধরে অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে, যেখানে ন্যূনতম জীবনযাপনের সুযোগও সীমিত।

শিশু ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশু ও তরুণদের ওপর। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অসংখ্য শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ রয়েছে।

একই সঙ্গে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রতিদিন সহিংসতা, ভয় এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রভাব আগামী বহু বছর ধরে দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নেতিবাচক ছাপ ফেলতে পারে।

অর্থনীতি ও জনজীবনে গভীর প্রভাব

গৃহযুদ্ধ শুধু প্রাণহানিই বাড়ায়নি, দেশের অর্থনীতিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি উৎপাদন, পরিবহন ও স্থানীয় বাজারব্যবস্থা অনেক এলাকায় স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিনিয়োগ কমেছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হয়েছে।

AFP via Getty Images) Women weep in front bodies not pictured in the frame during a funeral for the victims of a bombardment carried out by Myanmar's military in Mrauk U, Myanmar's Rakhine State on August 26, 2025.

অনেক পরিবার তাদের আয়ের প্রধান উৎস হারিয়েছে। ফলে দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও গভীর হয়েছে। বিশেষ করে সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

শান্তির পথ এখনো অনিশ্চিত

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বাহিনী, গণতন্ত্রপন্থী প্রতিরোধ গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। একাধিক এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো থামেনি।

দীর্ঘ এই সংঘাতের দ্রুত অবসানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আশা বারবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সহিংসতার অবসান, রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মিয়ানমারের মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। আর সেই সংকটের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে দেশটির সাধারণ মানুষকেই, যারা প্রতিদিন যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতার মধ্যে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।