যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলা এবং ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে আবারও দাম বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যে মূল্যপতনের মাধ্যমে তেলের দাম সংঘাত শুরুর আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছিল, নতুন পরিস্থিতিতে সেই ধারা থেমে গেছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্ববাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অপরিশোধিত তেলের দাম এক পর্যায়ে প্রায় তিন শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ ডলারের বেশি হয়েছে। এটি গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।
সামরিক পদক্ষেপে বাড়ল উদ্বেগ
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি ইরানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে আগে দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুবিধাও বাতিল করেছে। এর আগে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব দিতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান এসব হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। এই জলপথ আন্তর্জাতিক নৌপথ নাকি আংশিকভাবে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে পড়ে—এ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো ভিন্ন।
ইরান জানিয়েছে, নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত বাতিল করা দুই দেশের পূর্ববর্তী সমঝোতার পরিপন্থী।
বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হবে নাকি আরও দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনায় রূপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক থাকবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

এই অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে তেলের দাম স্বল্পমেয়াদে উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনাও বেড়েছে।
নিষেধাজ্ঞায় নতুন কড়াকড়ি
যুক্তরাষ্ট্র নতুন নির্দেশনায় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর ইরানি তেল সংক্রান্ত সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন করে তেল কেনা বা জাহাজে তেল তোলার অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে।
জ্বালানি বাজারের পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নিরাপত্তা ঝুঁকি অব্যাহত থাকলে এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও চাপে পড়তে পারে। এতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নতুন প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















