ফরাসি প্রেসিডেন্টের সিরিয়া সফরের মধ্যেই রাজধানী দামেস্কে জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন আহত হলেও সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এবং সিরিয়ার পুনর্গঠনে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
হোটেলের কাছে জোড়া বিস্ফোরণ
দামেস্কের একটি ব্যস্ত এলাকায়, যেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট রাতযাপন করেছিলেন বলে জানা গেছে, সেখানে মঙ্গলবার পরপর দুটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথম বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগেই তার বহর ওই এলাকা ছেড়ে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের উদ্দেশে রওনা দেয়। এরপর দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া মানুষের কাছাকাছি ঘটে, ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত ১৮ জন আহত হন।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিস্ফোরকগুলো শনাক্ত করে নিষ্ক্রিয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু সেই সময়ই সেগুলো বিস্ফোরিত হয়। একটি বোমা সড়কের পাশে রাখা একটি গাড়িতে এবং অন্যটি একটি ময়লার পাত্রে রাখা ছিল।
সফর অব্যাহত রাখলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট
বিস্ফোরণের পরও সফর বাতিল করা হয়নি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকলেও তা মোকাবিলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, কিছু গোষ্ঠী সিরিয়াকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পূর্ণভাবে ফিরে আসতে বাধা দিতে চায়।
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো নিয়ে দুই দেশ আলোচনা করছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রয়োজন হলে বিশেষ সহযোগিতার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তার প্রতিশ্রুতি
সফরে ফরাসি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অংশ নেন। বৈঠকে সিরিয়ার অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সহযোগিতা উদ্যোগও এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে দামেস্ক বিমানবন্দরে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অতীতে জব্দ হওয়া প্রায় ৫ কোটি ১০ লাখ ইউরোর সম্পদ সিরিয়ার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ও রয়েছে।

জ্বালানি খাতেও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে স্থলভাগে বড় আকারের কার্যক্রম শুরু করার পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
হামলার তদন্ত চলছে
এ পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের শনাক্তে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা সিরিয়ার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ তাৎক্ষণিকভাবে দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা নেই।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী দামেস্কে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। গত সপ্তাহেও একটি ক্যাফেতে বোমা হামলায় কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন।
সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব দীর্ঘ সংঘাতের পর একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করেছে। তবে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো দেশটির স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশ শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।
দামেস্কে বিস্ফোরণের মধ্যেও ফরাসি প্রেসিডেন্টের সফর অব্যাহত থাকায় স্পষ্ট হয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি সত্ত্বেও সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং দেশটির পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















